Home অর্থনীতি ডিএসইতে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার নিয়ে টানাপোড়েন

ডিএসইতে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার নিয়ে টানাপোড়েন

105
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(২৬ ফেব্রুয়ারি) :: ধস পরবর্তী সময়ে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ট্রেকহোল্ডারদের আধিপত্য কমাতে উদ্যোগ নেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথকীকরণে করা হয় ডিমিউচ্যুয়ালাইশেন অ্যাক্ট-২০১৩।

এই অ্যাক্ট অনুযায়ী, স্টক এক্সচেঞ্জের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার বা কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ শেয়ার বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা হয়।

এরপর আবেদন আহ্বান করা হয়, যার প্রথম দফার সময় শেষ হয় ২০১৫ সালে। কিন্তু, কাউকে পাওয়া যায়নি। এরপর স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার সংগ্রহে নতুন করে সময় আবেদন করে ডিএসই। এরপর তিন দফায় সময় বাড়ায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৯ মার্চ শেষ হচ্ছে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার গ্রহণের সময়। মেয়াদ শেষ হতে চললেও এই পার্টনার গ্রহণে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিরজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পায়নি ডিএসই।

সূত্র বলছে, স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে চীনের দুই এক্সচেঞ্জ- সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম (জোট) প্রস্তাব গ্রহণ করেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু, অজানা কারণে ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) নেতৃত্বাধীন ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব সিকিউরিটিজ ডিলারস অটোমোটেড কোটেশন (নাসডাক) কনসোর্টিয়ামকেও (জোট) চাইছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার সংগ্রহ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ডিএসই’র স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হতে চীনের সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম (জোট) কারিগরি এবং নগদসহ প্রায় ১ হাজার ২৯০ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছে।

আর ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) নেতৃত্বাধীন ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ ও ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব সিকিউরিটিজ ডিলারস অটোমোটেড কোটেশন (নাসডাক) কনসোর্টিয়াম (জোট) ৬৭৫ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছে। অবশ্য এনএসই জোটের পক্ষ থেকে কারিগরি সহায়তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি।

চীনের জোটের পক্ষ থেকে ডিএসই’র প্রতিটি শেয়ার ২২ টাকা দরে কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। এক্ষেত্রে ডিএসই’র ২৫ শতাংশ শেয়ার অর্থাৎ ৪৫ কোটি শেয়ারের মূল্য দাঁড়াবে ৯৯০ কোটি টাকা। এছাড়া কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ৩০০ কোটি টাকার (৩ কোটি ৭১ মার্কিন ডলার) বেশি ব্যয় করবে প্রতিষ্ঠানটি।

অন্যদিকে, ভারতের এনএসই জোটের পক্ষ থেকে প্রতিটি শেয়ার ১৫ টাকা দরে প্রস্তাব করা হয়েছে। এনএসই সরাসরি নিজেরা শেয়ার না কিনে সহযোগী বা সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের নামে ২২ শতাংশ শেয়ার কেনার প্রস্তাব করেছে।

আর ৩ শতাংশ শেয়ার কেনার প্রস্তাব করেছে একই জোটের অংশীদার প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ। অবাক করার বিষয় হলো, কোনো শেয়ার না কিনেই জোটের সদস্য হয়ে ডিএসই’র অংশীদার হতে চায় নাসডাক।

এদিকে, বিডিং মূল্যের দিক দিয়ে ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ, যুক্তরাস্ট্রের নাসডাক ও বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশের জোট পিছিয়ে থাকলেও পর্ষদে ২টি পদ চেয়েছে তারা। কিন্তু, চীনের সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ জোটের একটি পরিচালক পদ দাবি করেছে।

দুই জোটের প্রস্তাবপত্র যাচাই-বাচাই করে চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে অনুমোদন দিয়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। আর এ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য বিএসইসি’র নিকট পাঠানো হয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার নির্বাচনে ডিএসই’র পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাব বাছাইয়ে বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সদ্য সচিব মাহবুবুল আলম। আর অন্য সদস্যরা হলেন- ড. এটিএম তারিকুজ্জামান ও আনোয়ারুল ইসলাম। কমিটি গঠনের পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসই’র এক পরিচালক বলেন, স্বাভাবিক নিয়মে নিলামে যারা বেশি দাম হাকাবে, তারাই অংশীদারিত্ব পাবে। কিন্তু, নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে এনএসইকে শেয়ার দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। অথচ এই জোট শেয়ারের সঠিক দাম নির্ধারণ করেনি। পাশাপাশি এনএসই সে দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি) ও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার কাছ থেকে অনুমোদন নেয়নি।

ডিএসই’র শেয়ারহোল্ডার পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ‘আগামী ৯ মার্চ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার গ্রহণের সময় শেষ হচ্ছে। তাই ডিএসই’র পক্ষ থেকে যোগ্য স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারের জন্য বিএসইসি’র নিকট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসইসি’র মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, ‘ডিএসই’র প্রস্তাব পর্যালোচনায় ৪ সদস্যরে কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে কমিশনের সভায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, বিন্যস্তকরণ স্কিমে ডিএসই’র সম্পদ মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর প্রিমিয়াম ছাড়া প্রতিটি সিকিউরিটিজ হাউসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সোয়া ৭ কোটি টাকা। এ হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ২৫০টি সদস্য প্রতিষ্ঠানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

এদিকে, ৩০ জুন ২০১৬ শেষে ডিএসই’র শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছিল ১১.৩৪ টাকা। আগের বছর একই সময় এ স্টক এক্সচেঞ্জের এনএভি ছিল ১১.৬৮ টাকা। এছাড়া ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৬ টাকা।

SHARE