পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ বসতির মহোৎসব : নিরব বনবিভাগ

p10p.jpg

মো: ফারুক,পেকুয়া(১০ জানুয়ারী) :: কক্সবাজারের পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতর অবৈধভাবে গড়ে ওঠছে অহরহ বসতি। পেকুয়া উপজেলা, কুতুবদিয়া আর বাঁশখালীর লোকজন এ নিত্যনতুন বসতি গড়ে তুললেও সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ দেখেও না দেখার ভান করে আছে। মাঝে মধ্যে বনবিভাগ অভিযানে গেলেও জনবল সংকঠের কারণ দেখিয়ে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সাথে আতাঁত করে চলে আসে।

যার কারণে পাহাড়ে অবৈধ বসতি স্থাপন এখন নিয়মিত। যার প্রভাবে ইতিমধ্যে জলবায়ুর মারাত্মক প্রভাবসহ পেকুয়াবাসী ভয়াবহ বন্যার করুণ পরিণতি ভোগ করেছে। ক্ষতির সম্মোখিন হয়েছে কোটি কোটি টাকার। সামনের দিনগুলোতে এভাবে বসতি স্থাপন অব্যাহত থাকলে আরো বেশি করুণ অবস্থার সম্মোখিন হওয়ার আশংকা করছে পরিবেশবাদীরা।

গতকাল সরোজমিন টইটং, বারবাকিয়া ও শীলখালীর বিভিন্ন পাহাড় পরিদর্শনে এ করুণ চিত্র দেখা গেছে। সুনাইছড়ি বনাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে, সরকার প্রদত্ত ২০০৬ সালের বাফার সামাজিক বনায়ন এর রোপিত গাছতো উজাট হয়েছে পাশাপাশি একটি সিন্ডিকেট পুরো এলাকায় ছোট ছোট বসতি স্থাপন করে পুরো পাহাড় দখল করে রেখেছে। অথচ সরকার এখনো সামাজিক বনায়ন এর মেয়াদ পূর্তি হলেও অনুষ্টানও করতে পারেনি। এছাড়াও এ সংরক্ষিত বনবিভাগের ভিতর রয়েছে ৪/৫টি বালির মহাল। যার বেশ কয়েকটিতে বালি উত্তোলনের কোন ধরণের অনুমতি নাই। এমনকি বালি পরিবহনের জন্য পাহাড় সাবাড় করে প্রভাবশালীরা রাস্তাও তৈরি করেছে।

বারবাকিয়ার পাহাড়িয়াখালীতেই রয়েছে বন বিভাগের কর্মকর্তার কার্যালয়। তার কার্যালয়ের আশেপাশেও রয়েছে অহরহ অবৈধ বসতি। এ সময় দেখা হয় বারবাকিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তা তাওহীদুল ইসলামের সাথে।

সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অহরহ বসতি কেন স্থাপন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই বনবিভাগে জনবল অনেক সংকঠ রয়েছে। যার কারণে প্রভাবশালীরা বসতি স্থাপন করলেও তাদের করার কিছুই থাকেনা। এমনকি মাঝে মধ্যে তাদের কার্যালয়ে এসেও প্রভাবশালীরা হুমকি দিয়ে যায়। টইটংয়ে বসতি স্থাপনে তার সংশ্লিষ্টতা আছে এ রকম স্থানীয়দের অভিযোগের মন্তব্যে তিনি জানান, এ সব তার বিরুদ্ধে অন্যায় অভিযোগ। তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা দ্রুত সব অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করবেন বলে জানান।

জানা গেছে, দক্ষিণ বনবিভাগের এসিএফ এর সাথে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী একটি চক্রের যোগাযোগ রয়েছে। মাঝে মাঝে তিনি সংরক্ষিত বনবিভাগ পরিদর্শনে আসলেও অবৈধ বসতি উচ্ছেদের জন্য কোন ধরণের প্রদক্ষেন নেয়নি। বরং তাদের সাথে দেনদরবার করে চলে যান। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি বসতিতে ৫০হাজার টাকার উর্ধ্বে বসতি স্থাপনকারীদের কাজ থেকে নেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে স্থানীয় মাধ্যমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর অনেক অভিযোগও করা হয়েছে। তারপরও কোন সুরহা না হওয়ায় পাহাড় যেন সমতল ভূমিতে রুপান্তর হচ্ছে।

টইটং সুনাইছড়ির পাহাড়ে এক বসতি স্থাপনকারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি কয়েক বছর আগে বসতি স্থাপন করেছেন। বর্তমানে তিনি পাকা দালালের কাজ শুরু করেছেন। বনবিভাগের কাজ থেকে অনুমতি নিয়ে তিনি পাকা দালান করছেন বলে জানান। এ বিষয়ে কর্মকর্তা তাওহীদুল ইসলাম জানান, তিনি পাকা দালান করার কোন ধরণের অনুমতি দেননি। তার অবর্তমানে পাকা দালানটির কাজ করছেন।

পরিবেশবাদি সংগঠন সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ পেকুয়া শাখার সহ-সভাপতি মো: ইমরান জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতর এভাবে বসতি স্থাপন অব্যাহত থাকলে আগামী ৫বছরের ভিতর পেকুয়ায় কোন পাহাড় থাকবেনা।

তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে আরো বলেন, বসতি উচ্ছেদ ও স্থাপন বন্ধ না করলে তারা মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষনা করবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top
error: কপি করা নিষেধ!!