Home শীর্ষ সংবাদ খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণাকে ঘিরে র‌্যাব-পুলিশের ঘুম হারাম

খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণাকে ঘিরে র‌্যাব-পুলিশের ঘুম হারাম

67
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৬ ফেব্রুয়ারী) :: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে পুলিশের চোখে ঘুম নেই। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজধানীসহ সারাদেশে চোখ রাখছে পুলিশ। পুলিশের সবকটি ইউনিটকে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা কার্যক্রম।

৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পরে সেজন্য বার্তা দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬ মেট্টোপলিটনসহ দেশের ৬৩৩টি থানায় আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশ, বিট পুলিশ, সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে বৈঠকে সব ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি শুরুতেই প্রতিরোধ করতে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পুলিশের প্রায় দুই লাখ সদস্য মাঠে থাকবে। বিশেষ কারণ ছাড়া ছুটি না নিতে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বলা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি, এপিবিএন সদস্যরা সমন্বয় করে কাজ করবে। রায় ঘিরে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে এপিসি ও জল কামান। বিশেষ করে রাজধানী ঘিরে এরইমধ্যে বাড়তি নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ। যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে সারা দেশের পুলিশ সুপারদের (এসপি) নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

নির্দেশনাগুলো হলো- যেসব স্থানে আগে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে সেসব স্থান চিহ্নিত করা করে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা। থানাসহ পুলিশের সব স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানো, পুলিশের সব সিসি টিভি ক্যামেরা সচল রাখা, টহল বা অভিযানে পুলিশ সদস্যরা একা না গিয়ে একসঙ্গে টহল দেয়া।

নির্দেশনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ক্যামেরা রাখতে বলা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তারা ছবি তুলে রাখতে পারবেন।

৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট, মৎস্যভবন ও পুরান ঢাকার বকশীবাজারে প্রস্তুত থাকবে অতিরিক্ত পুলিশ, টহল দেবে র‌্যাব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, খালেদা জিয়া রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে জনগণই তা প্রতিহত করবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, পুলিশের প্রধান দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া। পুলিশ দৃঢ়তার সঙ্গে এ কাজ করে যাচ্ছে। যাতে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা থাকে সেজন্য পুলিশ সবসময় প্রস্তুত থাকে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোনো অরাজকতা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। পূর্বের কোনো ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হতে দেয়া হবে না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন বলেছেন, ৮ ফেব্রুয়ারি যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে পুলিশ সেদিকে সজাগ রয়েছে।

সূত্র মতে, গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে মেস ও আবাসিক হোটেল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার রায়ের তারিখ ঘোষণার দিন থেকেই মেস ও হোটেলগুলোতে নজরদারি শুরু হয়েছে। পুলিশের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী হোটেলে আগত অতিথিদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে রুম বুকিং দেয়া হচ্ছে কি না এসব নজরদারি করছেন গোয়েন্দারা।

এ ছাড়াও ফেসবুকে বিভিন্ন পেইজ এবং কোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা হচ্ছে কিনা সেগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে। থানা পুলিশ স্ব স্ব এলাকার মেসগুলোতে গিয়ে ভাড়াটিয়া ছাড়া অন্য কেউ থাকছেন কি না তা নজরদারি করছে। নবাবপুর, হাইকোর্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পল্টন, ফকিরাপুলসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, নজরদারির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে হোটেলগুলোতে অতিথির নাম-ঠিকানা লেখা, ছবি তোলা, এনআইডি, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি, ফোন নম্বর রাখা ও ফোন দিয়ে নম্বর যাচাই করাসহ ৮টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হোটেলগুলো নির্দেশনামাফিক কাজ করছে কি না তা নজরদারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফর্মে দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়িগুলোতে ভাড়াটিয়ারা থাকছেন কি না সেটিও খেয়াল রাখা হচ্ছে।

পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম (সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং) বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে সবসময়ই পুলিশের নজরদারি থাকে।

SHARE