
কক্সবাংলা ডটকম :: অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের একটি সর্বজনীন সমস্যা হলো দ্রুত ফোনের ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে যাওয়া। অনেকে এজন্য অ্যাপ, সফটওয়্যার আপডেট বা ব্যাটারির পুরনো হয়ে যাওয়াকে দায়ী করেন।
তবে আসল সমস্যা অনেক সময় ছোট ছোট অভ্যাসে লুকিয়ে থাকে, যেগুলো অবচেতনেই ব্যাটারির স্থায়িত্ব দ্রুত কমিয়ে দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু সহজ সেটিংস বদলানো এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড কাজ কমালেই প্রতিদিন অতিরিক্ত কয়েক ঘণ্টা ব্যাটারি সাশ্রয় করা সম্ভব। এখানে এমন ছয়টি ব্যাটারি সাশ্রয়ী অভ্যাস তুলে ধরা হলো—
স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কম ও স্থির রাখা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্মার্টফোনে ব্যাটারি খরচের সবচেয়ে বড় কারণ হলো ডিসপ্লে। অনেক ব্যবহারকারী প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ব্রাইটনেস বাড়িয়ে রাখেন এবং তা কমাতে ভুলে যান।
এর ফলে সারা দিন অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যাটারি খরচ হয়।
অ্যাডাপটিভ ব্রাইটনেস চালু করলে সুবিধা পাওয়া যায়, তবে ব্যবহারকারী যদি বারবার ব্রাইটনেস বাড়ান, ফোনও সেটিকে নতুন অভ্যাস হিসেবে ধরে নেয়। তাই স্ক্রিনকে কম উজ্জ্বলতায় রাখাই ভালো। প্রয়োজন হলে সামান্য বাড়ানো যায়।
পুরো সিস্টেমে ডার্ক মোড ব্যবহার
ওএলইডি বা অ্যামোলেড ডিসপ্লেযুক্ত ফোনে ডার্ক মোড ব্যাটারি বাঁচাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। স্ক্রিনে কালো অংশ দেখালে পিক্সেলগুলো নিভে থাকে, ফলে শক্তি কম খরচ হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডার্ক মোড সিস্টেম-ওয়াইড চালু করলে এবং অ্যাপগুলোকে একই থিম অনুসরণ করতে দিলে সারা দিনে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হয়। কম আলোতেও এটি চোখের জন্য আরামদায়ক, ফলে ব্রাইটনেস বাড়ানোর প্রয়োজন কমে যায়।
স্ক্রিন টাইমআউট কমিয়ে আনা
অনেকেই ফোন নামিয়ে রাখলেও স্ক্রিন লক করেন না, এতে স্ক্রিন অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বলে থাকে। এটি ব্যাটারি ক্ষয়ের একটি বড় কারণ। এমইউও পরামর্শ দিয়েছে, স্ক্রিন টাইমআউট ১৫ বা ৩০ সেকেন্ডে কমিয়ে আনার। পড়ার সময় যাতে স্ক্রিন বন্ধ না হয়ে যায়, সেজন্য ‘Keep screen on while viewing’ ফিচার ব্যবহার করা যেতে পারে।
কিবোর্ডের শব্দ ও ভাইব্রেশন বন্ধ করা
টাইপ করার সময় কিবোর্ডের প্রতিটি ক্লিক বা ভাইব্রেশন ব্যাটারি খরচ করে। যারা বেশি টাইপ করেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি বড় প্রভাব ফেলে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিবোর্ডের শব্দ ও হ্যাপটিক ফিডব্যাক বন্ধ করলে ব্যাটারি সাশ্রয় হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যবহারকারীরা এ পরিবর্তনে অভ্যস্ত হয়ে যান।
অপ্রয়োজনীয় উইজেট কমিয়ে ফেলা
উইজেট নিয়মিত রিফ্রেশ হয়ে নতুন তথ্য দেখায়, ফলে ব্যাকগ্রাউন্ডে আরো শক্তি খরচ হয়। কয়েকটি দরকারি উইজেট সমস্যা না করলেও খুব বেশি উইজেট ফোনের ব্যাটারি কমিয়ে দেয়। তাই নিয়মিত ব্যবহার না করা উইজেট সরিয়ে ফেলাই ভালো।
প্রয়োজন না হলে ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ও লোকেশন বন্ধ রাখা
এসব ফিচার সবসময় নেটওয়ার্ক, ডিভাইস বা অবস্থান শনাক্ত করতে স্ক্যান করে। ফলে এগুলো ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ ফেলে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রয়োজন না হলে কুইক সেটিংস থেকে এসব ফিচার বন্ধ রাখা উচিত। বিশেষ করে লোকেশন সার্ভিস অনেক ব্যাটারি খরচ করে, কারণ অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডেও এটি ব্যবহার করে। মেকইউজঅব অবলম্বনে

Posted ৯:০২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta