Home কক্সবাজার কক্সবাজারে ২০ সরকারি পাহাড়ে ২ লাখ মানুষের বসবাস : এক মাসেই পাহাড়...

কক্সবাজারে ২০ সরকারি পাহাড়ে ২ লাখ মানুষের বসবাস : এক মাসেই পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে ২০০ ঘরবাড়ি!

244
SHARE

বিশেষ প্রতিবেদক(২২ নভেম্বর) :: কক্সবাজার শহরে পাহাড় কাটা বন্ধে গত পাঁচ মাসে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ২০ বার অভিযান চালিয়েছে। উচ্ছেদ করা হয় ১ হাজারের বেশি অবৈধ ঘরবাড়ি। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর ১০ মাসে মামলা করেছে ৪৮টি। কিন্তু তারপরও থামছে না পাহাড় কাটা। নতুন বসতি গড়ে উঠছে পাহাড় কেটে।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও সদর ভূমি কার্যালয়ের হিসাবে, গত এক মাসে কক্সবাজারের ২০টি সরকারি পাহাড়ে কমপক্ষে ২০০ নতুন ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, এখন দিন-রাত সমানে পাহাড় নিধন হচ্ছে। কয়েক বছরে পাহাড় কাটার দায়ে ১ হাজারের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৭৪টি মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাজিম উদ্দিনও বলেন, সরকারি পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে প্রচুর। তবে উচ্ছেদও হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর, ভূমি কার্যালয় ও পরিবেশবাদী সংগঠন সূত্র জানায়, শহরের ঘোনারপাড়া, মোহাজেরপাড়া, বৈদ্যঘোনা, বইল্যাপাড়া, জাদি পাহাড়, খাজা মঞ্জিল, বাদশাঘোনা, ফাতেরঘোনা, ইসলামপুর, হালিমাপাড়া, লাইটহাউসপাড়া, আবু উকিলের ঘোনা, পাহাড়তলী, বাঁচা মিয়ারঘোনা, হাশেমিয়া মাদ্রাসার পেছনে, সাহিত্যিকাপল্লী, বিজিবি ক্যাম্পের পেছনে, উপজেলা পরিষদের পেছনে উত্তর লারপাড়া ও দক্ষিণ লারপাড়ার পাহাড় এখন ক্ষতবিক্ষত।

১৬ নভেম্বর সকালে বাস টার্মিনালের উত্তর লারপাড়া পাহাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, এই পাহাড়টি এখন অনেকটাই ন্যাড়া। প্রায় ১০০ ফুট উঁচু ২৫ একরের সরকারি মালিকানাধীন পাহাড়টির ১০ থেকে ১২টি স্থানে চলছে নিধনযজ্ঞ। পাদদেশে আটজন শ্রমিক পাহাড়ের মাটি কাটছেন। পাহাড় কাটার মাটি ঠেলাগাড়িতে ভরে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে অন্যত্র।

শ্রমিক মনির উল্লাহ (৪০) বলেন, এই পাহাড়ের মালিক কামরুল ইসলাম তাঁদের দৈনিক মজুরিতে নিয়োগ দিয়েছেন পাহাড় কেটে সমতল করার জন্য। সাত দিন ধরে তাঁরা পাহাড় কাটছেন, এ পর্যন্ত কেউ বাধা দেয়নি। শ্রমিকের মধ্যে ছয়জন রোহিঙ্গা।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কামরুল ইসলাম পাহাড় কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, পাহাড়ের নিচে তাঁর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতেই তিনি প্লট বানিয়েছেন। তবে পাহাড়ের কিছু ঢালু জমি তাঁদের দখলে আছে।তা ছাড়া এখন রোহিঙ্গারাই পাহাড় কাটছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও সদর ভূমি কার্যালয়ের হিসাবে, গত এক মাসে এই পাহাড়ে নতুন করে গড়ে উঠেছে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২টি ঘরবাড়ি। সব মিলিয়ে অবৈধ বসতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ২০০টি।

এই পাহাড় থেকে ১০০ গজ দূরত্বে বাইপাস সড়কেই দক্ষিণ লারপাড়া পাহাড়। এটিও দখলদারদারের থাবায় বিপন্ন। ২০ একরের পাহাড়ের পাদদেশ ও ঢালুতে অবৈধ বসতি গড়া থেমে নেই। এখানেও এক মাসে ১৫টি বসতি গড়ে উঠেছে বলে জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র। একই দিন ইসলামপুরেও গিয়ে পাহাড় কাটার দৃশ্য চোখে পড়ে। দিনেই পাহাড় কাটার জন্য শ্রমিক নিয়োজিত করেছেন প্রভাবশালীরা।

পরিবেশবাদী সংগঠন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান বলেন, সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছে ৮০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। কিছু প্রভাবশালী রোহিঙ্গাদের দিয়ে পাহাড় নিধন করছেন। কেউ ঘরবাড়ি তৈরি করে রোহিঙ্গাদের থাকতে দিচ্ছেন। পাহাড় নিধনের ফলে গাছপালা উজাড় হচ্ছে।

পাহাড়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ করে উখিয়ার বালুখালীর ত্রাণশিবিরে পাঠানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। তবে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে না পারায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন তিনি। পৌর মেয়র প্রথম আলোকে বলেন, পাহাড়গুলো রক্ষা করা যাচ্ছে না। এখনো পাহাড়গুলোতে ৩০ হাজারের মতো ঘরবাড়ি আছে। সেখানে থাকছে ২ লাখের বেশি মানুষ।

SHARE