Home কক্সবাজার টেকনাফে ১০ কোটি টাকার ৩ লাখ ৩০হাজার ইয়াবা উদ্ধার : তুলকালাম

টেকনাফে ১০ কোটি টাকার ৩ লাখ ৩০হাজার ইয়াবা উদ্ধার : তুলকালাম

59
SHARE

হুমায়ূন রশিদ,টেকনাফ(২ ফেব্রুয়ারী) :: টেকনাফে বিজিবি জওয়ানেরা পৃথক অভিযান চালিয়ে চোরাকারবারীদের ফেলে যাওয়া ৯ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ৩ লক্ষ ৩০ হাজার পরিত্যক্ত ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে।

সুত্র জানায়, ২ ফেব্রুয়ারী ভোররাত আড়াই টারদিকে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের সাবরাং বিওপির নায়েব সুবেদার মোঃ লাল মিয়া মিয়ানমার হতে ইয়াবার চালান আসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ টহল দল নিয়ে সাগর উপকূলীয় মুন্ডার ডেইল নৌঘাটের উত্তরে জঙ্গলে অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পর একটি নৌকা কিনারায় এসে ৩জন লোককে নামিয়ে দেয়।

নৌকা থেকে নেমে আসা ৩ব্যক্তি প্লাষ্টিকের ৩টি বস্তা নিয়ে যাত্রাকালে বিজিবি জওয়ানেরা হুইসেল বাজিয়ে চ্যালেঞ্জ করামাত্র মাথায় থাকা বস্তা ফেলে দৌঁড়ে গ্রামের ভেতর দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে টহলদল পরিত্যক্ত বস্তা উদ্ধার করে ব্যাটালিযন সদরে নিয়ে গণনা করে ৯কোটি টাকা মূল্যমানের ৩লক্ষ পিস ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়।

এদিকে হ্নীলা বিওপির কোম্পানী কমান্ডার গত ১ ফেব্রুয়ারী রাত ১০টায় হ্নীলা বিওপির কোম্পানী কমান্ডার মোঃ আতাউর রহমান নিজস্ব গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ টহল দল নিয়ে হোয়াব্রাং লবণ মাঠে অভিযান চালিয়ে ৩/৪ জনকে ধাওয়া করে আটক করতে পারেনি।

লবণ মাঠে তল্লাশী চালিয়ে পলিথিন মোড়ানো একটি পুটলা উদ্ধার করে। তা ব্যাটালিয়ন সদরে নিয়ে গণনা করে ৯০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ৩০হাজার পিস ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়।

তা পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেসামরিক প্রশাসন, মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করার জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে।

টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এসএম আরিফুল ইসলাম অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

টেকনাফে তুলকালাম

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে  শুক্রবার দিনভর তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। চালানটি নিয়ে লোকেমুখে চলেছে নানা কথা। ইয়াবার চালান নিয়ে ঘটেছে একজন ইউপি মেম্বার সহ ২ ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনাও। চালানে ছিল ১৬ লাখ ইয়াবা। অনেকেই বলছেন ইয়াবার পরিমাণ আরো বেশি। চালানটি গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডারডেইল নৌঘাটে খালাস করা হয়।

এই চালানের কিছু অংশ অবশ্য বিজিবি সদস্যরা আটক করলেও আরো বিপুল পরিমাণ ইয়াবা গায়েব হয়ে যায়। পরে আজ বিকালের দিকে গায়েব হওয়া ইয়াবার সাড়ে ৮ লাখ ফেরত দেওয়া হয়। এখনো পর্যন্ত আরো কয়েক লাখ ইয়াবা গায়েব থাকার কথা নিয়ে সীমান্তে দুই ইয়াবা পাচারকারি দলের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইয়াবার চালানটি নিয়ে টেকনাফ বিজিবি-২ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক বলেছেন, বিজিবি সদস্যরা ৩ লাখ ইয়াবার চালান উদ্ধার করেছে। তবে এসময় পালিয়ে গেছে, তিন পাচারকারি। অপরদিকে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেছেন, ইয়াবার চালানটি নিয়ে একজন ইউপি মেম্বার সহ ২ ব্যক্তিকে আটকিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এই দু’জনকে উদ্ধার করতে যায়।

সীমান্তের লোকজন জানিয়েছেন, টেকনাফ সীমান্তের সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডার ডেইল নৌঘাট দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ১৬ লাখ ইয়াবার একটি চালান খালাস করা হয়। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিলেন মুন্ডার ডেইল গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবরাং ইউনিয়নের মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন দানু ও জয়নাল আবেদীন। নৌ ঘাটে খালাসের নিয়ম মতে প্রতি টেবলেট পিছু এক টাকা করে ১৬ লাখ টেবলেটের জন্য চুক্তি হয় ১৬ লাখ টাকার।

সাবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন আজ এ সব বিষয়ে জানান- ‘আমি আজ শুক্রবার সারাদিনই অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি ইয়াবার বড় চালান পাচারের ঘটনাটি নিয়ে। এই চালান পাচারের সাথে জড়িত আমার একজন ইউপি মেম্বার সহ দুই ব্যক্তি বেধড়ক পিটুনির শিকার হয়েছেন। তবুও পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ায় এই দুইজন প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।’

সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনার বিবরণ দিয়ে আরো জানান, ইয়াবার চালানটির মালিক হচ্ছেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভী পাড়ার হাজী ফজলের পুত্র একরামুল হক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবাকারবারি একরামের বিরুদ্ধে ৮টি ইয়াবা পাচারের মামলা রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান জানান, মুন্ডার ডেইল নৌ ঘাটে ইয়াবা পাচার করার চুক্তি নিয়ে কাজ করেন ইউপি মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন দানু ও জয়নাল আবেদীন।

চালানের মূল মালিক একরামুল হকের ১৬ লাখ ইয়াবা পাচারের চুক্তি মতে মাল খালাস করা হয়। একই সময়ে বিজিবি সদস্যরাও একই নৌঘাট থেকে আটক করেন তিন লাখ পিস ইয়াবার একটি চালান। রাতে নৌঘাটে খালাস করা ইয়াবার চালান বুঝিয়ে নিতে গেলে খালাসের দায়িত্ব নেওয়া ইউপি মেম্বার দানু ও জয়নাল ইয়াবার মূল মালিক একরামকে সকালে মাত্র তিন লাখ ইয়াবা দেন। বাদবাকি ১৩ লাখ ইয়াবা বিজিবি’র অভিযানের সময় খোয়া যাবার কথা বলতে থাকেন।

এ ঘটনা নিয়ে ইয়াবা খালাসকারি ও ইয়াবার মালিকের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ইয়াবার মালিক একরামের লোকজন কৌশলে ইউপি মেম্বার দানু ও জয়নালকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভীর পাড়ায় ধরে নিয়ে আসে। এরপর একরামের ঘরে তাদের দুইজনকে রশি দিয়ে বেঁধে বেদম মারধর শুরু করা হয়। মারধরের মুখে দানু ও জয়নাল সাড়ে ৮ লাখ ইয়াবা বের করে দেয়। বাদবাকি ইয়াবার মূল্য পরিশোধ করা হবে মর্মে একরামের কাছে ব্যাংকের চেক দেওয়া হয়। ইত্যবসরে টেকনাফ থানা পুলিশ এসে মৌলভীর পাড়ার একরামের ঘর ঘিরে ফেলে। ততক্ষণে ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় তাদেরকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

তবে টেকনাফ থানার ওসি মোঃ মাঈনুদ্দিন খান গতরাতে বলেন- ‘ইয়াবার চালান নিয়ে দুই পক্ষে বিরোধ হয়েছে। খবর পেয়ে ইউপি মেম্বার সহ জয়নালকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ একরামের ঘরেও হানা দেয়। কিন্তু ততক্ষণে একরাম ও ইউপি মেম্বার সহ অন্যান্যরা পালিয়ে গেছে।’

ওদিকে টেকনাফে বিজিবি সদস্যরা তিন লাখ পিস ইয়াবার একটি বড় চালান আটক করার কথা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে। এ পরিমাণ ইয়াবার মূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি। মিয়ানমার থেকে সাগর পথে ইয়াবার চালানটি ঢুকার সময় টেকনাফের সাবরাং সমুদ্র উপকূলের মুন্ডারডেইল নামক এলাকায় চালানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফের ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ সাবরাং বিওপির নায়েক সুবেদার মোঃ লাল মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে ইয়াবার চালানটি আটক করে। ইয়াবার একটি বড় চালানের খবর পেয়ে এসময় বিজিবি টহল দল সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডারডেইল নৌকা ঘাটের উত্তর পার্শ্বে জংগলাকীর্ণ স্থানে ওঁৎ পেতে থাকে।

বিজিবি ব্যাটালিয়ান অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এস,এম আরিফুল ইসলাম জানান, এসময় টহল দলের সদস্যরা সাগরের কিনারা দিয়ে একটি নৌকা আসতে দেখে। নৌকাটি মুন্ডারডেইল ঘাটে এসে থামে। এরপর নৌকার ৩ ব্যক্তি ৩টি প্লাষ্টিকের বস্তা নিয়ে ঘাটে নামা মাত্রই টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে।

এসময় নৌকাটি অতিদ্রুত সাগরের দিকে চলে যায়। ইয়াবা পাচারকারীরা তাদের মাথায় থাকা বস্তাগুলো ফেলে দৌঁড়ে পালায় পার্শ্ববর্তী গ্রামের ভেতর। পরবর্তীতে টহলদল ইয়াবা পাচারকারী কর্তৃক ফেলে যাওয়া প্লাষ্টিকের বস্তাগুলো খুলে গণনা করে ৯ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

 

SHARE