Home জীবনযাত্রা বিষণ্নতায় কার্যকর ভূমিকা রাখে ডিম

বিষণ্নতায় কার্যকর ভূমিকা রাখে ডিম

174
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১০ ফেব্রুয়ারি) :: দৈহিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখায় ডিমের উপযোগিতা সম্পর্কে কারো সন্দেহ নেই। সাম্প্রতিক বেশ কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে, মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্যও নিয়মিত ডিম খাওয়া উচিত। এসব গবেষণার ফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিষণ্নতার মতো মানসিক ব্যাধি কাটানোর ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে ডিম।

খবর কনশাস লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন।

ডিম তথা ডিমের কুসুম সম্ভবত বিষণ্নতা প্রতিরোধে সবচেয়ে শক্তিশালী খাবার হিসেবে কাজ করে। ডিমে এমন কিছু খাদ্য উপাদান রয়েছে, যা মস্তিষ্কের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ও নিউরোট্রান্সমিটার (মস্তিষ্কের ভেতর সংকেত বিনিময়কারী রাসায়নিক পদার্থ) বৃদ্ধিকারী পুষ্টি উপাদানে (যেমন— লেসিথিন, কোলিন ও কোলেস্টেরল) ভরপুর।

ভিটামিন বি১২ ও বায়োটিনের মতো মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোয় সহায়ক পুষ্টি উপাদানেরও অনেক বড় উৎস ডিম। এছাড়া উচ্চমাত্রার প্রোটিন সরবরাহের মাধ্যমেও আমাদের দৈহিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে ডিম।

ডিমে অবস্থিত মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারবর্ধক পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কোলিনের কাজ হলো— মস্তিষ্কে এসেটিকোলিনের পরিমাণ বাড়ানো। এসেটিকোলিন হলো এক ধরনের নিউরোট্রান্সমিটার, যা আমাদের উৎসাহী মনোভাব ও মানসিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি গোটা স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

দেহে ফসফ্যাটিডাইলসেরিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক উপাদানের সরবরাহ বাড়ায় লেসিথিন নামে ডিম থেকে পাওয়া আরেক ধরনের পুষ্টি উপাদান। দেহে কর্টিসেলের (এক ধরনের উদ্দীপক হরমোন।

মানসিক চাপের ক্ষেত্রে এটির নিঃসরণ বাড়ে। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ানোয়ও এর অবদান রয়েছে) নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি অনিদ্রা ও উদ্বেগ দূর করা এবং সার্বিকভাবে মানসিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোয় অবদান রাখে ফসফ্যাটিডাইলসেরিন।

বিষণ্নতা প্রতিরোধে কার্যকর খাবার হিসেবে ডিমের উপযোগিতাকে বাড়িয়ে তুলেছে এতে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাটের প্রাচুর্য। মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্বেগ দূর করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এছাড়া স্নায়ুর সুরক্ষা দিতে মাইলিন শিয়েথিং নামে এক ধরনের প্রক্রিয়া চালু করার ক্ষেত্রেও বেশ গুরুত্ববহ উপাদান স্যাচুরেটেড ফ্যাট।

খাদ্যতালিকায় স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ যথার্থ অনুপাতের চেয়ে কম হলে তা বিষণ্নতা ও উদ্বেগ সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সে হিসেবে অন্তত মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা দেয়ার জন্য হলেও আমাদের প্রতিদিন কমপক্ষে অন্তত একটি ডিম বা ডিমের কুসুম খাওয়া উচিত।

SHARE