Home বিনোদন শ্রীদেবী-বনি কাপুর নিয়ে যা বললেন অর্জুন কাপুর

শ্রীদেবী-বনি কাপুর নিয়ে যা বললেন অর্জুন কাপুর

663
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(২৭ ফেব্রুয়ারী) :: ভালোবেসে ১৯৯৬ সালে  শ্রীদেবী ঘর বাঁধেন চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুরের সঙ্গে। কিন্তু বনির সেটা ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন মোনা সৌরি কাপুর। তাদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান অর্জুন কাপুর এবং অংশুলা। শ্রীদেবীর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার আগে মোনার সঙ্গে ডিভোর্স হয় বনির।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে বনি কাপুরের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল মোনার। বনি কাপুরের সঙ্গে বিচ্ছেদে একেবারেই রাজি ছিলেন না মোনা সৌরি কাপুর। তখন বাধ্য হয়েই শ্রী-কে মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন বনি। এরপরই জন্ম হয় বনি-শ্রী-এর প্রথম সন্তান জাহ্নবীর।
কিন্তু, মোনা এবং তার দুই সন্তানের উপস্থিতিতে যেন অনিশ্চয়তায় ভুগতে শুরু করেন শ্রীদেবী। এরপর সম্পর্কের বাঁধন আর জুড়ে নেই বলেই বনি কাপুরের সঙ্গে বিচ্ছেদে রাজি হয়ে যান মোনা সৌরি কাপুর।

মোনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকেই অর্জুন কাপুরের সঙ্গেও বনি কাপুর এবং শ্রীদেবীর সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। এমনকি, জাহ্নবী এবং খুশি কাপুরকেও কখনো নিজের বোন হিসেবে মেনে নিতে পারেননি অর্জুন।

এক সাক্ষাতকারে শ্রীদেবী এবং বনি কাপুরের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন জানতে চাইলে বেশ কড়াভাবেই জবাব দেন অর্জুন।

সরাসরি বললেন, ‘শ্রীদেবীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক কখনো ভালো হতে পারে না। উনি শুধু মাত্র আমার বাবার স্ত্রী। এর বাইরে আর কিছু না।’ তবে শ্রীদেবীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না হলেও, তার মা কখনও কাউকে অশ্রদ্ধা করতে শেখাননি বলেও ওই টেলিভিশন শো-এ মন্তব্য করেন অর্জুন কাপুর।

যদিও, শ্রীদেবীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই সমস্ত দূরত্বকে একপাশে সরিয়ে রেখে খুশি এবং জাহ্নবীর পাশে এসে দাঁড়ান অর্জুন কাপুর।

আইনি জটিলতায় শ্রীদেবীর মরদেহ

মৃত্যুর দুদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত  শ্রীদেবীর মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে আনার দিনক্ষণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কাপুর পরিবারের ঘনিষ্ঠজন অমর সিং জানিয়েছিলেন, ২৬ তারিখ দিনগত রাতে স্বনামধন্য ভারতীয় অভিনেত্রী শ্রীদেবীর মরদেহ ভারতে পৌঁছাবে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের দুই সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এবং খালিজ টাইমস সূত্রে জানা গেছে, নন্দিত এই তারকার মরদেহ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। আমিরাতের ভারতীয় দূতাবাসের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও তার মরদেহ ফেরার দিনক্ষণ নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। বলা হয়েছে, এ ধরনের কাজে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই-তিন দিন লেগে যেতে পারে। এরইমধ্যে শ্রীদেবীর মৃত্যুর তদন্তভার পাবলিক প্রসিকিউটরের হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশ।

 দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলের বাথরুমে শনিবার রাতে শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। আমিরাতের আইন অনুসারে হাসপাতালের বাইরে যেকোনও মৃত্যু হলেই সেখানে ময়নাতদন্ত বা ফরেনসিক অনুসন্ধান বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়ায় অন্তত ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে বলেই শ্রীদেবীর পরিবার চাওয়া সত্ত্বেও তার মরদেহ রবিবার ভারতে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের পক্ষ থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে হোটেলের বাথটাবে ডুবে মৃত্যুর তথ্য উঠে আসে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে।

খালিজ টাইমস ও গালফ নিউজ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শ্রীদেবীর ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জলে ডুবে মৃত্যুর কথাই বলা হয়েছে। রক্তে মিলেছে অ্যালকোহল। তবে খালিজ টাইমস জানিয়েছে, হৃদরোগে শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়নি। আবার এখনও এই মৃত্যুর পেছনে কোনও ‘ক্রিমিনাল মোটিভ’ বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কাপুর পরিবারের ঘনিষ্ঠজন অমর সিং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জানান, শ্রীদেবী মরদেহ ভারতীয় সময় মধ্যরাতে এসে পৌঁছাবে। তবে মধ্যরাত পেরিয়ে ভারতীয় সময় সকাল ৬টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার মরদেহে ভারতে এসে পৌঁছায়নি। আমিরাতের স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস খবর দিয়েছে, ফরেনসিক রিপোর্টে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর আলামত মেলার কারণে, স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই শ্রীদেবীর মৃত্যুর তদন্তভার পাবলিক প্রসিকিউটরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

আমিরাতের একজন মুখ্য প্রসিকিউটর গালফ নিউজকে জানিয়েছেন, আমিরাতের স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এমন দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে ফরেনসিক ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাবলিক প্রসিকিউটরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রসিকিউটর সেই রিপোর্টগুলো খতিয়ে দেখার পর মরদেহ হস্তান্তরের নির্দেশনা দেয়। তবে কোনও ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার সঙ্গে অপরাধের আলামত মিললে তা নিয়ে নতুন করে তদন্ত কাজ শুরু হয়।

আমিরাতে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নয়দ্বীপ সিং ২৬ তারিখে জানিয়েছিলেন, শ্রীদেবীর মরদেহ ফেরানোর ব্যাপারে আমিরাত কর্তৃপক্ষের অনুমতি মিলেছে। তবে দিনশেষে এক টুইটার বার্তায় তিনি জানান, শ্রীদেবীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারা। কবে মরদেহ ভারতে পৌঁছাতে পারে,  সে ব্যাপারে কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি ভারতীয় দূতাবাসে পক্ষ থেকে। নয়দ্বীপ সিং তার অফিসিয়াল  টুইটার পোস্টে লিখেছেন, এ ধরনের ঘটনায় ২-৩ দিন সময় লেগে যায়।

খালিজ টাইমস কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শ্রীদেবীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদনে জলে ডুবে মরার আলামত মেলার পর থেকেই তার মরদেহ কবে ফিরবে, তা অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

SHARE