Home মহাকাশ বৃহস্পতির চাঁদে মিলতে পারে প্রাণের সন্ধান

বৃহস্পতির চাঁদে মিলতে পারে প্রাণের সন্ধান

106
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(২৫ ফেব্রুয়ারি) :: সৌরজগতের আরও এক জায়গায় প্রাণের সন্ধান মিলতে পারে৷ এমনই দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা৷ সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপায় বরফের চাদরের নিচে জল রয়েছে৷ আর জল থাকলেই তাতে প্রাণের সন্ধান থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা৷ শুধু তাই নয়৷ এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে পৃথিবীর আবহাওয়ারও সাদৃশ্য পেয়েছেন তাঁরা৷

ব্রাজিলের ন্যাশনাল সিনক্রোট্রন লাইট ল্যাবরেটরির গবেষক ডগলাস গ্যালানটে জানিয়েছেন, তাঁরা ইউরোপায় ব্যবহারযোগ্য শক্তির খোঁজ করছিলেন৷ পৃথিবীর পরিবেশের উপর ভিত্তি করে যে সব তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, তা দিয়েই চলছিল গবেষণা৷

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহনেসবার্গের কাছে মপেং গোল্ড মাইনে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২.৮ কিলোমিটার গভীরে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞানীরা৷ পৃথিবীর প্রাণ নিয়ে সেখান থেকে অনেক তথ্য মিলেছে৷ তার সঙ্গে ইউরোপার অনেক মিল৷ মাইনে এক রকম তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে৷ সেটি জলের অণুকে মৌলে ভেঙে দেয়৷ সেই মৌলগুলি আশপাশের পাথরগুলিকে আকৃষ্ট করে ও সালফেট তৈরি করে৷ ব্যাকটেরিয়া সেই সালফেটগুলিকে সিন্থেসাইজ করে ও শক্তি মজুত করে৷ এই প্রথমবার পারমাণবিক শক্তি হিসেবে সরাসরি ইকোসিস্টেমের সন্ধান পাওয়া গেল৷

গবেষকদের মতে, ওই মাইনের এখন যা অবস্থা, ইউরোপার সমুদ্রেরও একই অবস্থা৷ ইউরোপার পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা ঠিক শূন্য৷ এর কেন্দ্রে অনেক তাপশক্তি সঞ্চিত রয়েছে৷ জুপিটারের শক্তিশালি মার্ধাকর্ষণ শক্তির কারণে ইউরোপার কক্ষপথ উপবৃত্তাকার৷ এটি গ্যাসীয় অবস্থার হয় খুব কাছে, নয় খুব দূরে৷ এখনও তা পরিষ্কার নয়৷ কিন্তু গবেষকরা বলছেন, উপগ্রহের তাপমাত্রা এখন জলকে বাষ্প করার জন্য যথেষ্ট নয়৷

পৃথিবীর যে সব বায়োলজিক্যাল পরিবর্তন আজ পর্যন্ত জানতে পারা গিয়েছে, তার সঙ্গে মিল রয়েছে ইউরোপার৷ পৃথিবীতে মৌল, আয়ন বা ইলেক্ট্রন যেভাবে পরিবর্তন হয়েছে, সেভাবেই ওই উপগ্রহতেও পরিবর্তন হচ্ছে বলে জানান গবেষকরা৷ সুরাপনোভা বিস্ফোরণের সময় যে ধাতুগুলো বের হয়েছিল, সেই একই তেজস্ক্রিয় ধাতুর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে ইউরোপায়৷

গবেষণায় ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো পদার্থের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে৷ ইউরোপায় যে সমুদ্রের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, তা কয়েক কোটি বছর আগে পৃথিবীর অবস্থার সমান৷ অতীতের পৃথিবীর সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্য ইউরোপার৷ ফলে এখানে যে প্রাণ থাকতে পারে, তা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷

SHARE