শনিবার ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

পেঁয়াজ বিক্রি করে ১ মাসেই ক্রেতার দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাট

শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩
54 ভিউ
পেঁয়াজ বিক্রি করে ১ মাসেই ক্রেতার দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাট

কক্সবাংলা ডটকম :: বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহে কোনো কমতি নেই। দেশেও বাম্পার ফলন হয়েছে এবার। তার পরও টালমাটাল পেঁয়াজের বাজার। মাস দেড়েকের মধ্যে হঠাৎ করেই ৩০ টাকা কেজির পেঁয়াজ ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিলে কিছুটা কমে এখন দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকায় এবং ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। অথচ ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি মূল্য পড়ছে ১২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৯ টাকা।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা এখন প্রতি কেজি পেঁয়াজে ৫০ টাকারও বেশি বাড়তি মুনাফা করছে।

গত ১ মাস ধরেই তারা বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে ক্রেতার পকেট ফাঁকা করছে। এভাবে গত ১ মাসে সারা দেশের বাজার থেকে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। এমনটিই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তাদের যুক্তি, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ৩৬ লাখ টন। সে হিসাবে ১ মাসে পেঁয়াজের চাহিদা ৩ লাখ টন বা ৩০ কোটি কেজি। কেজিতে ৫০ টাকা বাড়তি মুনাফা নেওয়া হলে ১ মাসে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা লোপাট করেছে দেড় হাজার কোটি টাকা।

এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, দেশের বাজারে এখন পেঁয়াজের কোনো সংকটই নেই। আসলে বাজারে সব ধরনের পণ্যের দামই আকাশচুম্বী। সেখানে পেঁয়াজের দামটিই ক্রেতার নাগালের মধ্যে ছিল। ৩০ টাকায় ১ কেজি পেঁয়াজ মিলেছে।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা দেখল, সবাই যখন সবকিছুর দাম বাড়িয়েছে অস্বাভাবিক, সেখানে আমরা বসে থাকব কেন। সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে ক্রেতার পকেট খালি করা যায় যতটা। আমার মনে হয়, সে চিন্তা থেকেই পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা হুট করেই পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে এভাবে লুটপাট করেছে, এ ছাড়া আর কোনো কারণ নেই।

তিনি আরও বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা একেকবার একেক পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেশের মানুষকে বিপদে ফেলছে, লুটপাট করছে। অথচ দেখার যেন কেউ নেই। এখানে সরকারের বা সরকারি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তরিকতার ঘাটতি আছে।

সরকারের চেয়ে তো আর কেউ বেশি শক্তিশালী নেই। সরকার চাইলেই এই বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেশের মানুষকে স্বস্তি দিতে পারে। কারণ সরকার এর চেয়েও অনেক বড় বড় বিষয় বেশ ভালোভাবেই সামলেছে। তা হলে বাজার সিন্ডিকেট কেন ভাঙতে পারবে না। সদিচ্ছা থাকলে অবশ্যই সম্ভব।

২৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা না ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি :

দামের লাগাম টানতে সরকার গত ৫ জুন থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়। আমদানির খবরেই পাইকারি বাজারে কেজিতে দাম কমে যায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা। খুচরা বাজারেও কেজিতে ২০ টাকা করে কমলেও এখনও পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে চড়া দামেই।

বিশেষ করে ভারত থেকে যে পেঁয়াজের শুল্কসহ আমদানি মূল্য পড়ছে ১৯ টাকা, ভারতীয় সেই পেঁয়াজও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে। অথচ আমদানিকৃত পেঁয়াজ পাইকারিতে ২২ থেকে ২৩ টাকা এবং খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ মূল্য ২৫ থেকে ৩০ টাকার বেশি হওয়ার কথা না।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে যেসব পেঁয়াজ দেশে আসছে তার আমদানি মূল্য পড়ছে প্রতি কেজিতে ১৪ থেকে ১৭ টাকা। তাই পরিবহন খরচসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ করলেও এসব পেঁয়াজ ভোক্তার কাছে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ টাকার বেশি বিক্রি করার কথা না।

জানা গেছে, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতির পর যেসব পেঁয়াজ দেশে এসেছে তার মূল্য গড়ে প্রায় সাড়ে ১৫ টাকায়। আমদানি অনুমতি দেওয়ার পর প্রথম দিন ৩টি স্থলবন্দর-দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর, চাঁপাইনবাব গঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়।

৩ স্থলবন্দরের কাস্টমস স্টেশনের তথ্যে দেখা যায়, প্রতি চালানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ১৩ থেকে ১৬ সেন্টে।

ডলারের বিনিময়মূল্য ১০৮ টাকা ১৭ পয়সা ধরে মানভেদে আমদানি মূল্য দাঁড়ায় ১৪ থেকে ১৭ টাকা ৩০ পয়সা। গড়ে দাম পড়ে কেজিপ্রতি প্রায় সাড়ে ১৫ টাকা। প্রতি কেজিতে করভার গড়ে সাড়ে ৩ টাকা। এ হিসাবে শুল্ক-করসহ পেঁয়াজ আমদানিতে খরচ পড়ে প্রায় ১৯ টাকা। সুতরাং ১ কেজি আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের দাম এখন খুচরা বাজারে ২৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। অথচ এই দামে দেশের কোনো বাজারে মিলছে না ভারতীয় পেঁয়াজ।

