Home প্রযুক্তি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন বাজার ভারত

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন বাজার ভারত

193
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(২৭ অক্টোবর) :: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ভারতে এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় স্মার্টফোন সরবরাহ বেড়েছে ২৩ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটিতে স্মার্টফোন সরবরাহ দাঁড়িয়েছে চার কোটি ইউনিটে।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে স্মার্টফোন ডিভাইসের দ্বিতীয় বৃহৎ বাজারের তকমাটি দখলে নিতে সমর্থ হয়েছে ভারত।

অন্যদিকে চীন স্মার্টফোন ডিভাইসের সবচেয়ে বৃহৎ বাজারের তকমা ধরে রেখেছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিস রিসার্চের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। খবর ইটি টেলিকম।

ক্যানালিস রিসার্চের তথ্যমতে, স্যামসাং এবং শাওমি জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ভারতে যথাক্রমে ৯৪ লাখ ও ৯২ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন সরবরাহ করেছে, যা বাজারটিতে সরবরাহ হওয়া মোট স্মার্টফোন ডিভাইসের প্রায় অর্ধেক। তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির শীর্ষ পাঁচ স্মার্টফোন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

ক্যানালিস রিসার্চের বিশ্লেষক ইশান দত্ত বলেন, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি দেশটির স্মার্টফোন বাজারের জন্য শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। কারণ ভারতের স্মার্টফোন বাজার নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা ছিল, তা দূর হয়েছে।

তিনি বলেন, ভারত তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাজার। দেশটির স্মার্টফোন বাজার ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভারতে অন্তত ১০০ মোবাইল ব্র্যান্ড ডিভাইস বিক্রি করছে। এছাড়া বাজারটিতে প্রতি প্রান্তিকে একাধিক নতুন মোবাইল ব্র্যান্ডের প্রবেশ ঘটছে। একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর ফোরজি এলটিই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ স্মার্টফোন ব্যবহার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। বাজেট সাশ্রয়ী ডিভাইস সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রাহকরা এখন স্মার্টফোনের প্রতি ঝুঁকছেন। বাজার দখল বিবেচনায় ভারতের স্মার্টফোন বাজারের শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠান স্যামসাং, শাওমি, ভিভো, অপো এবং লেনোভো। বাজারটিতে সরবরাহ হওয়া স্মার্টফোনের ৭৫ শতাংশই এ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের।

ক্যানালিস রিসার্চের তথ্যমতে, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে স্যামসাংয়ের ডিভাইস সরবরাহ বেড়েছে ৩০ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শাওমির ডিভাইস সরবরাহ বেড়েছে ২৯০ শতাংশের বেশি। চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন অনলাইন চ্যানেলের মাধ্যমে দেশটিতে স্মার্টফোন বিক্রি করে আসছে। তবে গত প্রান্তিকে প্রথম অফলাইন স্টোর চালুর মাধ্যমে ডিভাইস বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিল। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শহরে তৃতীয় প্রান্তিকের শুরুতেই নিজস্ব অফলাইন স্টোর চালু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি, যা সরবরাহ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

ক্যানালিস রিসার্চের আরেক বিশ্লেষক রুশাভ দোশি বলেন, শাওমি ক্রমবর্ধমান ভারতের স্মার্টফোন বাজারে বাজেট সাশ্রয়ী ডিভাইস দিয়ে ব্যবসা জোরদার করছে। দেশটির মাঝারি মূল্যের বা ২৩০-৩১০ ডলার মূল্যের ডিভাইস বাজারে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। স্যামসাং, অপো এবং ভিভো এরই মধ্যে মাঝারি মূল্যের ডিভাইস বাজারে দৃঢ় অবস্থান তৈরিতে সমর্থ হয়েছে। তবে ভারতের বাজারে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক প্রান্তিকের মধ্যেই স্যামসাংকে হটিয়ে শীর্ষ অবস্থান দখলে নিতে সমর্থ হবে শাওমি।

ক্যানালিস রিসার্চের তথ্যমতে, মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতে ডিভাইস উত্পাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে আইফোন সরবরাহ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে ভারতে ৯ লাখ ইউনিট আইফোন সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ভারতের বাজারে যখন বাজেট সাশ্রয়ী ডিভাইস নির্মাতাদের আধিপত্য বাড়ছে, তখন আইফোন সরবরাহ প্রবৃদ্ধি অ্যাপলের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে।

SHARE