রবিবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

মুদ্রাবাজারে ছাপানো টাকার পরিমাণ ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা

বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩
85 ভিউ
মুদ্রাবাজারে ছাপানো টাকার পরিমাণ ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা

কক্সবাংলা ডটকম :: স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রতীক যেকোনো দেশের নিজস্ব নোট। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে কাগজি মুদ্রার নাম টাকা। এর প্রচলন শুরু হয় ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ। যুগে যুগে এর ব্যাপ্তি অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে দেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে বাড়ছে মুদ্রা প্রবাহ।

তবে শঙ্কার বিষয় হলো বাজারে প্রবাহিত মুদ্রার বেশিরভাই মানুষের হাতে। ব্যাংকের ভল্টে অর্থের পরিমাণ কম হওয়ায় তারল্য সংকট দেখা দেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশের মুদ্রাবাজারে ছাপানো টাকার পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের মে মাসে এই মুদ্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ১৩ বছরে দেশের মুদ্রাবাজার বড় হয়েছে ৫ গুণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক  বলেন, দেশের অর্থনীতির আকার বাড়লে সেই অনুপাতে মুদ্রা প্রবাহ বাড়াতে হয়। এজন্য বাজারে মুদ্রা বেড়েছে। এটা সমস্যা নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক যদি মুদ্রা প্রবাহ অতিরিক্ত কমিয়ে দেয় তাহলে অর্থনীতির গ্রোথে সমস্যা তৈরি হবে। তবে অতিরিক্ত মুদ্রা প্রবাহ দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশের প্রচলিত মুদ্রার মধ্যে সরকারি নোট ও কয়েন ছিল ৫১৮ কোটি টাকার। চলতি বছরের মে মাসে সরকারি নোট ও কয়েন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১৩ বছরের ব্যবধানে সরকারি নোট ও কয়েন বেড়েছে ২৪৪ দশমিক ৪১ শতাংশ।

২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক নোট ছিল ৪৯ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা। চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১৩ বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়িয়েছে ৪৫৭ শতাংশ। এছাড়া ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাজারে প্রচলিত মোট টাকা ছিল ৫০ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ১৩ বছরে মুদ্রা বাজারে টাকা যুক্ত হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা বা ৪৫৫ শতাংশ।

তথ্য বলছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ দেশের নিজস্ব কাগুজে মুদ্রা চালু হয়। মানচিত্র খচিত প্রথম নোটটি ছিল এক টাকার। এক টাকার নোটটিতে অর্থ সচিব কে এ জামানের স্বাক্ষর ছিল। ১৯৭৩ সালে ৫, ১০ ও ১০০ টাকার নোট ইস্যু করে বাংলাদেশ। এরপর ৫০ ও ৫০০ টাকার নোটের প্রচলন করা হয় ১৯৭৬ সালে। ১৯৭৯ সালে ইস্যু করা হয় ২০ টাকার নোট। দেশে দুই টাকার নোট চালু হয় ১৯৮৮ সালে। ২০০৯ সালের ১৭ জুলাই বাজারে আনা হয় সবচেয়ে বেশি মানের ১০০০ টাকার ব্যাংকনোট। আর ২০২০ সালে সবশেষ বাজারে আসে ২০০ টাকার নোট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিদেবন বলছে, ব্যবহারের পদ্ধতিগত কারণে কাগুজে এসব নোটের স্থায়িত্ব কমছে। ছয় মাস না যেতেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে কাগুজে নোট। সে তুলনায় খরচ বেশি হলেও ধাতব কয়েনের স্থায়িত্বও অনেক বেশি। চাহিদা অনুযায়ী প্রতি বছর শুধু নতুন নোট ছাপাতে সরকারের খরচ হয় চার থেকে পাঁচশ কোটি টাকা।

মূলত, নষ্ট হয়ে যাওয়া টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষণ করার পর তা পুড়িয়ে ফেলা হয়। পুড়িয়ে ফেলা ব্যবহার অযোগ্য নোট ও বাজার সার্কুলেশন বা অর্থের প্রবাহের বিষয়টি দেখেই পরে নতুন নোট আনা হয়। অর্থাৎ, নতুন নোট ছাপানো হয়। এক্ষেত্রেও মার্কেট টুলস ব্যবহার করে পর্যালোচনা করে দেখা হয়, কী পরিমাণ নতুন টাকার দরকার পড়ে। সেভাবেই ছাপিয়ে বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে ছাড়া হয়।

এর মধ্যে প্রতিটি ১০০০ টাকার নোট ছাপাতে ৫ টাকা ও ৫০০ টাকার নোট ছাপানোয় খরচ পড়ে সাড়ে ৪ টাকা। এছাড়া ২০০ টাকার নোটে তিন টাকার কিছু বেশি, ১০০ টাকার নোটে ৪ টাকা, ১০, ২০, ৫০ টাকার সবগুলো নোটই দেড় টাকা খরচ পড়ে। আর ৫ টাকা, ২ টাকার নোট ছাপাতে খরচ পড়ে প্রায় দেড় টাকা।

বর্তমান বিশ্বে টাকা ছাপানোর কারখানা রয়েছে মোট ৬৫টি। বাংলাদেশের কারখানাটির নাম টাঁকশাল। টাঁকশালে টাকা ছাপানো শুরুর আগে অন্য দেশ থেকে ছাপানো হতো। এর মধ্যে রয়েছেÑ সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইংল্যান্ড। টাঁকশালের টাকা ছাপানোর ধাপগুলো খুবই গোপনীয়। সেখানে প্রায় ১২টি ধাপ পেরোতে হয় টাকা তৈরির জন্য। কারখানার অভ্যন্তরে সব কর্মচারীর মোবাইল ফোন কিংবা যে কোনো ধরনের ডিভাইস ব্যবহারও নিষিদ্ধ।

85 ভিউ

Posted ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
বাংলাদেশের সকল পত্রিকা সাইট
Bangla Newspaper

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com