Home কক্সবাজার কক্সবাজারে বিএনপির ঘাটি চকরিয়া-পেকুয়ায় আত্মগোপনে নেতা-কর্মীরা : মাঠ দখলে আ.লীগ ও যৌথ...

কক্সবাজারে বিএনপির ঘাটি চকরিয়া-পেকুয়ায় আত্মগোপনে নেতা-কর্মীরা : মাঠ দখলে আ.লীগ ও যৌথ বাহিনী

50
SHARE

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া(৮ ফেব্রুয়ারী) :: অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর ও তার ছেলে তারেক জিয়াসহ অপর পাঁচজনের দশ বছর করে সাজা প্রদান করেছে আদালত। এই রায়কে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে কক্সবাজার জেলার দুটি উপজেলা চকরিয়া ও পেকুয়ায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাড়ি পেকুয়ায় হওয়ায় সংসদীয় আসন কক্সবাজার-১ চকরিয়া-পেকুয়ায় খালেদা জিয়ার সাজা হলে ব্যাপক সংঘর্ষের আশংকা করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়াও রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তিরা। খালেদা জিয়ার রায়ের পূর্বাপর অনাকাঙ্খকিত ঘটনা না ঘটলেও আতংকে সড়কে পরিবহণ চলাচল ছিল সীমিত।

এতে জেলার আট উপজেলা মধ্যে চকরিয়া-পেকুয়াকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে র‌্যাব-বিজিবি-পুলিশ ও আনসার ব্যাটলিয়নের সম্বনয়ে দু’উপজেলার অর্ধ শতাধিক পয়েন্টে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলা হয়। পাশাপাশি আওয়ামীলীগ ও তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও রাজপথে ছিল নাশকতা ঠেকাতে। কিন্তু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপি বা তাদের সহযোগী সংগঠনের কোন নেতা-কর্মী মাঠে নামেনি।

নেতারা আত্মগোপনে থাকায় কর্মী-সমর্থকরা ঘর থেকেই বের হয়নি। টানা তিনদিন পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হানা ও পথে দেখলেই ধাওয়া দিয়ে ভীতি ছড়াতে পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি।

চকরিয়া ও পেকুয়ার একটি পৌরসভা ও ২৫টি ইউনিয়নে র‌্যাব-বিজিবি ও পুলিশের মোবাইল টিম টহলে ব্যস্থ ছিল পুরোদিন। তাদের সাথে ছিল কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। থানা ও ফাঁড়ি পুলিশের সাথে জেলা থেকে পাঠানো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল স্টেশন এলাকাগুলোতে। একই সাথে অন্তত ত্রিশটি স্টেশনে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ শাসক দলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। প্রতিটি পয়েন্টে গিয়ে কর্মীদের উৎসাহিত করেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আলম ও সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে আওমীলীগের নেতারা। এমনকি বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়া কর্মীদের খাবারও জোগান দেন আ.লীগ সভাপতি জাফর আলম।

বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শনকালে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আলম বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ পরপর তিনবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ক্ষমতাসীন অবস্থায় দুর্নীতি করা ঘটনায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর ও তার ছেলে তারেক রহমানের দশ বছর সাজার মাধ্যমে সেই দুর্নীতির অবয়ব প্রকাশ পেল।

অতিতে জামায়াত বিএনপি’র কোন নেতা গ্রেপ্তার বা সাজা হলে জেলা মধ্যে চকরিয়া-পেকুয়ায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাই এবার জেলা প্রশাসন এই দুই উপজেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহিৃত করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়।

চকরিয়া সার্কেলের এএসপি কাজী মো.মতিউল ইসলাম বলেন, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান, পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.জহিুরুল ইসলাম খান, ওসি তদন্ত মঞ্জরুল কাদের মজুমদার, কক্সবাজার মডেল থানার ওসি তদন্ত মো.কামরুল আজমের নেতৃত্বে দুই উপজেলায় তিন শতাধিক পুলিশ ও শতাধিক র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যরা অবস্থান ও টহলে থাকায় কোন ধরনের অনাকাংখিত ঘটনা ঘটেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি ও যুবদলের বেশ কয়েকজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খোদ দলের প্রধান সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারান্তরীন হলেও চকরিয়া-পেকুয়ার বিএনপি সভাপতি-সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা মাঠে ছিলনা। তারা কোন কর্মীকে দিকনির্দেশনা দেয়নি। কেউ চট্টগ্রামে আবার কেউ অজানা স্থানে আত্মগোপনে চলে যায়। ফলে, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠণের নেতা-কর্মীরা সিদ্বান্তহীনতার কারণে আন্দোলন করতে মাঠে নামেনি।

SHARE