রবিবার ১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

অর্থনীতিতে চরম স্থবিরতা

বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
91 ভিউ
অর্থনীতিতে চরম স্থবিরতা

কক্সবাংলা ডটকম :: চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থ ব্যয় হয়েছে মাত্র পাঁচ শতাংশ; বিদেশি বিনিয়োগে স্থবিরতা, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, এলসি নেই, নতুন করে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে না, শ্রমিক অসন্তোষসহ পরিবেশ না থাকায় ছোট-বড় শত শত শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

আরো কিছু বন্ধের পথে। অনেক কারখানায় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। নেই উৎপাদন, বেকার হয়েছেন লাখো শ্রমিক। অর্থনীতি হারিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভঙ্গুর দশা, নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিস্থিতি। আসছে না নতুন বিনিয়োগ। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে হাহাকার। চাপে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তারতম্য দেখা গেছে চাহিদা ও ভোগে।

ফলে গতি হারিয়েছে অর্থনীতি। যার প্রভাব পড়েছে দেশের রাজস্ব আয়েও। এবার ঠিকমতো কর দিতে পারছেন না করদাতারা।

যাঁরা এবার বাধ্যতামূলক আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন, তাঁদের শতকরা ৮৮ ভাগই দিয়েছেন ‘শূন্য কর’। মানে এরা কোনো কর দিতে পারেননি।

একই সঙ্গে কাক্সিক্ষত রাজস্ব আয় না হওয়ায় চলতি বছরের জাতীয় বাজেটের আকারও কমানো হচ্ছে।

এছাড়া চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্ট থেকে টানা তিন মাস রফতানি কমেছে। সর্বশেষ অক্টোবর মাসে দেশের রফতানি আয় কমেছে সাত শতাংশ।

প্রধান পণ্য তৈরি পোশাকে কমার হার আরো বেশি। আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্রেতাদের অর্ডারও কমছে।

এতে অক্টোবরে রফতানি আদেশ কমেছে আগের মাসের চেয়ে ২০ শতাংশ। এমনকি ব্যবসার জন্য ব্যাংক থেকে ‘নতুন ঋণ’ চাহিদাও নেই।

অধিকাংশ ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাব দীর্ঘদিন থেকে ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে।

ব্যাংকগুলো নিয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের অমূলক বক্তব্যে বিপাকে আছে এক ডজন ব্যাংক। মার্জারের নাম করে পাঁচ দুর্বল ব্যাংককে আরো দুর্বল করা হয়েছে।

ব্যাংকিংখাতে অস্থিরতা তৈরি করে রাখা হয়েছে। ব্যাংকখাতের পাশাপাশি অর্থনীতির প্রাণ শেয়ারবাজারেও সূচক ও লেনদেন তলানিতে ঠেকেছে।

বুধবারের লেনদেনও ছিল গত পাঁচ মাসে সর্বনিম্ন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এছাড়া আর্থিকখাতের দৈন্যদশার কারণে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ী নেতারা।

তাঁরা বলেছেন, বাংলাদেশকে উত্তরণের পথে স্থিতিশীল রাখতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরেই নীতিসহায়তা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকল সমস্যার সমাধান দ্রুত জাতীয় নির্বাচন।

নির্বাচন সম্পন্ন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসন করা। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে উৎসাহ ও অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোয় গুরুত্বারোপ করেন।

অবশ্য বর্তমান সঙ্কটের জন্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিসহ বেশ কয়েকটি বাধার কথা বলছেন।

বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, নির্বাচন দিয়ে অর্থনীতি ও উদ্যোক্তাদের মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের যে প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে, তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ব্যবসা পরিবেশ উন্নতি কাক্সিক্ষত পর্যায়ে হয়নি।

নির্বাচিত সরকার ছাড়া ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি হবে না, অর্থনীতিতেও গতি ফিরবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর মুহাম্মদ সাহাদাত সিদ্দিকী বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়বে কিনা, সে বিষয়টি আগামী ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্তভাবে জানা যাবে।

তিনি বলেন, এক বছরের বেশি সময় পার হলেও অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা আসেনি। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি এখনও অনেক বেশি, যা অর্থনীতির দুর্বলতা প্রকাশ করে।

বর্তমানে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ সীমিত, যা ১৮ বছর পিছনের দিকে চলে যাচ্ছে। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না এবং সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বেকারত্ব বাড়ছে।

লুটপাট-অর্থপাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে স্বৈরাচার হাসিনার ভারতে পলায়ন করে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মকা-ে অনেকটা স্থবিরতা নেমে এসেছে।

অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী ও বিনিয়োগে মন্দার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এ থেকে উত্তোরণে কার্যকর কোন পদক্ষেপ না থাকায় দেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অতিদারিদ্র্য ও বেকারত্ব বাড়ায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সংকট আরো বেড়েছে। যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অন্তরায়।

যদিও চলতি অর্থবছরকে প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিবর্তে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বছর হিসেবে ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত এক বছরে দেশের অর্থনীতি আরো সংকুচিত হয়েছে।

এছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে অন্তত এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং জাতিসংঘের শিশু তহবিল ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।

এবার এই তিন সংস্থার সঙ্গে একমত পোষণ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি বলেছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের গতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে হলে দারিদ্র্য কমাতে হবে।

এজন্য প্রয়োজন ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ। একই সঙ্গে সরকারকে অভ্যন্তরীণভাবে খাদ্যনিরাপত্তা বাড়ানোর পরমার্শ দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য সম্প্রতি দেশের খাদ্য মজুদ পরিস্থিতি নাজুক পর্যায়ে নেমে গেছে। ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে খাদ্যপণ্যের মজুদের পরিমাণ নেমেছে ১৩ লাখ ৬৯ হাজার টনে। ঢাকায় সফররত আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে।

