Home চাকুরি চাকরির বাজারে বড় হুমকি হয়ে উঠছে রোবট !

চাকরির বাজারে বড় হুমকি হয়ে উঠছে রোবট !

234
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৫ জুন) :: কয়েক দশক থেকেই শ্রমবাজারের পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি। তবে সাম্প্রতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটের দ্রুত অগ্রগতি চাকরির বাজারে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি চাকরিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে। এমনকি জ্ঞানভিত্তিক চাকরি কিংবা উচ্চ দক্ষতার চাকরিও এখন রোবটের কাছে হাতছাড়া হচ্ছে।উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, স্বচালিত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথে অনেকটাই সফল কম্পানিগুলো। অদূর ভবিষ্যতে আর ট্যাক্সি ভাড়া করতে হবে না, কিংবা বাস, ট্রাক চালাতে চালকের প্রয়োজন হবে না। জার্নালিজমে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা রাখছে অ্যালগোরিদম। শপিং মলে মানুষকে স্বাগত জানাচ্ছে রোবট, চিকিত্সা ক্ষেত্রে রোবটিক সার্জারির অগ্রগতি এবং ক্যান্সার শনাক্তকরণ ও হার্টের পরিস্থিতি বুঝতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৭০০ পেশার মধ্যে ৪৭ শতাংশ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে উচ্চ ঝুঁকিতে। চলতি বছর ম্যাককিনসে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে প্রযুক্তির যে অগ্রগতি চলছে তাতে বিশ্বের অর্ধেক কাজই একসময় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি দ্বারা সম্পাদিত হবে। তবে ম্যাককিনসের গবেষকরা এখনো মনে করেন বিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ চাকরি পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় হবে।

চলতি মাসে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পিডাব্লিউসি। এতে বলা হয়, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ব্রিটেনে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে শেষ হয়ে যাবে। বিশেষ করে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারে চাকরি বেশি লোপ পাবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি বিশ্বের শ্রমশক্তিতে কী পরিমাণ প্রভাব ফেলবে তা এসব প্রতিবেদনে এখনো পুরোপুরি উঠে আসেনি। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং সিলিকন ভ্যালিতে কারনেগি মেলন ইউনিভার্সিটির অনুষদ সদস্য ভিভেক ওয়াদওয়া বলেন, এসব গবেষণায় কর্মসংস্থানে প্রযুক্তির প্রভাবকে এখনো ছোট করে দেখা হচ্ছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চাকরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

ওয়াদওয়া আরো বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি। ’ তিনি বলেন, অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি কম্পানিগুলো স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির উদ্ভাবনে বিস্ময়কর সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছে। তিনি বলেন, চালকবিহীন গাড়ি এখন ভবিষ্যতের বাস্তবতা। যা প্রযুক্তির একটি বড় পরিবর্তন প্রমাণ করছে। পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এলন মাস্কও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যাপারে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করছেন।

জেরুজালেমে হিব্রু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ঐতিহাসিক ইয়ুভাল হারারি তাঁর ২০১৭ সালে প্রকাশিত বই ‘হোমো দেয়াস : এ ব্রিফ হিস্টরি অব টুমোরো’ গ্রন্থে লেখেন, প্রযুক্তির কল্যাণে শ্রমবাজারে প্রয়োজনাতিরিক্ত লোক থাকবে। ক্ষমতা এবং সম্পদ অল্প কিছু লোকের হাতে সন্নিবেশিত হবে, শ্রম চাহিদা পূরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবট থাকবে তাদের কাছে। ফলে সমাজে মারাত্মক আকারে বৈষম্য তৈরি হবে। যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

তবে এসব পূর্বাভাসকে পাত্তা দিতে রাজি নয় বোস্টন ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ ও গবেষক জেমস বেসেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় আরো বেশি চাকরি তৈরি হবে, হয়তো বা কাজের ধরন পরিবর্তন হবে। তিনি  উদাহরণ দিয়ে বলেন, ব্যাংকিং খাতে এটিএমের ফলে কর্মীর সংখ্যা কমাতে হয়নি, এমনকি উনিশ শতকে টেক্সটাইল খাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি আসার ফলে বিপুল কর্মসংস্থানের চাহিদা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, রোবট কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে, সব ক্ষেত্রে নয়। তবে তিনি মনে করেন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি কম দক্ষতার ও কম মজুরির অনেক চাকরি নষ্ট করে দিচ্ছে। তবে উচ্চ দক্ষতার চাকরির চাহিদা তৈরি করছে। এএফপি।

SHARE