Home কক্সবাজার কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনে সাড়ে ৩শ হোটেলের মধ্যে এসটিপি আছে দুটির

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনে সাড়ে ৩শ হোটেলের মধ্যে এসটিপি আছে দুটির

1713
SHARE

বিশেষ প্রতিবেদক(১৩ জুলাই) :: পর্যটন শহর কক্সবাজারের সৈকত সংলগ্ন হোটেল-মোটেল জোনের সাড়ে তিনশ আবাসিক হোটেলকে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের নোটিস দেওয়া হলেও মাত্র দুটি হোটেল তা বাস্তবায়ন করেছে। বাকি অন্য সব হোটেল তা বাস্তবায়ন করেনি। পরিবেশ অধিদপ্তর এসব হোটেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে। আদায় করা হচ্ছে জরিমানা। শুরুতে দুইটি হোটেল থেকে সাত লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

পরিবেশ আইন না মেনে কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় গড়ে ওঠেছে শত শত আবাসিক হোটেল, বহুতল ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট। পর্যটন শহরটি যেন ইট কংক্রিটের শহরে পরিণত হয়েছে। এসব ভবনে যাতায়াতের সুপরিসর কোনো রাস্তা নেই। নেই নালা নদর্মা। এমনকি পয়ঃনিষ্কাশনের কোনো সুব্যবস্থাও নেই। নেই কোনো ডাস্টবিনও। ময়লা আবর্জনা স্তূপ হয়ে থাকে আশেপাশের এলাকা। দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরু রাস্তা দিয়ে অভাবনীয় দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে পথ চলতে হয় পথচারীদের।

এখানে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক অবস্থান করছে। হোটেলগুলোতে পয়ঃনিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকায় মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনাগার তথা সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের জন্য নোটিস প্রদান করে। কিন্তু নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় পরিবেশ অধিদপ্তরও হার্ড লাইনে অবস্থান নিয়েছে।

জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে। শুরুতে দুইটি হোটেলকে জরিমানা করে। এর মধ্যে কলাতলি মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে নির্মিত নিঃসর্গ হোটেলকে পাঁচ লাখ টাকা ও মেসার্স ইমাজিন হোটেল (স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট) নামক আবাসিক হোটেলকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার পর্যটন জোন এলাকায় অবস্থানগত ছাড়পত্র না দিয়ে পূর্বে অসংখ্য বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আর নতুন করে যারা স্থাপনা তৈরি করছে তারা ছাড়পত্র নেয়নি। এ অবস্থায় সাড়ে তিন শত আবাসিক হোটেলকে ছাড়পত্র নিতে নোটিস প্রদান করা হয়। ইনানীতে হোটেল রয়েল টিউলিপ ও কলাতলী মোড়ের হোটেল সায়মান ব্যতীত অন্য কোনো হোটেল এসটিপি স্থাপন করেনি। এসব হোটেলের বিরুদ্ধে জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ উর রহমান মাসুদ জানান, পরিবেশ আইন না মেনে যেভাবে স্থাপনা তৈরি হচ্ছে এতে বসবাস অনুপযোগী হয়ে ওঠবে পুরো শহরটি। তাই পরিবেশ ছাড়পত্র না নিয়ে নির্মাণাধীন ভবনগুলোর স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া প্রয়োজন। আর যারা আগে নির্মাণ করেছে তাদের স্থাপনা পরিবেশবান্ধব করতে সংস্কার করা জরুরি।

SHARE