Home কক্সবাজার চকরিয়া-পেকুয়াকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ চিহিৃত : নাশকতা ঠেকাতে র‌্যাব-বিজিবি-পুলিশের ৪’শতাধিক সদস্য মাঠে

চকরিয়া-পেকুয়াকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ চিহিৃত : নাশকতা ঠেকাতে র‌্যাব-বিজিবি-পুলিশের ৪’শতাধিক সদস্য মাঠে

40
SHARE

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া(৭ ফেব্রুয়ারী) :: বৃহস্পতিবার বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে কক্সবাজারের দুটি উপজেলা চকরিয়া ও পেকুয়ায়। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাড়ি এই সংসদীয় আসনে হওয়ায় কক্সবাজারের মধ্যে চকরিয়া-পেকুয়াকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহিৃত করা হয়েছে।

ফলে, জেলার প্রতিটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এখন চকরিয়া-পেকুয়ার দিকে। এতে এই দুই উপজেলায় বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সম্বনয়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘোষনা করা হয়েছে জিরো টলারেন্স।

প্রশাসনের পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পুরোদিন প্রশাসনকে সহায়তায় মাঠে অবস্থান করবে বলে নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলম।

৮ ফেব্রুয়ারীকে ঘিরে বিএনপি’র অনেকেই সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে নানা মন্তব্য লেখায় তাদের টার্গেট করেই পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তেমনি ভাবে কড়া স্ট্যাটাস দেয়ায বুধবার দুপুরে আটক করা হয়েছে উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংঘঠনিক সম্পাদক কায়সার হামিদকে। এছাড়া আটক করা হয় কৈয়ারবিল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মহিম উদ্দিন ও হারবাং ইউনিয়নের জামায়াত নেতা আনোয়ার আলীকে। এর আগে বিএনপি ও শিবিরের আরো ৫ নেতা-কর্মীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো.মতিউল ইসলাম বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারীকে ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে গতকাল ৭ফেব্রুয়ারী বুধবার থেকেই চকরিয়া-পেকুয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোন উপায়ে নাশকতা ঠেকাতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও ব্যাটলিয়ন আনসার বাহিনীর সদস্যরা দু’উপজেলার স্টেশনসহ মহাসড়ক, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে অবস্থান টহল ছাড়াও নাশকতা করতে পারে এমন ব্যক্তিদের সনাক্ত করে তাদের আটক করতে অভিযান চলছে।

এএসপি মতিউল আরো বলেন, বৃহস্পতিবার চকরিয়া-পেকুয়ায় নিরাপত্তা নিবিঘœ রাখতে কক্সবাজার জেলা অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুলের নেতৃত্বে চকরিয়ায় পুলিশের ৫০ সদস্য ও পেকুয়ায় পুলিশের ৩০ সদস্য এসেছে বুধবার দুপুরে। এছাড়া র‌্যাব কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মো,রুহুল আমিনের নেতৃত্বে চকরিয়ায় ৪০জন ও পেকুয়ায় ২০ জন র‌্যাব সদস্য, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডয়ের (বিজিবি)’র ২৫ সদস্য চকরিয়ায়, ২০ সদস্য পেকুয়ায় এবং চকরিয়ায় ব্যাটলিয়ন আনসার বাহিনীর ২০ সদস্যকে এনে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান ও টহলে নিয়োজিত করা হয়েছে।

র‌্যাব ও বিজিবি পৌরশহরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ও প্রশাসনিক এলাকায় অবস্থানের পাশাপাশি মোবাইল ডিউটিতে থাকবে। জেলা থেকে আসা পুলিশসহ দু’থানার দুই শতাধিক পুলিশ সদস্য টহলের পাশাপাশি চকরিয়া পৌরশহর, জিদ্দাবাজার, বানিয়ারছড়া, বরইতলী নতুন রাস্তার মাথা, হারবাং, ফাঁসিয়াখালী, মালুমঘাট, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, পেকুয়ার চৌমুহনী, পেকুয়া বাজার, মগনামা ঘাট ছাড়াও দু’উপজেলার আঞ্চলিক সড়ক কেন্দ্রীক স্টেশনগুলোতে অবস্থান নেবে। এসময় কয়েকজ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে থাকবেন।

এএসপি আরো বলেন, এই দু’উপজেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ভুমিকা থাকবে জিরো টলারেন্স। কোনভাবেই নাশকতা করতে দেয়া হবেনা। যারাই নাশকাতর চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি’র দুইজন নেতা বলেছেন, প্রশাসন অহেতুক আমাদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। গণগ্রেপ্তারে নেমেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের উপর নির্ভর করছে আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি। যদি সাজা হয়, তাহলে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাবে। তখন রাজপথে নামা ছাড়া কোন উপায়-অন্ত থাকবেনা।

এদিকে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলম বলেন, প্রশাসনের নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি চকরিয়া-পেকুয়ায় আওয়ামীলীগ,যুবলীগ, ছাত্রলীগ ছাড়াও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মাঠে থাকবে। দায়িত্ব থাকবে প্রশাসনকে সহযোগীতা করা।

SHARE