Home আন্তর্জাতিক মালদ্বীপে মুখোমুখি আদালত ও সরকার : স্থগিত পার্লামেন্ট

মালদ্বীপে মুখোমুখি আদালত ও সরকার : স্থগিত পার্লামেন্ট

69
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৫ ফেব্রুয়ারী) :: দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে আদালত ও সরকার মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদের সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচার করাকে হাইকোর্টে শুক্রবার অবৈধ ঘোষণা এবং বিরোধী ১২ এমপিকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেয়।

এর বিপরীতে সরকারও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দেশটির পার্লামেন্টের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের বন্ধ করে দিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, সরকার পার্লামেন্ট বন্ধ ঘোষণা করেই নীরব থাকেনি। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনকে গ্রেফতারে আদালতের যেকোনো পদক্ষেপ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে দেশটির বিরোধী দল মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির ১২ এমপিকে মুক্তি দেওয়ায় এখন তারাই পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। তবে ওই ১২ জনের মধ্যে নয়জন দেশে কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন এবং বাকিরা স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান।

মালদ্বীপ সরকারের আশঙ্কা, সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনকে গ্রেফতার বা অভিশংসনের নির্দেশ দিতে পারেন।

তবে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহামেদ অনিল জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা বা গ্রেফতারের যেকোনো উদ্যোগ বেআইনি হবে।

রবিবার অ্যাটর্নি জেনারেল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘আমরা এমন কিছু ঘটনা ঘটার ইঙ্গিত পেয়েছি, যা জাতীয় নিরাপত্তাকে সঙ্কটের মুখে ফেলে দেবে।

ওই তথ্যানুযায়ী, খুব সম্ভবত সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার বা অভিশংসনের নির্দেশ দিতে পারেন। যদি তা-ই হয়, তাহলে সেটা অসাংবিধানিক হবে এবং সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরণের ঘটনা কিছুতেই ঘটতে দেবে না।’

অন্যদিকে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা একটি অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের তাদের প্রাণের বিনিময়ে হলেও সরকার রক্ষার শপথ নিতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এদিকে মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির মুখপাত্র হামিদ আব্দুল গফুর বলেন, পুলিশ শনিবার রাতভর প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ দুই বিচারককে গ্রেফতারের চেষ্টা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকারকে অন্যায়ভাবে বিচার বিভাগের দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রসঙ্গত, সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে ২০১৫ সালে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নাশিদকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয় দেশটির আদালত। কিন্তু

আন্তর্জাতিক অঙ্গন ওই রায়ের তীব্র সমালোচনা করে এবং যুক্তরাজ্য নাশিদকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। বর্তমানে তিনি শ্রীলঙ্কায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন।

SHARE