Home আন্তর্জাতিক কী ঘটতে যাচ্ছে মালদ্বীপে ?

কী ঘটতে যাচ্ছে মালদ্বীপে ?

66
SHARE
Maldivian president Yameen Abdul Gayoom, center, surrounded by his body guards arrives to address his supporters in Male, Maldives, Saturday, Feb. 3, 2018. President Yameen said Saturday that he was willing to hold an early presidential election to allow voters to decide who they want to lead the Indian Ocean archipelago, as political unrest continued to grow after a court ordered the release and retrial of political prisoners.(AP Photo/Mohamed Sharuhaan)

কক্সবাংলা ডটকম(৫, ফেব্রুয়ারী) :: ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে মালদ্বীপের রাজনৈতিক সংকট। বিরোধীরা দাবি করছিলো, প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে দেশকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। গুঞ্জন উঠেছিল তার অভিশংসনের। এই ইস্যুতে বিরোধী জোট রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার পরপরই সেনাবাহিনী পার্লামেন্ট ভবন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

সর্ববিরোধী দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রেসিডেন্টের বিপক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হলেও তা প্রত্যাখ্যান করে রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষে থাকার ঘোষণা দেয় তারা। বিরোধীরা বলছে, দেশটি নিয়মতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। অবশ্য প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বিবৃতিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ বিবৃতিতেও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিচারবিভাগের দ্বন্দ্ব চলমান থাকার আভাস মিলেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তিন দিন আগে সুপ্রিম কোর্ট বিরোধী ৯ নেতার বিরুদ্ধে আনা সরকারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে গত বছর বরখাস্ত হওয়া বিরোধীদের দলের ১২ সংসদ সদস্যকেও পুনর্বহাল করা হয়। কিন্তু সরকার তাতে মোটেও কর্ণপাত করেনি। মালদ্বীপের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন অভিশংসিত হতে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন ওঠে। তবে সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকতা প্রেসিডেন্টের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন।

রবিবার মালদ্বীপের প্রধান আইন কর্মকর্তা মোহামেদ অনিল নিরাপত্তা বাহিনীকে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে অভিশংসনে সুপ্রিম কোর্টের যেকোনও পদক্ষেপকে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান। দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশও বিষয়টিকে সমর্থন করেছে। তার অভিশংসন ‘জাতীয় সংকট’ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা জানান তারা।

অনিল তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের ক্ষমতা কেবল পার্লামেন্টের রয়েছে। কোনও আদালত এটা করতে পারে না। আর পার্লামেন্টেও তা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হতে হবে। তাই আদালত এমন উদ্যোগ নিলে তা দেশটির সংবিধানের লঙ্ঘন হবে।

তিনি বলেন, মালদ্বীপের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আমি ঘোষণা করছি যে, সুপ্রিম কোর্টের নিজ উদ্যোগে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের কোনও নির্দেশ বা রায় বৈধ কাঠামো বা সংবিধানের আওতায় পড়ে না। আমি খুব পরিষ্কারভাবে জানতে পেরেছি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এমন কোনও আদেশ মানবে না।’

যৌথ বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ সিয়াম ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লা নওয়াজ বলেন, পুলিশ ও সামরিক বাহিনী এমন কিছু হতে দেবে না যাতে দেশে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ে। তারা দুজনই আশ্বস্ত করেন যে, তাদের বাহিনী এমন অসাংবিধানিক নির্দেশ মানবে না আর নিরাপত্তা বাহিনীও অ্যাটর্নি জেনারেলের উপদেশ মেনে চলবে।

অ্যাটর্নি  জেনারেলের এই ঘোষণার আগে সোমবার শুরু হতে যাওয়া বছরের প্রথম অধিবেশন বাতিল করা হয়। অধিবেশন বাতিলের খবরের পরই রবিবার সকালে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব আহমেদ মোহাম্মদ।

পদত্যাগ করেন উপসচিবসহ অন্য কর্মকর্তাদের একাংশও। সাবেক রাষ্ট্রপতি মামুন আবদুল গাইয়ুমের প্রশাসনে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করা আহমেদ মোহাম্মদ মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমগুলোকে পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেন।

দ্য সানকে তিনি পদত্যাগের পেছনে ব্যক্তিগত কারণের কথা বললেও পার্লামেন্টের সাবেক ডেপুটি স্পিকার মোহাম্মদ শহীদ দাবি করেছেন, আইন অনুযায়ী কাজ করতে না পারায় পদত্যাগ করেছেন আহমেদ মোহাম্মদ।

এক পর্যায়ে বিরোধী জোট শীর্ষ আইন কর্মকর্তা এবং প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। তবে এর কিছুক্ষণের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে সেনাবাহিনী। প্রেসিডেন্টের পক্ষে অব্স্থান নিয়ে তারা  পার্লামেন্ট  ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সিলগালা করে দেয়।

সাবেক স্পিকার আব্দুল্লাহ শহীদ এবং বিরোধী নেতা মোহাম্মদ সলিহ জানিয়েছেন, দেশটি নিয়মতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।  গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে সরকার প্রধান বিচারপতি আবদুল্লা সায়িদ ও বিচারপতি আলী হামিদকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার পর গ্রেফতার করতে পারে। প্রধান বিচারপতির আত্মীয়স্বজনকে আইনি হয়রানিরও অভিযোগ ওঠে।

তবে এক পর্যায়ে মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যম মালদ্বীপ টাইমস দেশটি প্রধান বিচারপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, সরকার তাদের পদত্যাগের আহ্বান বা গ্রেফতারের হুমকি দেয়নি।

পার্লামেন্টে সেনানিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অল্প কিছু সময় পরে প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট পদটিকে মালদ্বীপের শীর্ষ পদ উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ ইয়ামিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নাগরিকদের তার ওপর ভরসা রাখার আহ্বান জানান। সে সময় তিনি আশ্বস্ত করেন, আইন অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ঝিনহুয়ার খবরে ওই বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, নিজের ও বিরোধীদের জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্য তিনি আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে আনতে প্রস্তুত রয়েছেন ।

ইয়ামিন আরও উল্লেখ করেন, তার প্রশাসন এখন রায়গুলো সঠিক নিয়ম ও প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করছেন।

তবে মালদ্বীপের সবশেষ পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট ও সরকারের দ্বন্দ্ব চলমান থাকারই আভাস মিলেছে। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, ওই ১২ জন সংসদ সদস্যকে পুনর্বহাল করার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের আইনগত বাধা মালদ্বীপে নেই। একইসঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশটির বিচার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার বাড়িতে অভিযান চালানোর একদিনের মাথায় তার গ্রেফতারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

SHARE