Home কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন : মিয়ানমারকে প্রথম পর্যায়ের তালিকা দেবে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন : মিয়ানমারকে প্রথম পর্যায়ের তালিকা দেবে বাংলাদেশ

72
SHARE

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৬ ফেব্রুয়ারি) :: কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ দিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই মিয়ানমারকে প্রথম পর্যায়ের তালিকা দেবে বাংলাদেশ। তবে এ পর্যায়ে ঠিক কতজনের তালিকা দেওয়া হবে সেটি এখনো ঠিক হয়নি। বর্তমানে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচআরের সঙ্গে তথ্য সমন্বয়ের কাজ চলছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ৬ ফেব্রুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এমনটাই আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬ জানুয়ারির বৈঠকে প্রতিটি পরিবারকে একটি ইউনিট ধরে তথ্য সরবরাহের শর্ত দেয় মিয়ানমার।

সেই শর্তপূরণেই ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। কারণ এ সংস্থাটিই প্রতিটি পরিবারকে একটি ইউনিট ধরে ডাটাবেজ তৈরি করেছে। আর বাংলাদেশ সরকার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করেছে প্রতি রোহিঙ্গাকে আলাদা আলাদা ধরে।

সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ তার প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে একটি স্থলপথে ও একটি নৌপথে ক্যাম্প তৈরির প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে। প্রত্যাবাসনের জন্য যাদেরকে নির্বাচিত করা হবে, প্রাথমিকভাবে তাদেরকে সেখানেই রাখা হবে। এর পরই মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হবে তালিকাকৃতদের।

এদিক ৬ ফেব্রুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে দুটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি কমিটি হবে প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত এবং অন্যটি তথ্য যাচাই-বাছাই নিশ্চিত সংক্রান্ত। এছাড়া পরিবারহীন শিশু এবং যেসব শিশু বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছে তাদের নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য আদালত গঠনের কাজও চলছে।

কারণ চুক্তির ৬(এ) ধারা অনুযায়ী, যেসব রোহিঙ্গা পরিবার থেকে আলাদা হয়ে গেছে কিংবা পরিবারের সদস্যরা ফেলে গেছেন এবং এতিমদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আদালতের সনদ লাগবে। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুরা অবশ্যই মিয়ানমারের অধিবাসী। তবে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আদালতের সনদ লাগবে।

গত বছরের ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে ‘এগ্রিমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেস পার্সন ফ্রম রাখাইন স্টেট’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষর করে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ।

চুক্তির ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গত ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর কথা ছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় সেটি শুরু হয়নি। অবশ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সর্বশেষ বৈঠকে রোহিঙ্গাদের বিস্তারিত তথ্য পেতে একটি ফরম চূড়ান্ত করে মিয়ানমার।

ওই ফরম অনুযায়ী বাংলাদেশ তথ্য দিলে সেটি যাচাই-বাছাই করবে দেশটি। এ জন্য অবশ্য তারা দুই মাস সময় পাবে।

ইউএনএইচসিআর জানায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পাশবিক নির্যাতনে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর প্রচুর রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। গত ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ লাখ ৬১ হাজার ৩২৮ রোহিঙ্গা গণনা করা হয়েছে। আর তাদের পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৯টি। এখন পর্যন্ত সংস্থাটি ৭২ শতাংশ রোহিঙ্গাকে গণনার আওতায় আনতে পেরেছে বলে দাবি তাদের।

তবে এ গণনায় কুতুপালং ও বালুখালীতে ইউএনএইচসিআরের পূর্বের ক্যাম্পের ৩৩ হাজার ৫৩৮ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ইউএনএইচসিআর তথ্য বিনিময় করবে।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে উপস্থিত আরেকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি এবং ফরম পূরণের কাজ পুরোদমে চলছে। সরকারের কাছে নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের তালিকার সঙ্গে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার তালিকা সমন্বয় করে এটি করা হচ্ছে। এছাড়া, রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই টেকনিক্যাল কমিটি এবং প্রত্যাবাসন টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

তালিকা হস্তান্তর কবে নাগাদ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি মাঠ পর্যায়ের কাজ এবং  দ্রুততার সঙ্গে তা করা হচ্ছে। গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আমাদের কিছুটা সময় দরকার এবং রাখাইনের পরিবেশ উন্নয়নের জন্যও সময় দরকার।’

উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি দুদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের তালিকা হস্তান্তরের দুমাসের মধ্যে মিয়ানমার  তাদের মতামত জানাতে চেষ্টা করবে। এরপর একমাসের মধ্যে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু হলে এপর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এর আগে থেকে আরও  প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করে আসছে।

SHARE