Home শীর্ষ সংবাদ মিয়ানমারে রাখাইনে নতুন পাঁচ গণকবরের সন্ধান

মিয়ানমারে রাখাইনে নতুন পাঁচ গণকবরের সন্ধান

165
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১ ফেব্রুয়ারি) :: মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন পাঁচটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। রাখাইনের গু দার পাইন এলাকায় এ পাঁচ গণকবরে চার শতাধিক মানুষের মরদেহ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির এক অনুসন্ধানে এ গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে।

সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ২৪ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ থেকে এপি এ নতুন গণকবর সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, পালিয়ে আসা নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গারা অভিযোগের পাশাপাশি এপিকে হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সরবরাহ করেছে। তবে নির্দিষ্ট ওই অঞ্চলে গিয়ে অনুসন্ধানের চেষ্টা করলেও প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকায় ব্যর্থ হয় এপি। অন্যদিকে দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গণকবর থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকারানুযায়ী র্নিধারিত ওই গ্রামগুলোর স্যাটেলাইট ইমেজ সংগ্রহ করে তারা। সংগৃহীত ছবির সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার মিল পাওয়া যায়। একইসঙ্গে তারা গণকবরেরও বিষয়েও নিশ্চিত হয়।

এপির খবরে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকার দেওয়া প্রত্যেকেই গু দার পাইনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রবেশ পথের মূল রাস্তায় তিনটি গণকবর দেখেছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন, গ্রামের পার্বত্য এলাকার কবরস্থানের কাছে আরও বড় দুটি গণকবর রয়েছে। সবমিলে সব তথ্য নিয়ে প্রমাণ হয়েছে আসলেই সেখানে পাঁচটি গণকবর রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের স্থানীয় নেতারা এখন পর্যন্ত ৭৫ জনের মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তবে গ্রামবাসীদের আত্মীয়দের সাক্ষাৎকার এবং গণকবর ও আশেপাশে তাদের দেখতে পাওয়া মৃতদেহের সংখ্যা বিচার করে নিহতের সংখ্যা চারশর বেশি হতে পারে বলে খবরে দাবি করা হয়েছে।

রাখাইন অঞ্চলের গু দার পিন গ্রামে যখন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযান চালায়, তখন নূর কাদির নামের স্থানীয় রোহিঙ্গা এবং তার আরো ১৪জন বন্ধু একটি ফুটবল টিমের জন্য খেলোয়াড় বাছাই করছিলেন।

তিনি এপিকে বলেন, টিনের চালে বৃষ্টি হলে যে ধরনের শব্দ হয়, ঠিক ঐ রকম গুলির আওয়াজ শুরু হওয়ার পর সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

তবে নূর কাদির এবং দুই বন্ধু সেখান থেকে কোনো রকমে বেঁচে যান। এর কয়েকদিন পরে নূর কাদির দু’টি কবরে তার ছয়জন বন্ধুর মৃতদেহ আবিষ্কার করেন।

মোহাম্মদ শাহ নামে এক কৃষক ও দোকানদার জানান, ২৭ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের একটি এলাকায় ঝড়ের মতো প্রবেশ করে অন্তত দুইশর মত সেনা সদস্য। তিনি এক নারকেল গাছের আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলো আরও শতাধিক রোহিঙ্গা। তাদের চোখের সামনেই সেনা সদস্যরা রোহিঙ্গাদের বাড়ি পুড়িয়ে দিতে থাকে। যারা পালানোর চেষ্টা করছিলো তাদের গুলি করছিল। তাদের তাণ্ডবে ধ্বংস হয় বৌদ্ধদের বাড়িও। সেনাদের অনেকের মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনের রোহিঙ্গাদের উপর দমনপীড়ন শুরু করার পর এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ এ হত্যাকাণ্ডকে পাঠপুস্তকে থাকা জাতিগত নির্মূলের সাথে তুলনা করেছে।

অন্যদিকে শুরু থেকেই মিয়ানমার সেনাবাহিনী এ হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করে আসলেও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রথমবারের মত তারা রাখাইনের ইনদিন গ্রামে দশ রোহিঙ্গাকে হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়।

তবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার গু দার পাইনের এসব গণকবর নিয়ে তাদের মন্তব্য জানতে এপির পক্ষ থেকে কয়েকদফা যোগাযোগ করা হলেও কোনও সাড়া পায়নি তারা।

খবরে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞে এক মাসেই ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন। রোহিঙ্গাকে বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী বলে বিবেচনা করা হয়।

 

SHARE