Home কক্সবাজার কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের দখলে বিস্তীর্ণ বনভূমি : হুমকির মুখে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের দখলে বিস্তীর্ণ বনভূমি : হুমকির মুখে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য

135
SHARE

মোসলেহ উদ্দিন,উখিয়া(১৯ ফেব্রুয়ারী) :: কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা আগমনের ফলে তাদের জন্য বসতি নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় হওয়ার ঐসব বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত উখিয়া-টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা।

এসব রোহিঙ্গা প্রায় ৫হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমিতে ১লাখ ৬৫হাজার ঝুপড়ি নির্মাণ করে আশ্রয় নিয়েছে। এতে বিপূল বনভূমি উজাড় হওয়ায় ৩শ ৯৭ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ৩শ ৯৩ টাকার সম পরিমাণ জীববৈচিত্র্য ও বন সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য আরো সাড়ে ৩ হাজার একর বনভূমির প্রয়োজন রয়েছে বিধায় বনভূমি দখল অব্যাহত থাকার কারণে ভয়ানক পরিবেশগত ঝুঁকির মূখে পড়েছে বনাঞ্চল সমূহ।

অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের চিহ্নিত করণ সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ওই প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে এদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে গত ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০লাখ ৬২হাজার রোহিঙ্গাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে।

নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত এ রোহিঙ্গাদের বাসস্থান ও জ্বালানির সংস্থানে কার্যত বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে বলে নিবন্ধনের কার্যক্রমের দায়িত্বরত বাংলাদেশ পাসপোর্ট এ্যান্ড ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু নোমান মুহাম্মদ জাকির হোসেন জানিয়েছেন।

অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিকদের চিহ্নিত করণ কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে এদেশের ভূমি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য,শিক্ষা,স্বাস্থ্য, দ্রব্যমূলের গতি পরিবর্তন এবং আইনশৃংখলা পরিসি’তি হুমকির মূখে পড়েছে।

তাছাড়া আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের চলাচল সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গারা যাতে নির্দিষ্ট ক্যাম্পে বাইরে বনবিভাগের জমিতে আর কোন আবাসস’ল করতে না পারে সেব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বনভূমির এ ক্ষতি হয়তো সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে কিছুটা পুরণ করা যাবে। আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা যাতে উখিয়া- টেকনাফ ছাড়া অন্য কোন স্থানে পাহাড় ও পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে সে জন্য মাইকিং করে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যানবাহনের অভাবে প্রায় সময় আইনশৃংখলাবাহিনী টহল দিতে পারছেনা, এজন্য দ্রুত ৫০টি মোটরসাইকেল সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাছাড়া পুলিশ যেখানে থাকবে সেখানে সশস্ত্র অবস্থায় থাকতে হবে। এ বিষয় ইতিমধ্যে বিভাগীয় কমিশনার সহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগীয় কর্মকর্তা মো. আলী কবিরসহ উখিয়া-টেকনাফের বনরেঞ্জ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৫মাসে উজাড় হওয়া সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে রয়েছে উখিয়ার কুতুপালংয়ে এক হাজার ১শ ২১ কোটি টাকা ৩৩লাখ ৭৩হাজার ১শ৩৬ টাকা মুল্যের ৪শ ১ দশমিক ৪০ একর বনভূমি, জামতলি ও বাঘঘোনা শরণার্থী ক্যাম্পের আওতাধীন ৫৩ কোটি ৪২লাখ ৫১হাজার ৪শ৮ টাকা মূল্যের ৫শ১৬ একর বনভূমি, বালুখালী ৯৫ কোটি ৪ লাখ ৫৩হাজার ৭শ৯০ টাকা মূল্যের ৮শ৩৯ একর বনভূমি, তাজনিমারখোলা ৪১ কোটি ৯০ লাখ ৮০হাজার ৬শ৮২টাকা মূল্যের ৪শ৫১ একর বনভূমি,

উখিয়ার বালূখালী ঢালা ও ময়নারঘোনা ২৭ কোটি ১ লাখ ৪৩হাজার ৮শ৬৬ টাকা মূল্যের ৩শ১০ একর, শফিউল্লাহ কাটা এলাকা শরণার্থী ক্যাম্পের ১৮কোটি ৮৬ লাখ ৭৪হাজার৩শ৮১টাকা মূল্যের ২শ১ দশমিক ২০ একর, টেকনাফের নয়াপাড়া ২২ কোটি ৮ লাখ ১৫ হাজার ৪শ৮০ টাকা মূল্যের ২শ২৪ একর, হোয়াংক্যং এর পুটিবনিয়া ৭কোটি ৫৩লাখ ৯৯ হাজার ৭শ৩২টাকা মূল্যের ৮৮ দশমিক ৬০ একর, কেরুনতলি ও চাকমারকূল শরণার্থী ক্যাম্পের দখলে ৪৯ হাজার ৩শ৪৪ টাকা মূল্যের ৭৯দশমিক ৮০ একর, এবং লেদার ক্যাম্পের দখলে ৩ কোটি ৮২লাখ ৯৫হাজার ৫শ৭৪টাকার মূল্যের ৪৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন বর্তমান রোহিঙ্গা বসতির বাইরে বনভূমি জায়গা দখল করে কোন রোহিঙ্গা যেন নতুন করে স্থাপন তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে।

SHARE