গরম মসলার বাজার আর গরম :

কুরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে গরম মসলার বাজার ততই গরম হচ্ছে। আদার কেজি ৫০০ টাকায় ঠেকেছিল। সপ্তাহ দুয়েক আগে সেখান থেকে কমে ৩৫০ টাকায় নেমেছিল। তবে এখন আবার আদার দাম বেড়ে ৪০০ টাকায় ঠেকেছে। ঈদ আসতে আসতে আবারও ৫০০ টাকা কেজি হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কুরবানির ঈদে গরম মসলার চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। দেশে ৫ ধরনের গরম মসলা কেনাবেচা হয়। এগুলো হলো-এলাচ, জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ ও গোলমরিচ। এসব মসলা পুরোপুরিই আমদানিনির্ভর। গত জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে আমদানি কম হওয়ায় তখন দেশের বাজারে মসলার দাম বেড়ে গিয়েছিল অনেকখানি। এর পর গত ৩ মাসে দেশের বাজারে পর্যাপ্ত গরম মসলা আমদানি করা হয়।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, মে মাসে এবং জুন মাসের বিগত ১৫ দিনে দেশে যে হারে গরম মসলা আমদানি হয়েছে তা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। আর চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ২০ দিনে ৭০০ মেট্রিকটন এলাচ, ৩ হাজার ৬০ মেট্রিকটন দারুচিনি, ৬৬১ মেট্রিকটন জিরা, ৪৩৭ মেট্রিকটন লবঙ্গ, ৫২০ মেট্রিকটন গোলমরিচ, ৬৯ মেট্রিকটন জয়ত্রী, ১ হাজার ২১৩ টন মৌরি আমদানি হয়।

এ ছাড়া ৩৭ হাজার মেট্রিকটন রসুন, ৯ হাজার মেট্রিকটন আদা আমদানি হয়েছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ঈদ সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রচুর পরিমাণ মসলা আমদানি হয়েছে। তবে যে হারে আমদানি হয়েছে সে হারে দাম কমছে না মসলার।

বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অমর কান্তি দাশ বলেন, বিগত ২ মাসে দেশে পর্যাপ্ত গরম মসলা আমদানি হয়েছে। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে মসলার দাম কিছুটা কমেও এসেছে। বাজারে এখন মসলার কোনো সংকট নেই। তবে জিরা এবং গোলমরিচের দামটা বেশি বেড়েছে। জিরার দাম বাড়ার কারণ ভারতেই অনেক দাম বেশি। তার প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশে। তবু পাইকারি বাজারে গত ১ সপ্তাহে মসলার দাম কিছুটা কমেছে। খুচরা বাজারে সে অনুযায়ী দাম কমেনি এখন।

বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৭৭০ থেকে ৮৫০ টাকায়। বিভিন্ন হাত ঘুরে এই জিরা খুচরা পর্যায়ে ১ হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। দেশের অন্যতম প্রধান পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, ৩ মাস আগেও ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে জিরা, যা বর্তমান দামের চেয়ে প্রায় ৪৫০ টাকা কম।

একইভাবে কেজিতে ৪০০ টাকা বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি মাঝারি মানের এলাচ ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ভালো মানের এলাচের কেজি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। ৭০০ টাকা বেড়ে লবঙ্গ ১ হাজার ৫০০ টাকা, ১ হাজার টাকা বেড়ে জায়ফল ৩ হাজার টাকা, ২০০ টাকা বেড়ে মিষ্টি জিরা ৩১০ টাকা, ১৫০ টাকা বেড়ে গোলমরিচ ৬৭০ টাকা, ১৫০ টাকা বেড়ে জয়ত্রী ৭৫০ টাকা, ৭০ টাকা বেড়ে দারুচিনি ৩২০ টাকা, ৬০ টাকা বেড়ে ধনিয় ১৮০ টাকা, ৫০ টাকা বেড়ে সরিষা ১০৫ টাকা এবং ২০ টাকা বেড়ে তেজপাতা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়।

ভোজ্য তেলে চলছে ভেলকিবাজি :

এদিকে গত সপ্তাহে ঘটা করে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ ঘোষণা দেন দেশের বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা কমিয়ে ১৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হলো। মূলত গত ১১ জুন তিনি এ ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, সে দিন থেকেই এই নতুন দাম কর্যকর। এরপর পার হয়ে গেছে ৪ দিন, অথচ বাজারে এখনও কম দামের সয়াবিন তেল সরবরাহ করেনি কোম্পানিগুলো। এখনও বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই, অর্থাৎ ১৯৯ টাকা লিটারে। ফলে সয়াবিন তেলের দাম কমানো হলেও ভোক্তারা সুফল পাচ্ছে না।

54 ভিউ

Posted ১:৪৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
বাংলাদেশের সকল পত্রিকা সাইট
Bangla Newspaper

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com