Home কক্সবাজার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে বিদেশী অতিথি ও কূটনীতিকদের আগ্রহ বাড়ছে

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে বিদেশী অতিথি ও কূটনীতিকদের আগ্রহ বাড়ছে

99
SHARE

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৪ ফেব্রুয়ারী) :: বিদেশী অতিথি ও কূটনীতিকদের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আগ্রহ বাড়ছে।

সরেজমিন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলতে আসছেন বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকরা। গত মাসে ইন্দোনেশীয় প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডোর সফরের পর আসছেন সুইস প্রেসিডেন্ট আলাঁ বেরসেত ও  কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত বব রাই।আগামী সপ্তাহে আসবেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা।

এছাড়া চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিপক্ষীয় বিষয়াদি নিয়েও আলোচনা হবে।

সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট আলাঁ বেরসেত চারদিনের সরকারি সফরে দুপুরে ঢাকা পৌঁছেছেন।

সফরকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এসব সাক্ষাতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা করা হবে।

সুইজারল্যান্ডের কোনো প্রেসিডেন্টের এটা বাংলাদেশে প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম অতিথিকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন। পরে সন্ধ্যায় তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আগামীকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলাঁ বেরসেত। এর আগে দুপুরে তিনি বাংলাদেশে সুইস ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সন্ধ্যায় তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ  করবেন।

পরদিন মঙ্গলবার তিনি কক্সবাজারে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন। এছাড়া সফরকালে তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ঢাকা আর্ট সামিট পরিদর্শন করবেন। বুধবার দুপুরে সুইস প্রেসিডেন্ট ঢাকা ত্যাগ করবেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করতে আরো আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত বব রাই। সফরকালে তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন। এর আগে গত ৩ নভেম্বর বাংলাদেশে এসেছিলেন বব রাই। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল শুরু হওয়ার পর কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো তাকে মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগ করেন।

এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন দুই দিনের সফরে ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা আসবেন। তার সফরকালে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যে কার্গোবাহী উড়োজাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। এছাড়া ব্রেক্সিট কার্যকরের পর ব্রিটেনে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখতে ঢাকার পক্ষ থেকে জোরারোপ করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ১৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ১১-১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সফর করবে। সফরকালে ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা রোহিঙ্গাদের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।

কূটনৈতিক একটি সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ রয়েছে। রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরতে চায় কিনা, সে ব্যাপারে মতামত জানতে বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা শরণার্থীদের মনোভাব পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে আসছেন।

SHARE