কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা ঢুকে পড়েছে : জাতিসংঘ

20170110_135924.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১০ জানুয়ারী) :: কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের প্রেক্ষাপটে দেশটি থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে। সাম্প্রতিক এ অভিযান শুরুর পর থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজারর সীমান্ত এলাকায় অন্তত ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহেই এসেছে ২২ হাজার রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি বেশ নাজুক অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে এ তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘ প্রতিনিধিদল সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে তারা জানায়, রাখাইন রাজ্যের একটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার পর সংশ্লিষ্ট হামলাকারীদের খোঁজার নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অঞ্চলটিতে অভিযান পরিচালনা করছে। উত্তর রাখাইনে পরিচালিত এ অভিযান অত্যাচারের পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, যাকে অনায়াসে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এ অভিযানের তীব্রতা ভয়াবহ মাত্রা পেয়েছে। ফলে রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগের হারও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

তিন মাস আগে অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত দেশটি থেকে অন্তত ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারর সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত সোমবার সংস্থাটি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে এ অভিযান ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শুধু গত এক সপ্তাহেই দেশটি থেকে ২২ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থার সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় জানিয়েছে, ৫ জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কক্সবাজার এলাকার নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পে ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া এসব রোহিঙ্গার কাছ থেকে রাখাইনে চলমান মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিচালিত অভিযানের ভয়াবহতা সম্পর্কে নানা তথ্য জানা যাচ্ছে। সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চলছে এক ধ্বংসযজ্ঞ। জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে বাড়িঘর, রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ আর নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে।20170110_140129

এদিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীতে নতুন গড়ে উঠা রোহিঙ্গা বস্তির লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইনের মংডুতে সেনা নির্যাতনের এ দুরবস্থার মধ্যে বাংলাদেশে এ ধরনের নগদ লিল্লাহ পাওয়ার আশায়ও অনেকে চলে আসছে। বর্তমানে আরাকানে রোহিঙ্গাদের খুবই দৈন্যদশায় দিন কাটাতে হচ্ছে। তাই আর্থিক কষ্ট ও খাদ্য সংকট লাঘবে তারা বাংলাদেশে চলে আসছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের অধিকাংশের পরিবারের একাংশ মিয়ানমারে নিজ গ্রামে থেকে গেছে।মিয়ানমারের রাখাইনের বিভিন্ন রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় সম্প্রতি বিচ্ছিণ্ন কিছু ঘটনা ছাড়া মোটামুটি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে মিয়ানমার থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী সহ অনেক গ্রামবাসী জানান মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর জুলুম নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে কিছু কিছু এলাকায়। কিন্তু ইদানিং পুরো আরাকান থেকে যে ভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে তা খুবই উদ্বেগ জনক। নির্যাতনের অজুহাত তুলে এরা বাংলাদেশে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতার আশায় আসছে।

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু সিদ্দিক জানান, কুতুপালংএ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের আনাগোনা অনেকটা কমেছে। তবে বালুখালীতে নতুন গড়ে উঠা রোহিঙ্গা বস্তি চাঙ্গা করতে সীমান্ত এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোক দালালের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো থেকে ব্যাপক হারে রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে। বিগত ২দিনে সেখানে ১৭৫ পরিবারের প্রায় হাজার খানেক রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলে তিনি জানান।

বালুখালীর নতুন রোহিঙ্গা বস্তির মাঝি খলিলুর রহমানসহ কয়েকজন জানালেন, এখানে আসার পর থেকে প্রতিদিন স্থানীয় জনৈক ২/৩জন প্রভাবশালীর নেতৃত্বে চাল, ডাল, তেল, শীতের কম্বল ও অন্যান্য সাহায্য সহযোগিতা পেয়ে আসছি।

কুতুপালং শরনার্থী ও সংলগ্ন বস্তিতে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের নজরদারির দায়িত্বে নিয়োজিত একাধিক নির্ভরযোগ্য সংস্থার মতে, নির্যাতনের অজুহাতে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের নিয়ে আরএসও, এআরআইএফ, এআরএনওসহ বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের সাথে আন্তঃ সংযোগকারী বাংলাদেশী কিছু উগ্র সংগঠনও রয়েছে বলে জানা গেছে।

পূর্ব থেকে কুতুপালং এ অবস্থানকারী আরএসওর সাবেক সামরিক ট্রেইনার ডাক্তার জয়নাল প্রকাশ ফায়সাল আনোয়ার, মৌলভী আবদুস সালাম, ডাক্তার লালু, হাফেজ নাইম, হাফেজ জালাল আহমদসহ রোহিঙ্গা বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিভিন্নভাবে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দুর্দশার চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে বিভিন্ন এনজিও, আইএনজিও এর মাধ্যমে নগদ অর্থ, ত্রাণ সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা করছে। এতে মিয়ানমার থেকে আরো ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটানোর ষড়যন্ত্র করছে তারা।

20170110_140104

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top
error: কপি করা নিষেধ!!