Home মিডিয়া সাংবাদিকদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন শিথিল হচ্ছে

সাংবাদিকদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন শিথিল হচ্ছে

142
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১৮ ফেব্রুয়ারি) :: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যেখানে সাংবাদিকদের কাজের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় সেখানে প্রয়োজনে উপধারা যুক্ত করা হবে। এটা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।

রবিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আমি যখন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম সেখানে একজন সাংবাদিক আমাকে বলেছিলেন ইউনাইটেড কিংডমের আইনে আমাদের মতোই ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের একটি ধারা আছে। ওই আইনে একটি সাব সেকশনও আছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই গুপ্তচরবৃত্তি জননিরাপত্তা বা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হলে এই আইন প্রযোজ্য হবে।

মন্ত্রী বলেন, সেক্ষেত্রে আমিও বলেছিলাম আপনি (প্রশ্নকারী সাংবাদিক) যেহেতু পয়েন্ট আউট করলেন তাহলে আমি এটা দেখবো সাব সেকশন করা যায় কি না। আপনারা জানেন আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদকও একই কথা বলেছেন এ আইন কারো জন্য হুমকি নয়। ফলে আমাদের অবস্থান এখানে পরিষ্কার।

গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন হওয়া আইনটি পাসের জন্য সংসদে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। তবে অনুমোদনের পর থেকেই খসড়া আইনের ৩২ ধারা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই ধারাটির কারণে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সমালোচনা করে আসছেন সাংবাদিকরা।

এই ধারায় বলা আছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোন সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত বিধিবদ্ধ সংস্থার কোন গোপনীয় বা অতি গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস বা কম্পিউটার নেটওয়ারর্কে ধারণ, প্রেরণ, সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে সেটা হবে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ।’

এই ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছর জেল বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। কেউ যদি এই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করেন, তাহলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে।

আনিসুল হক বলেন, যারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কথা বলছেন এটা কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কিছু করার জন্য নয়। আমি এটা এর আগেও বলেছি।

আগের সেই ৫৭ ধারার মতোই এই আইনের অপব্যবহার হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা অপব্যহারের অনুমান করছেন। দেখুন, স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট নিয়েও অনেকে এ ধরনের কমপ্লেইন করেছিলেন। সেটা ছিল, কোনো কথা বললেই ডিটেনশন দিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু কই তাতো হচ্ছে না।

আইনমন্ত্রী বলেন, দেখুন বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। কিন্তু ইমপ্লিমেন্টেশনে আপনাদের অভিযোগকারীরা যে অভিযোগ করেছেন সেটা কিন্ত দেখা যায়নি। এক্ষেত্রেও তো অপব্যবহার করা হয় না।

মন্ত্রী বলেন, এখানে ব্যবহার আর অপব্যবহারের বিষয়টিই হচ্ছে প্রশ্ন। আমরা যেটা করেছি সেখানে অপব্যবহারের সুযোগ আমরা কমিয়ে এনেছি। প্রয়োজনে অপব্যবহারের সুযোগ যদি আরও কমিয়ে আনার দরকার হয় তাহলে সেটাও আমরা করবো।

খালেদা জিয়ার রায়ের কপি পেতে দেরি হচ্ছে বিএনপির এমন অভিযোগ সাংবাদিকরা আইনমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরলে তিনি বলেন, এটা আদালতের বিষয়। এখানে আমার বলার কিছু নেই। মওদুদ সাহেবরা তো অনেক কিছুই অভিযোগ করতে পারেন। ওনারা আইনই মানেন না। ওনাদের অভিযোগের কিছু নেই।

আনিসুল হক বলেন, আপনারা (সাংবাদিকদের) মওদুদ সাহেবকে প্রশ্ন করেন। উনি আইনমন্ত্রী থাকাকালে আমরা বঙ্গবন্ধুর বিচার পাইনি। মওদুদ সাহেব যখন এরশাদ সাহেবের সরকারে ছিলেন তখনও তো খালেদা জিয়াকে এভাবেই মামলায় ঝুলিয়েছিলেন। ফলে উনি কী বললো, আর কী বললো না এটা দেখার বিষয় নয়।

মন্ত্রী বলেন, আমরা আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটাচ্ছি না। রায়ের কপি দেবে আদালত। এটা তাদের বিষয়। যেহেতু কোর্ট রায় দিয়েছে, রায়ের কপিও দেবেন। এটা নিয়ে অনিশ্চয়তার কোনো কারণ নেই। আমি একজন আইনজীবী হিসেবে বলতে পারি যেহেতু অনেক পৃষ্ঠার রায় তাই একটু দেরি হতে পারে।

বিএনপির পক্ষ থেকে রায়ের সত্যায়িত কপি নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছে এটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেখুন তারা যে বক্তব্য দিচ্ছেন সেটা হলো তাদের কল্পনাপ্রসূত বক্তব্য এবং মিথ্যাচার।

SHARE