Home স্বাস্থ্য বাংলাদেশে হৃদরোগে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি

বাংলাদেশে হৃদরোগে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি

165
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১২ জানুয়ারী) :: আর্থিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসছে। ফাস্টফুড ও জাংকফুড গ্রহণের প্রবণতা যেমন বাড়ছে, তেমনি কমছে কায়িক শ্রম। অনিয়মতান্ত্রিক ও আয়েশি জীবনযাপনে অসংক্রামক বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ, যা ঠেলে দিচ্ছে অকালমৃত্যুর পথে। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটছে হৃদরোগে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০১৭ সালের হেলথ বুলেটিনের (প্রিলিমিনারি প্রি-প্রিন্ট ভার্সন) তথ্য বলছে, দেশের হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রোগীর প্রায় অর্ধেকেরই মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ।

প্রিলিমিনারি হেলথ বুলেটিনে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ৫১৪টি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব হাসপাতালের মধ্যে রয়েছে ৪১৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রাইমারি পর্যায়ের ১২টি হাসপাতাল, সেকেন্ডারি পর্যায়ের ৬৩টি জেলা ও সদর হাসপাতাল, ১৩টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও টারশিয়ারি পর্যায়ের ১২টি হাসপাতাল।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৭ দশমিক ৭৩, জেলা হাসপাতালে ৩৩ দশমিক ৫৮ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় ৩৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ রোগীর মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। এ তিন ধরনের হাসপাতালে ২০১৬ সালে হৃদরোগে মৃত্যুহার ছিল যথাক্রমে ৫৪ দশমিক ২৪, ৪৭ দশমিক ৫৩ ও ৩২ দশমিক ৪২ শতাংশ।

চিকিৎসকরা বলছেন, জীবনযাপনে পরিবর্তন, জাংকফুড ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ, তামাক সেবন, ভৌগোলিক অবস্থান ও করোনারি সরু থাকার কারণে বাংলাদেশের মানুষের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

অপরিণত বয়সে হৃদরোগে মৃত্যুরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে বলে জানান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এপিএম সোহরাবুজ্জামান। তিনি বলেন, তামাকজাত দ্রব্য বর্জন, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা ও নিয়মিত ব্যায়াম করলে ৫০ শতাংশ হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

প্রতিবেদনে হাসপাতালে মৃত্যুর প্রধান ১৩টি কারণ তালিকা আকারে প্রকাশ করা। হৃদরোগ ছাড়াও তালিকায় থাকা অন্য রোগগুলো হচ্ছে— শ্বাসতন্ত্রের রোগ, মস্তিষ্কের রক্তনালির রোগ (সেরিব্রোভাসকুলার ডিজিস), ম্যালিগন্যান্সি, সংক্রামক রোগ, বিষক্রিয়া, গর্ভধারণ ও এ-সংক্রান্ত জটিলতা, অভিঘাত ও দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, এন্ডোক্রাইন ও মেটাবোলিক ডিজঅর্ডার, মস্তিষ্কের ক্যান্সার, রক্ত ও রক্তের গঠনতন্ত্রের রোগ, অন্ত্রের রোগ এবং অন্যান্য অজ্ঞাত রোগ।

প্রতিবেদন অনুসারে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে হৃদরোগে ৩৭ দশমিক ৭৩, শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৭ দশমিক ৯, মস্তিষ্কের রক্তনালির রোগে ৮ দশমিক ৮৬, সংক্রামক রোগে ৫ দশমিক ২৭, বিষক্রিয়ায় ২ দশমিক ৭৪, গর্ভধারণ ও এ-সংক্রান্ত জটিলতায় ১ দশমিক ২, অভিঘাত ও দুর্ঘটনাজনিত আঘাতে ১ দশমিক ১৩ ও ম্যালিগন্যান্সিতে শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

জেলা হাসপাতালগুলোতেও সবচেয়ে বেশি রোগীর মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। এসব হাসপাতালে বিষক্রিয়া, গর্ভধারণ ও এ-সংক্রান্ত জটিলতায় মৃত্যু আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে গত বছর। তবে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুহার ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে বেড়েছে। ২০১৬ সালে জেলা হাসপাতালগুলোয় সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুহার ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ, যা ২০১৭ সালে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হৃদরোগের পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে শ্বাসতন্ত্রের রোগে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শ্বাসতন্ত্রের রোগে ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ রোগী মারা গেছে, যা আগের বছর ছিল ২৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। এছাড়া গত বছর এসব হাসপাতালে মস্তিষ্কের রক্তনালির রোগে ৭ দশমিক ৫৭, সংক্রামক রোগে ৪ দশমিক ৭৫, বিষক্রিয়ায় ৩ দশমিক ৮৪, গর্ভধারণ ও এ-সংক্রান্ত জটিলতায় শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ ও ম্যালিগন্যান্সিতে ২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ রোগী মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই হৃদরোগে মৃত্যুহার বেশি। হৃদরোগে মৃত্যু কমিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। উপজেলা-জেলা পর্যায় ও মেডিকেল কলেজগুলোর শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। নতুন আরো পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। তবে হৃদরোগে অকালমৃত্যু রোধে সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। এজন্য সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যমসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

SHARE