Home কক্সবাজার পেকুয়ায় হামলায় জখমী সাংবাদিক পুত্র-কন্যাকে চট্রগ্রাম মেডিকেলে প্রেরন

পেকুয়ায় হামলায় জখমী সাংবাদিক পুত্র-কন্যাকে চট্রগ্রাম মেডিকেলে প্রেরন

72
SHARE

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(৩ ফেব্রুয়ারী) :: পেকুয়ায় হামলায় জখমী দৈনিক কক্সবাজার পেকুয়া প্রতিনিধি ও দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকার পেকুয়া প্রতিনিধি সাংবাদিক মুহাম্মদ হাসেমের পুত্র মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্র রাকিবুল হাসান ওরফে রাফি(১৩) ও বোন রিনা আক্তার(২৭) কে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হামলায় ভাতিজা ও ফুফীর হাড় ভাঙ্গা জখম হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক এ দুজনকে চমেকের অর্থোপেডিক্স বিভাগে রেফার করে।

গত ১ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার মগনামা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়া গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় সাংবাদিক হাসেমের পরিবারের ৯ জন সদস্য আহত হয়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওই এলাকার আহমদ কবির গং ভাড়াটে লোকজন নিয়ে ধারালো অস্ত্র স্বস্ত্র নিয়ে তার বসতবাড়িতে হানা দেয়। সকালে প্রথমে বসতবাড়ির ঘেরা বেড়া ভাংচুর করে। স্থানীয়রা এসে তাদের প্রতিহত করে।

এ সময় স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। দুপুর ১২ টার দিকে এমরান, জামাতা রাশেদ, ভাতিজা আলমগীর ভাড়াটে একাধিক মামলার আসামী নবী হোসেন ,শহিদুল্লাহ, চুরি মামলার আসামী মুহিব্বুল্লাহ, আমানুল্লাহসহ ১০/১৫ জনের লোকজন লাঠি সোটা ও ধারালো অস্ত্র স্বস্ত্র নিয়ে ফের বাড়িতে আক্রমন করে।

এ সময় তারা লাঠি সোটা নিয়ে সাংবাদিক পরিবারের উপর হামলা সংগঠিত করে। এক পর্যায়ে লাঠির আঘাতে সাংবাদিক হাসেমের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কমরুন্নেছা, বোন রিনা আক্তার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সাহিদা আক্তার ও মা শামশুন্নাহারকে আহত করে। তারা ব্যাপক আক্রমাত্মক হন। এক পর্যায়ে ৩ নারীকে লাঠির আঘাতে জখম করে। এ সময় বাড়িতে কোন পুরুষ সদস্য ছিলেন না। হামলার এ খবর ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় সাংবাদিক হাসেমের ৩ ছেলে, ভাতিজা আবদুল্লাহ আল মামুন, এমরান, ভাগিনা শাখাওয়াত, ছালেক, রিফাত, ভাই নজরুল দ্রুত ওই স্থানে যায়। তারা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। এ সময় হামলাকারীরা তাদের উপরও ঝাপিয়ে পড়ে। তারা এলোপাতাড়ি লাঠি ও লোহার রড ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে, পিটিয়ে উদ্ধারকারীদেরও গুরুতর জখম করে।

এ সময় সাংবাদিক হাসেমের ছেলে রাকিবুল হাসান(১৩), ১০ম শ্রেনীর ছাত্র আরিফুল ইসলাম, ৮ম শ্রেনীর ছাত্র আরমান আহত হয়। ভাগিনা ১০ম শ্রেনীর ছাত্র রিফাত, ভাতিজা আবদুল্লাহ আল এমরান আহত হয়। এ সময় সাংবাদিকের মেয়ে ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী সোমাইয়া আক্তার লিলিও আহত হন। রাকিবুল হাসান ও রিনা আক্তারের হাড় ভেঙ্গে যায়।

এ ২ জনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ওই স্থানে যায়। এ সময় দুই হামলাকারীকে আটক করে। সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় গন্যমান্যদের মধ্যস্থতায় মোচলেকা দিয়ে ছাড়া পায় তারা দুইজন।

এ দিকে রাকিবুল হাসান স্কুল থেকে এসে দাড়ানোর মুহুর্তে তাকে হামলা করে তারা। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে টানা হেচড়া করে সাংবাদিক হাসেমের বাড়ি থেকে দক্ষিনে খালের অপর প্রান্তে আহমদ কবিরের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে বাচাতে দ্রুত ছুটে যান। এতে ওই কোমলমতি শিক্ষার্থী নিশ্চিত বড় ধরনের প্রাণনাশ কিংবা অপহরনের মত ঘটনা থেকে বেচে যায়।

রাকিবুল হাসানের মা নাসিমা আক্তার জানায়, তারা আমার ৪ সন্তানসহ এ পরিবারের ৯জনকে আহত করেছে। আহমদ কবির উমেদা খাতুনের জমি কিনেছে। কিন্তু আমার শাশুর আবদুল মাবুদের বসতবাড়ি দখলে নিতে বার বার বর্বর হামলা করছে। তারা আমার শাশুরের দালিলিক কিংবা ওয়ারিশের সম্পর্কের কেউ নয়। আমরা আমাদের জায়গায় বসবাস করছি। আমার ছেলের হাতের আঘাতে ২/৩ রাত ঘুমাতে পারে নি। জখমে ছটপট করছে। কান্নাকাটি করছে।

আমার স্বামী পেকুয়ায় ছিল। শাশুর বাড়ির পুরুষরা লবণের মাঠে ছিল। সকাল থেকে ২ বার তারা আক্রমন করে। শত শত লোকজন তাদের এ হিং¯্র আচরন প্রত্যক্ষ করেছে। অথচ তারা উল্টো মামলার প্রস্তুতি নিতে হয়রানি করার কুমানসে লিপ্ত রয়েছে। আমরা বাঁচতে চাই। আমার ছেলেরা সবাই নিরাপরাধ। এদের উপর নিষ্টুর অমানবিক হামলা করা হয়েছে। বিষয়টি কি সেটি এলাকায় আসলে প্রতীয়মান হবে হামলাকারীরা কত বর্বর ও নিকৃষ্ট।

সাংবাদিক হাসেমের মা শামশুন্নাহার জানায়, এক সময় আহমদ কবির গংদের অত্যাচারে আমরা পিষ্ট ছিলাম। কতবার হামলা হয়েছে আমি ও আমার স্বামীর উপর। সে সময় ছেলেরা ছোট ছিল। আমার বড় মেয়ে মাহাফুজাকে এ ভিটা থেকে বিবাহ দিতে পারে নি। তারা অত্যাচার করত। এখন আমার ছেলেদের উপর করানো হচ্ছে।

 

SHARE