Home বিনোদন সংগীতজগতে অ্যালবাম যুগ কি তবে শেষ হলো ?

সংগীতজগতে অ্যালবাম যুগ কি তবে শেষ হলো ?

137
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৭ ফেব্রুয়ারি) :: স্ট্রিমিংয়ের যুগে সংগীতজগতে অনেক মৌলিক পরিবর্তন ঘটে গেছে। পরিবর্তন না বলে একে পতনও বলা যায়। ক্যাসেট, সিডি বা অ্যালবামের পতন। এখন আর দর্শকরা পছন্দের শিল্পী বা ব্যান্ডের নতুন সিডি কিনতে দোকানে লাইন ধরেন না।

ইউটিউবে এখন কেবল হিটের হিসাব। আর গান তো ডাউনলোড হয়ে আছে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে। দুনিয়াজুড়ে বড়-ছোট সব ধরনের রেকর্ড কোম্পানি নতুন নতুন প্রযুক্তির যুগে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে।

একসময় এসব কোম্পানি ক্যাসেট বা সিডি প্রকাশ করে ধুন্ধুমার ব্যবসা করত। ভক্তদের মাঝে তর্ক হতো কার প্রিয় সংগীতশিল্পীর কত বেশি ক্যাসেট বা সিডি বিক্রি হয়েছে। সেসব এখন অতীত। একসময় যেখানে হাজার বা লক্ষ কপি অ্যালবাম বিক্রি হতো, সেখানে এখন অ্যালবামই প্রকাশ করা হয় না।

উদাহরণস্বরূপ দেসপাসিতো গানটিকে বিবেচনা করা যেতে পারে। গানটি ছিল দুনিয়াজুড়ে ২০১৭ সালের অন্যতম কিংবা বলা যায় সবচেয়ে জনপ্রিয় গান। গানটি বহু সপ্তাহ ধরে চার্টের শীর্ষে ছিল। কিন্তু এটা একটা সিঙ্গেল, এটি কোনো অ্যালবামে প্রকাশ হয়নি। তাহলে সেই দুনিয়া কাঁপিয়ে দেয়া অ্যালবামের বাজারের কী হলো?

২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে যে পরিমাণ সংগীত উপভোগ করা হয়েছে, তার ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে হয়েছে। অথচ আগের বছর ২০১৬ সালেই এর পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

দুনিয়ার সংগীত শিল্পের বাজারের মোট এক-তৃতীয়াংশ চাহিদা এখন পূরণ করে সিডি বা অন্য কোনো বস্তুগত মাধ্যম। বাকিটা অনলাইন বা ডিজিটাল ডাউনলোড। তবে ফ্রান্সে সিডির বাজার একটু ভালো অবস্থায় আছে। দেশটিতে এখনো সংগীতবাজারের ৪৫ শতাংশ সিডির ওপর নির্ভরশীল। সিডি, ক্যাসেটের হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পীদের উত্থান, সেরা অ্যালবাম ধারণাগুলোও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে এ অ্যালবামগুলো ছিল রেকর্ডিং কোম্পানিগুলোর আর্থিক লাভের প্রধানতম উপায়। অনলাইন মিউজিক ম্যাগাজিন পিচফর্ক বলছে, এ পরিবর্তন গতি পেয়েছে গত কয়েক বছরে। ম্যাগাজিনটি বলছে, ‘এ ডিজিটাল যুগে শ্রোতারা নিজেদের ইচ্ছামতো সেরা গানের অ্যালবাম তৈরি করে নেন।’

তাহলে সংগীত অ্যালবামের বাজার কি মৃত? না সেটা এখনো বলার সময় আসেনি। আগে অ্যালবাম তৈরি হতো সব ধরনের শ্রোতার কথা মাথায় রেখে। এক্ষেত্রে মূলত জনপ্রিয় গানকেই গুরুত্ব দেয়া হতো। কিন্তু এখন ডিজিটাল যুগে জনপ্রিয় গান নিয়ে আর রেকর্ড বিক্রি সম্ভব নয়, কারণ সবকিছু অনলাইনেই ডাউনলোড হয়ে যাচ্ছে।

এখন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সেসব শ্রোতাকে যারা সমঝদার। যারা হয়তো একটু ভিন্ন কিছু, ভিন্ন আঙ্গিকে খুঁজছেন। এখন অ্যালবামের সঙ্গে দেয়া হচ্ছে শিল্পীর জীবনী এবং তার দুর্লভ ছবি। এবং সিডির এগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়, তাই শৌখিন শ্রোতারা এ ধরনের অ্যালবাম বা সংকলন নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

রেকর্ডিং কোম্পানি চেরি রেড প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সত্তরের দশকে পাংক আর নিউ ওয়েভের যুগে। এখন প্রতিষ্ঠানটি পুরনো সময়ের বিভিন্ন ঘরানার গানের সংকলন প্রকাশ করছে। বিভিন্ন থিম সামনে রেখে সংকলন প্রকাশ করা হচ্ছে। অন্যদিকে এসব সংকলনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ইতিহাসও তুলে ধরা হচ্ছে।

চেরি রেডের চেয়ারম্যান লেন ম্যাকনে বলেন, বাজার এখন বদলে গেছে। অ্যালবামকে এখন আরো বিশদ হতে হয়। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এখন সিডিতে দু-তিনটি বোনস ট্র্যাক রাখছি, থাকছে শিল্পী বা ব্যান্ডের ওপর পুস্তিকা। তাই এখন শ্রোতারা অ্যালবাম কিনলে কিছু বিশেষ জিনিস পাচ্ছেন।’

লেন ম্যাকনে আশাবাদী, এ ডিজিটাল যুগেও অ্যালবামের ভবিষ্যৎ আছে। তিনি মনে করেন, মানুষ এখনো দোকানে গিয়ে প্রিয় শিল্পীর সিডি কিনতে ভালোবাসেন। সবাই স্ট্রিমিংয়েই সন্তুষ্ট থাকেন না। দর্শকরা কেবল চান গানের সঙ্গে আরো কিছু থাক। তাই শিল্পীর দুর্লভ ছবি, লেখা নিয়ে কোনো পুস্তিকা থাকলে তারা সহজে সেই অ্যালবামের প্রতি আকৃষ্ট হন।

SHARE