মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিদায়ী ভাষণ

obama-last.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১১ জানুয়ারি) :: মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুইবার দায়িত্ব পালন শেষে আগামী ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউজ থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছেন বারাক ওবামা। এই সময়ের মধ্যে নন্দিত যেমন হয়েছেন, তেমনি নিন্দুকেরাও পিছিয়ে থাকেনি। নিঃসন্দেহে টানা আট বছর একটি কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাকে।

এ দেশে সবাই পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্ত থেকেই এসেছেন। চির কালই আমেরিকা আগন্তুকদেরই দেশ। তাই আমেরিকা কখনও বিশ্বায়নের বিপরীতে হাঁটতে পারে না। জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে মনে করিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

বিশ্বায়ন আর নয়, বরং বিশ্বায়ন থেকে মুক্তি— হবু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান স্লোগান এখন এমনই। অন্যান্য দেশ থেকে আসা মানুষরা আমেরিকায় কাজ পেয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু মার্কিন নাগরিকদের কাজ জুটছে না, অভিযোগ ট্রাম্প শিবিরের। তাই এইচ-১বি ভিসায় রাশ টানার নীতি নিতে চলেছে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন পরবর্তী সরকার। সরাসরি তার উল্লেখ না করেও প্রেসিডেন্ট ওবামা এ দিন মনে করিয়ে দিলেন, আমেরিকা এমন নীতি নিতে পারে না। কারণ খাঁটি মার্কিন বলে কিছু হয় না। আমেরিকা আসলে দেশান্তরীদেরই দেশ।

শিকাগোয় দেওয়া এই ভাষণই ছিল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার শেষ ভাষণ। পর পর দু’বার নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ আট বছর তিনি কাটিয়েছেন হোয়াইট হাউজে। বিদায়ী ভাষণে স্বাভাবিক ভাবেই স্মৃতি রোমন্থন করেছেন, আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন, চোখ ভিজে এসেছে। কিন্তু জাতির উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেওয়া শেষ ভাষণেও নিজেকে দলীয় রাজনীতির অনেক ঊর্ধ্বে রেখে রাষ্ট্রনায়ক সুলভ বার্তাই দিয়ে গেলেন ওবামা।

জমায়েতে উপস্থিত শ্রোতাদের ‘মাই ফেলো আমেরিকানস’ সম্বোধন করে ওবামা বলেন, ‘‘আমরা এমন একটি জাতি, যে জাতি অভিবাসীদের নিয়েই গঠিত হয়েছে এবং চির কাল আমরা অভিবাসীদের জাতি হয়েই থাকব।’’ এতেই থামেননি ওবামা। যাঁরা আজ নিজেদের আসল মার্কিন নাগরিক বলে দাবি করছেন এবং নিজেদের কর্মসংস্থানের স্বার্থে অন্যান্য দেশ থেকে আমেরিকায় পাড়ি জমাতে ইচ্ছুক মানুষদের ভিসা দেওয়ার উপরে বিধিনিষেধ আরোপ করতে চাইছেন, তাঁদের ওবামা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘‘আমরা নিজেরাও এক দিন এই ভূখণ্ডে আগুন্তুকই ছিলাম।’’

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জঙ্গি হানার পর থেকে আমেরিকার একটি মহল যে ভাবে সব মুসলিমকে সংশয়ের চোখে দেখতে শুরু করেছিল, তার বিরুদ্ধেও এ দিন মুখ খুলেছেন ওবামা। কোনও একটি ধর্ম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলা চালিয়েছিল এমন নয়, হামলা চালিয়েছিল আল কায়েদা। মন্তব্য ওবামার। আমেরিকা যাতে আর আক্রান্ত না হয়, তার জন্য প্রত্যেক মার্কিন নাগরিককে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে বলেও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট এ দিন বার্তা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘ভয় পেলে চলবে না, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’’ মার্কিন প্রশাসন সতর্ক থেকেছে বলেই গত আট বছরে আমেরিকায় কোনও জঙ্গি হামলা হয়নি বলে ওবামা এ দিন মন্তব্য করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শিকাগো শহরে দেওয়া তার বিদায়ী ভাষণে ‘গণতন্ত্র হুমকির মুখে’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জনগণের প্রতি ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ আহ্বানও জানিয়েছেন। তবে তার আট বছরের প্রশাসনে যুক্তরাষ্ট্র আরও ‘উত্তম ও শক্তিশালী’ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ওবামা জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমরা স্বীকার করি বা না করি, গণতন্ত্র হুমকি সম্মুখীন হয়েছে।’ তিনি মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য তিনটি হুমকির দিকে নির্দেশ করেছেন – অর্থনৈতিক বৈষম্য, বর্ণবাদ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিভক্তি। জনগণকে ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ আহ্বান জানান ওবামা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় কোনও জটিলতা যে তিনি চান না, সেই বার্তাও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। তাঁর কথায়, ‘‘ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর আমাদের গণতন্ত্রের অন্যতম পরিচিতি।’’ তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনে যাঁরা হারেন, তাঁদের মন খারাপ হয়। কিন্তু পরের দিনই আমাদের মনে পড়া দরকার যে আমরা সবাই আসলে একটাই দলের অংশ।’’ জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিয়ে প্রেসিডেন্টের মন্তব্য, ‘‘দল, মত, বিশ্বাস নির্বিশেষে আমরা বেশির ভাগ মানুষই মনে করি, আমরা যত ঐক্যবদ্ধ থাকব, ততই শক্তিশালী থাকব।’’

 

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top
error: কপি করা নিষেধ!!