Home শিক্ষা শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধে দুদক এর ৩৯ দফা সুপারিশ

শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধে দুদক এর ৩৯ দফা সুপারিশ

183
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১৪ ডিসেম্বর) :: শ্রেণীকক্ষে পাঠদান নিশ্চিত করতে মনিটরিং কমিটি গঠন, বহু নির্বাচনী প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণ বাদ দেয়া, শিক্ষকদের পেনশনপ্রাপ্তিতে দুর্নীতি নির্মূল, এনসিটিবি ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ই-টেন্ডারিং প্রবর্তনের সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধে সংস্থাটি ৩৯টি সুপারিশ করেছে।

বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এসব সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

দুদক সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে প্রশ্নপত্র ফাঁস, নোট বা গাইড, কোচিং বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ, এমপিওভুক্তি, নিয়োগ ও বদলিসহ শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্নীতি বন্ধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, পাঁচ পাতার ওই প্রতিবেদনে শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্নীতির উত্স ও কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দুদকের আইনি এখতিয়ারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন দুর্নীতি এবং অনিয়মের ক্ষেত্র উল্লেখ করে দুদক তাদের সুপারিশগুলো উপস্থাপন করেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা বোর্ডে দুর্নীতির সম্ভাব্য উত্স হিসেবে দুদক প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কোচিং ও নোট-গাইড বাণিজ্যের কথা বলেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থের লেনদেনের কথা উল্লেখ করে দুদক ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা আইনে মামলা করাসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা অথবা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলার সুপারিশ করেছে।

এছাড়া প্রতি উপজেলায় দুটির বেশি পরীক্ষা কেন্দ্র না রাখা, শিক্ষাসংক্রান্ত সব কাজ অনলাইন সার্ভিসের আওতায় আনাসহ আটটি সুপারিশ করেছে দুদক।

কোচিং ও নোট-গাইড বাণিজ্য বন্ধে নিজেদের আইনি এখতিয়ারের উল্লেখ করে দুদক বলেছে, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন বহাল থেকে যেসব শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে অনৈতিক অর্থ উপার্জন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে অনুপার্জিত আয়ের অভিযোগ সৃষ্টি হয়। কোনো ভ্যাট বা ট্যাক্স না দেয়ায় এসব অর্থ অবৈধ আয় হিসেবে পরিগণিত হয়।

কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সংস্থাটি শ্রেণীকক্ষে পাঠদান নিশ্চিত করতে মনিটরিং কমিটি গঠন, সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বদলির নীতিমালা অনুসরণ, গ্রামীণ স্কুলে শিক্ষকস্বল্পতা দূরীকরণ, বহু নির্বাচনী প্রশ্ন সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে বর্ণনামূলক, সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন প্রণয়ন, অবৈধ কোচিং বাণিজ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ আট দফা সুপারিশ করেছে।

বেসরকারি অর্থাত্ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি বন্ধে শিক্ষক নিয়োগে পিএসসির আদলে কমিশন গঠন, শিক্ষকদের পেনশনপ্রাপ্তিতে দুর্নীতি নির্মূলসহ পাঁচ দফা সুপারিশ করেছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের অসাধু যোগসাজশকে দায়ী করেছে দুদক। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) দুর্নীতি বন্ধে দুদক সব টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ই-টেন্ডারিং অনুসরণ, লেখক ও অন্যান্য কমিটিতে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ, শিক্ষাক্রম ও পাণ্ডুলিপি প্রণয়নে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, সব পাঠ্যবইয়ে নমুনা প্রশ্ন সংযোজনসহ পাঁচ দফা সুপারিশ করেছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুর্নীতি বন্ধে দুদক ই-টেন্ডারিং, নাগরিক কমিটি গঠনসহ সাতটি সুপারিশ করেছে।

এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি রোধ ও শুদ্ধাচার বিকাশে সংস্থাটি সচিবালয় নির্দেশমালায় উল্লিখিত সময়ে কার্য সম্পাদন, নথি নিষ্পত্তিতে বিলম্বের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ ছয় দফা সুপারিশ করেছে।

দুদকের শিক্ষাসংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিমের প্রধান ও সংস্থার পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে দুই সদস্যের দল বিভিন্ন অনুসন্ধান চালিয়ে এ সুপারিশমালা তৈরি করেছে। এ দলের অন্য সদস্য সহকারী পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান।

SHARE