বাংলাদেশে ২০৪১ সালের মধ্যে ৯০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মেগা প্রকল্প

power-plant-bd-coxbangla.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১১ জানুয়ারী) :: ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। আগামীতে বিদ্যুৎ সংকট এড়াতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশে গ্যাস ও জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পাশাপাশি আঞ্চলিক এবং উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতায় ভারত, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমার থেকে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। প্রকল্প অনুযায়ী, আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণ হবে ৯ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে ২০২৫ সালের মধ্যে ২৫০০ মেগাওয়াট, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০০ মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৯০০০ মেগাওয়াট।

এদিকে, দেশে গ্যাস দিয়ে প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয় প্রায় ৩ টাকা। একইভাবে ডিজেল দিয়ে ১৫ টাকার মতো। আর বিদেশ থেকে প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয় হবে ৬ থেকে ৭ টাকার মধ্যে। তবে কোম্পানি ভেদে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মূল্যে কমবেশি হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ইতোমধ্যে ১৫ হাজার মেগাওয়াট লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে। তবে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে সরকার নানামুখী উদ্যোগ হাতে নিচ্ছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও আমদানি করা হচ্ছে বিদ্যুৎ।

একইভাবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের চেয়ে অনেকগুণ বেশি খরচ হয় ফুয়েলে। তবে জ্বালানির ওপর থেকে নির্ভরতা কমাতে বিদেশ থেকে আমদানি করা বিদ্যুতে প্রতি মেগাওয়াটে খরচ কম পড়বে। তবে গ্যাসের দ্বিগুণ এবং জ্বালানি তেলের চেয়ে কম। তাই দেশে উৎপাদনের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়ে সরকার, যার একটি প্রতিবেদন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল খায়ের মো. আমিনুর রহমান। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন নিয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর অনুুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনার তথ্যমতে, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশ ছাড়াও সার্ক, বিমসটেক, এসএএসইসি, বিবিআইএন ও ডি-৮ ইত্যাদি আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ফোরামের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। ইতোমধ্যে সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুসমর্থনকৃত সার্ক ফ্রেমওয়ার্ক ফর এনার্জি কো-অপারেশন (ইলেক্ট্রিসিটি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সার্ক সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। আর বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক চুক্তি প্রক্রিয়াধীন আছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানি-রপ্তানির বিষয়ে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আলোকে ২০১৩ সাল থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বহরমপুর-ভেড়ামারা ৪০০ কেভি আন্তঃসংযোগ সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে আমদানি হচ্ছে। একই লাইনে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। এছাড়া গত বছর থেকে ভারতের ত্রিপুরা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছে। আরও ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এই বছরের মধ্যে আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতের ঝাড়খন্ডে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ নির্মাণের আগে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতের আদানি গ্রুপ বাংলাদেশে রপ্তানির প্রস্তাব করেছে, যা সরকার বিবেচনা করছে।

উল্লেখ্য, ভবিষ্যতে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি-রপ্তানির লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় জয়েন্ট টেকনিক্যাল টিম (জেটিটি) এবং জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) কাজ শুরু করেছে, যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিয়ানমারের সঙ্গে বিদ্যুৎ খাত সহযোগিতা সম্পর্কিত একটি নন-বন্ডিং এমওইউর খসড়া গত বছর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশটির সরকারের কাছে পাঠানো হয়। আটটি জয়েন্ট ট্রেড কমিশন (জেটিসি) সভায় মিয়ানমারের রাখাইন এবং চীন রাজ্যে লেমব্রো জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৪০০-৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর নির্মাণকাজ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

ভুটানের ১১২৫ মেগাওয়াট কুরি-১ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে ত্রিপক্ষীয় এমওইউ দাখিল করা হয়, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভুটানে পাঠানো হয়। এর আলোকে দেশটির তৈরি ডিপিআর অনুযায়ী ভারত-বাংলাদেশ নিরীক্ষা করছে।

একইভাবে নেপালের জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে বাংলাদেশের পুঁজি বিনিয়োগ এবং বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে নন-বন্ডিং এমওইউর খসড়া নেপাল সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে নেপাল বাংলাদেশ থেকে পাঠানো চুক্তির নমুনা স্বাক্ষরটির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top
error: কপি করা নিষেধ!!