গত সপ্তাহেই অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান, বেকারত্ব, খেলাপি ঋণ, দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি ও খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ।

এ ছাড়া বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরো জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থা।

এদিকে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার জরিপ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত চার বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার ২৮ শতাংশ উঠেছে। প্রতি বছর তিন শতাংশের বেশি মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিবিএসের প্রতিবেদন বলছে, মূল্যস্ফীতির চাপ কোনোভাবেই কমাতে পারছে না সরকার। চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী। যার ফলে অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতির গড় খুবই বিপজ্জনক সীমায় বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আইএমএফ।

এছাড়া সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি পাঁচ দশমিক পাঁচ শতাংশ অর্জিত হবে। আর মূল্যস্ফীতি ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশে আটকে রাখার টার্গেট করা হয়েছে। এর দুটোকেই অসম্ভব হিসেবে আখ্যা দিয়েছে আইএমএফ।

সংস্থাটি বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে চার দশমিক নয় শতাংশে। যদিও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিন দশমিক আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

সংস্থাটি আরো বলছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সংকুচিত হওয়ার জন্য দায়ী দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি, অধিক বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের সংকট এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি।

এজন্য অতিদারিদ্র্য থেকে মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। একই সঙ্গে উৎপাদন ও আমদানি বাড়িয়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।

পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র তথ্য বলছে, গত ১৪ মাসে সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে মোট ৩৫৩টি কারখানা বন্ধ হয়েছে।

ফলে বেকার হয়ে গেছেন এক লাখ ১৯ হাজার ৮৪২ জন শ্রমিক। পোশাক খাত ছাড়াও বিগত সময়ে আরো অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কর্মহীন হয়েছেন অনেক মানুষ। তাঁদের মধ্যে কর্মকর্তা পর্যায়ের অনেকেরই ছিল করযোগ্য আয়।

ফলে যে ব্যক্তি আগে কর দিতেন, এখন তিনিই শূন্য কর দিচ্ছেন। অবশ্য শুধু যে করখানার কর্মকর্তারাই চাকরি হারানোর কারণে কর দিতে পারছেন না তা নয়; ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দার কারণেও অনেক করদাতার আয় কমে গেছে বলে জানা যায়। ফলে তাঁরাও কাঙ্খিত কর দিতে পারছেন না।

এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাক্সিক্ষত রাজস্ব আয় না হওয়ায় আগে-ভাগেই বাজেটের ওপর কাঁচি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এজন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা কমানো হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দারিদ্র্য হলো যে কোনো দেশের জন্য খুবই ভয়ানক অভিশাপ। আমরা অতীতে ওই অবস্থা থেকে কিছুটা উন্নতি করলেও বর্তমানে আবারও দারিদ্র্য বেড়েছে। এজন্য আমাদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন এই অর্থনীতিবিদ।

এদিকে আগামীতে অর্থনৈতিক কর্মকা-কে এগিয়ে নিতে ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে দুটি ঝুঁকি শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এগুলো হচ্ছে-আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট এবং এর প্রভাব হিসাবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা।

আর এ ধরনের পরিস্থিতি সামনে আসলে বাড়তি জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে চলমান অর্থনৈতিক কর্মকা- বাধাগ্রস্ত হতে পারে। যদিও এরকম শঙ্কায় ইতোমধ্যে দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা মন্থর অবস্থা দেখা দিয়েছে।

গত রোববার প্রকাশিত দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি প্রতিবেদনেও অর্থনীতিতে ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে- আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্ট রাজনৈতিক ঘটনাবলি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা।

যা আগামীতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের গতি স্তিমিত করে দিতে পারে। এতে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে কিছুটা মন্থরতা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রবৃদ্ধির হার গত অর্থবছরের মাঝামাঝি দুই প্রান্তিকের তুলনায় শেষ প্রান্তিকে কমেছে। গত অর্থবছরের জুলাই সেপ্টেম্বর প্রবৃদ্ধির হার ছিল একেবারে নিম্নে, অর্থাৎ তিন শতাংশের ঘরে।

অক্টোবর ডিসেম্বরে তা কিছুটা বেড়ে চার শতাংশের ঘরে উঠে আসে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির গতি আরো বেড়ে প্রায় পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। গত এপ্রিল জুন প্রান্তিকে তা আবার কমে তিন দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে যায়।

অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের স্থবিরতার কারণে প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। সেবা ও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস পাওয়ার কারণে এই মন্থরতা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া শেয়ারবাজারের অস্থিরতার ক্ষেত্রে বাজারের নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার খামখেয়ালি ও একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণই বর্তমান অস্থিরতার মূল কারণ।

তারা মনে করেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বারবার একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করছে-যার ফলে বাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

এছাড়া রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ, ব্যাংকিং খাতের অনিশ্চয়তা এবং কর্পোরেট আয়ের নিম্নগতি-এসব মিলেই বাজারকে দুর্বল করে তুলেছে। তাই বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ-যেখানে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, যত দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হবে, তত দ্রুত দেশের অর্থনৈতিক গতি ফিরে আসবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের শিল্পে তেমন বৈচিত্র্য নেই।

একই সঙ্গে কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা আছে-এসব কিছু দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি। তাই দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসন করা দরকার।

91 ভিউ

Posted ১১:২০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

SunMonTueWedThuFriSat
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031 

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : Shaheed sharanee road, cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
বাংলাদেশের সকল পত্রিকা সাইট
Bangla Newspaper

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com