Home অর্থনীতি কক্সবাজারের মহেশখালীতে চলছে বিদ্যুৎ-জ্বালানি-এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের মহাকর্মযজ্ঞ

কক্সবাজারের মহেশখালীতে চলছে বিদ্যুৎ-জ্বালানি-এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের মহাকর্মযজ্ঞ

1145
SHARE

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৩০ মে) :: বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ভবিষ্যৎ চাহিদা সংস্থানে কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রতিটি ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার মোট ৮টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজিভিত্তিক তিন হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এসবের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা বন্দর ও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের মহাযজ্ঞ হাতে নিয়েছে সরকার।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মহেশখালীতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তাবিত পাওয়ার হাব স্থাপনের লক্ষ্যে ৫৫৭৯ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে প্রায় ৫৭৫ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের পরিশোধের জন্য। প্রস্তাবিত পাওয়ার হাবের পরামর্শক হিসেবে ইতোমধ্যে ভারতীয় কোম্পানি স্টেগ এনার্জি সার্ভিস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পরামর্শক সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে। তাদের তথ্যমতে, মহেশখালীতে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রায় ৮টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রতিদিন ৯০ হাজার টন কয়লা দরকার হবে। এখানে তিন হাজার মেগাওয়াট এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সে কারণে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের জন্য এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করার প্রয়োজন হবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানিকৃত কয়লা আনলোড করতে একটি কয়লা বন্দর ও সিটিটি নির্মাণ করতে হবে।

এদিকে মহেশখালীর উন্নয়নে একক পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মহেশখালী দ্বীপটিতে বিদ্যুৎ হাব, এলএনজি টার্মিনাল এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল নির্মাণের জন্য পৃথক সংস্থা জমি অধিগ্রহণ করেছে। কিন্তু এদের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় পরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মহেশখালীর উন্নয়নে সব সংস্থাকে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, মহেশখালীর উন্নয়নে নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। এখানে একদিকে জাইকা কয়লা খালাস করার জন্য বন্দর নির্মাণ করছে, আবার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডও (পিডিবি) বন্দর নির্মাণ করতে চায়। আমরা পিডিবিকে বলেছি, জাইকা যে বন্দর নির্মাণ করবে অন্য সবাই তা ব্যবহার করবে।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, জ্বালানি সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালিদ মাহমুদ, কৌল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম ছাড়াও বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, মহেশখালীর পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন মহেশখালীতে দুটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের চুক্তি সই করেছে সরকার। এ ছাড়া কৌল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি কয়লা খালাসের বন্দরও নির্মাণ করা হবে। এর বাইরে বেজা একটি বিশেষ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য পিডিবিও পৃথকভাবে জমি অধিগ্রহণ করেছে। ভবিষ্যৎ জ্বালানির নিশ্চয়তা থাকায় অনেকেই মহেশখালীর দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই।

এ ছাড়া মহেশখালীতে প্রতিদিন ৫০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করতে পারে, এমন একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। এর বাইরে সামিট পাওয়ার এবং ভারতের রিলায়েন্স পাওয়ার দুটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

SHARE