Home শীর্ষ সংবাদ রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন খুবই উদ্বেগজনক : জাতিসংঘ

রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন খুবই উদ্বেগজনক : জাতিসংঘ

65
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১০ ফেব্রুয়ারি) :: মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সংস্থায় আসা সর্বশেষ প্রতিবেদনকে খুবই উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘ মহাসচিবের সহকারী মুখপাত্র ফারহান হক শুক্রবার এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সর্বশেষ প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। এর বিস্তারিত তথ্যগুলো খুবই উদ্বেগজনক।’

তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর ওপর হামলা নিয়ে যে কর্তৃপক্ষের পরিপূর্ণ তদন্ত করা প্রয়োজন তা ওই প্রতিবেদনের ফলাফলের মাধ্যমে আবারো প্রমাণ হয়েছে।

‘আটক দুই সাংবাদিককে মুক্তি দিতে আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব। আর এবিষয়ে আমরা চাপ দিয়ে যাচ্ছি,’ যোগ করেন সহকারী মুখপাত্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে বৌদ্ধ গ্রামবাসী ও মিয়ানমারের সৈন্যরা মিলে ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে হত্যা করে সবাইকে একটি কবরে মাটিচাপা দেয়।

বাংলাদেশে সফররত ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন শুক্রবার বলেছেন, হতভাগ্য রোহিঙ্গারা যে ভোগান্তিতে রয়েছেন তা তাদের সময়ের সবচেয়ে মারাত্মক মানবিক দুর্যোগ।

তিনি বলেন, ‘এটা মানবসৃষ্ট বিপর্যয়। সংশ্লিষ্ট সবার সঠিক রাজনৈতিক ইচ্ছা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে এর সমাধান হতে পারে।’

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার সকালে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন এবং রোহিঙ্গারা যে ভয়াবহতার মাঝ দিয়ে গেছেন তার বর্ণনা শুনেন এবং দেখেন।

এই ভয়ংকর সংকট সমাধানে কেমন করে একসাথে কাজ করা যায় তা নিয়ে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ আঞ্চলিক নেতাদের সাথে কথা বলবেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন উ জানান, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও সম্মানের সাথে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমার ভালো প্রতিবেশীসূলভ মনোভাব নিয়ে সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের সাথে কাজ করছে।

‘প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্ব দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা উচিত,’ বলেন রাষ্ট্রদূত।

মিয়ানমারের দূত লুইন উ আরো বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থীরা সভ্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি। আমরা সন্ত্রাসবাদকে কোনোভাবে মেনে নিতে পারি না।

তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে যুদ্ধে করতে রাখাইন রাজ্যের গ্রাম থেকে আসা মানুষদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের দলে নিয়োগ করা হয়েছিল।

মিয়ানমার ও বাংলাদেশ যৌথভাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন হতে পারে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সহযোগিতার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ছয় লাখ ৮৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তাদের ফিরিয়ে নিতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সই হওয়ার পরও এখনো রোহিঙ্গাদের আগমন অব্যাহত রয়েছে।

SHARE