Home কক্সবাজার কক্সবাজার শহরে বসতবাড়ির নিরাপত্তা চায় এক আদিবাসী রাখাইন পরিবার

কক্সবাজার শহরে বসতবাড়ির নিরাপত্তা চায় এক আদিবাসী রাখাইন পরিবার

3634
SHARE

বিশেষ প্রতিবেদক(১৭ জুন) :: জীবনের নিরাপত্তা চায় কক্সবাজার শহরের চাউল বাজার এলাকায় এক রাখাইন পরিবার। সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে । ১১ জুন বিকেলে ওই পরিবারের মালিকানাধীন দোকানের একটি অংশ দখল করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এখন চেষ্টা করছে বসতবাড়ি দখলের।

বসতবাড়ী ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে না গেলে সন্ত্রাসীরা ওই পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রাণি এমনকি হত্যাও করতে পারে। এই আশঙ্কা করছেন রাখাইন নারী ও কক্সবাজার কেজি এন্ড মডেল হাই স্কুলের শিক্ষিকা মা উন টিন।

১৭ জুন বিকেলে শহরের এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আশঙ্কার কথা বলেন তিনি।

এ ব্যাপারে ১৬ জুন শহরের বইল্যাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বার মুন্সির তিন পুত্র আব্দুল ওয়াহেদ রাশেদ, আব্দুল ওয়াজেদ খোকা ও আব্দুল ওয়াশিম অভিসহ ১০/১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন (যার নং -৮৫/’১৭) তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে স্কুল শিক্ষিকা মা উন টিন বলেন, আমার স্বামী চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর যাবত দু’কন্যা সন্তানসহ আমি শহরের চাউল বাজার সড়কের আমার শ^শুর বাড়ীতে বসবাস করছি। কয়েক বছর আগে বসতবাড়িটি বিক্রি করে আমার শ^াশুড়ি মায়ানমারে চলে যেতে চান

বিষয়টি বুঝতে পারে আমরা কক্সবাজার সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি ( অপর ১২৫/’১৫)। যাতে শ^াশুড়ি আমাদের বসতবাড়িটি বিক্রি করতে না পারেন।

ওই মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকাকালীন সময়েই আমার শ^াশুড়ি জনৈক আব্দুল ওয়াহেদ গংদের কাছে আমাদের বসতবাড়িটি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানতে পারি। এরপর থেকে আমি কর্মস্থলে যাতায়াতকালীন এমনকি বিভিন্ন সময় পথে-ঘাটে আব্দুল ওয়াহেদ আমাকে বসতবাড়ির দখল ছেড়ে দিতে নানাভাবে লাঞ্ছিত করতে থাকে। আমি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর নারী হওয়ার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সে মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। সর্বশেষ চলতি বছরের (২০১৭) ১১ জুন জোরপূর্বক আমাদের মালিকানাধীন একটি দোকানের তালা ভেঙ্গে দোকানের দখল নেয়। এরপর থেকে আমরা আরো অসহায় হয়ে পড়ি।

বিষয়টি কক্সবাজার সদর মডেল থানাকে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে মা উন টিন বলেন, আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণœ রেখে এদেশে বসবাস করতে চাই। বিচারাধীন বিষয়টি আদালতে সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত যাতে আমাদের উপর কোন ধরনের নির্যাতন চালানো না হয়। এখন সেই দাবিই করছি প্রশাসনের কাছে।

SHARE