Home খেলা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চতুর্থবার অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চতুর্থবার অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত

82
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৩ ফেব্রুয়ারী) :: তাঁর মতো নিষ্ঠাবান ক্রিকেটার ভারতীয় দলে কজন ছিলেন, বলা মুশকিল। কিন্তু তিনি যে একজন নিষ্ঠাবান কোচও তা প্রথম পরীক্ষাতেই প্রমাণ করলেন রাহুল দ্রাবিড়। দেশের জার্সি গায়ে ব্যাট করতে নেমে প্রতিপক্ষের ঢাল হয়ে দলকে রক্ষা করতেন ‘দ্য ওয়াল’।

এবার মিস্টার ডিপেন্ডবলের কাঁধে ভর করেই আরও একবার বিশ্বজয়ী হয়ে গেল তাঁর শিষ্যরা। ২০১১ বিশ্বকাপে ধোনিদের পাশে হাঁটা হয়নি। কিন্তু এদিন পৃথ্বীদের যে অমূল্য উপহার দিলেন, তাতেই হয়তো সেই অভাব পূরণ হয়ে গেল।

গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালটা যেন চোখের সামনে ভাসছিল ভারতীয়দের। গ্রুপ পর্যায়ে বিরাটদের কাছে পরাস্ত হলেও ফাইনালে চমকে দিয়েছিল পাকিস্তান। তাই ভারতীয় সমর্থকদের ভয় ছিল, নিউজিল্যান্ডে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না তো? নাহ, তেমনটা হয়নি। বরং ফিরল ছ’বছর আগের সেই স্মৃতি। যে বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই ধরাশায়ী করে ট্রফি ঘরে তুলেছিল জুনিয়র দল। গ্রুপ পর্বের পর ফের ফাইনালে অজিবাহিনীকে আট উইকেটে হারিয়ে চতুর্থবার বিশ্বসেরা ভারত।

ফেভরিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল ভারত। মাঠ ছাড়লও সেভাবেই। কী অসাধারণ দর্শনীয় ক্রিকেটের সাক্ষী থাকল শুক্রবারের বে ওভালে উপস্থিত দর্শকরা। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত জুনিয়ররা। কাকে ছেড়ে কাকে দেখবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। ঈশান-নাগারকোটিরা যখন একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দিচ্ছেন, তখন ব্যাট হাতে ফাইনালের মঞ্চে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অপরাজিত রইলেন মনজ্যোত কালরা। হার্ভিক দেশাই জয়সূচক বাউন্ডারি হাঁকাতেই ডাগ-আউট থেকে ছুটে আসেন সতীর্থরা। তারপরই শুরু হয়ে যায় সেলিব্রেশন। দশ বছর আগে ঠিক যেভাবে আনন্দে মেতে উঠেছিল বিরাট কোহলি অ্যান্ড কোং। গ্যালারিতে তখন উড়ছে ভারতের বিজয় ঝাণ্ডা। সবচেয়ে বেশিবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্টিভ ওয়ার দেশকেও পিছনে ফেলে দিয়েছেন পৃথ্বী শ’রা। আর এই জয়ের সঙ্গেই জন্ম নিল ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের তারকারা।

গোটা টুর্নামেন্টে অপ্রতিরোধ্য ভারত। প্রথম ম্যাচেই অজিবাহিনীকে হারিয়েছিল একশো রানে। জয়ের ধারা বজায় ছিল জিম্বাবোয়ে, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও। এদিনও হাসতে হাসতেই জিতে গেল দল। ক্রিকেটারদের চোখে-মুখেও কোনও চিন্তার ছাপ ছিল না। আর সেটাই ছিল দলের ইউএসপি। দ্রাবিড় যেন নিজের শান্ত স্বভাবটাই ভরে দিয়েছিলেন শিষ্যদের মধ্যে। আর তাতেই এল সাফল্য। ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কার অর্থ দিয়ে সম্মানিত করা হল কোচ দ্রাবিড়কে। সাপোর্ট স্টাফরা প্রত্যেকে পেলেন ২০ লক্ষ টাকা। আজ শুধুই সেলিব্রেশনের দিন। কারণ আর নয়া ইতিহাস গড়েছে দেশের আগামীরা।

SHARE