Home অর্থনীতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে চীনা বিনিয়োগ প্রস্তাবের খুঁটিনাটি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে চীনা বিনিয়োগ প্রস্তাবের খুঁটিনাটি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি

105
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(২৮ ফেব্রুয়ারী) :: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কাছে শেনঝেন-সাংহাই কনসোর্টিয়ামের কৌশলগত বিনিয়োগ প্রস্তাবের বিভিন্ন খুঁটিনাটি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) টেকনিক্যাল কমিটি।

নিয়ন্ত্রকদের প্রশ্নসংবলিত একটি পত্র ২৭ ফেব্রুয়ারী স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে। আগামী ৪ মার্চের মধ্যে ডিএসইর ব্যাখ্যার পর কমিটি কমিশনে নিজেদের পর্যালোচনা প্রতিবেদন জমা দেবে।

কমিশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো প্রস্তাবটি বিচার-বিশ্লেষণ করার জন্য এর বিভিন্ন অংশে আরো বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। এজন্য স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন প্রশ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

৪ মার্চের মধ্যে তাদের উত্তর পেয়ে গেলে কমিটি প্রস্তাবের আইনি দিকগুলো বিবেচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কমিশনে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে। প্রশ্নগুলো সম্পর্কে তারা কিছু জানাতে রাজি হননি।

তবে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ডিএসইর কাছে চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবের অন্তত এক ডজন পয়েন্টের বিস্তারিত জানতে চেয়েছে কমিশন।

এর মধ্যে টেকনিক্যাল সাপোর্টের ভ্যালুয়েশনের ভিত্তি, শেয়ার ক্রয়ের শর্তাবলি, নতুন কৌশলগত বিনিয়োগকারীর অন্তর্ভুক্তি, অংশীদারিত্ব-পরবর্তী পর্ষদে দুপক্ষের অবস্থান ও এখতিয়ার, নতুন বিনিয়োগ, চুক্তি সম্পাদন, পরিচালন কর্মকাণ্ডসহ অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে চুক্তি ‘কোন দেশের আইনে হবে?’ এবং ‘ভবিষ্যতে অংশীদারদের মধ্যে উদ্ভূত বিবাদের মীমাংসা কোন আদালতে হবে?’

জানা গেছে, কৌশলগত এ বিনিয়োগে ভবিষ্যতে কোনো বিবাদ দেখা দিলে তার সমাধান লন্ডনের কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশনে হতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে চীনা কনসোর্টিয়াম। এ শর্ত বাংলাদেশের আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা— বিএসইসির কমিটি ডিএসইর কাছে তা জানতে চেয়েছে।

প্রস্তাব সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অংশীদারিত্ব-পরবর্তী ডিএসইর বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএমে) উত্থাপনের আগেই চীনা বিনিয়োগকারীদের লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এজন্য ডিএসইর সংঘবিধি পরিবর্তনেরও শর্ত দিয়েছে তারা।

পয়েন্টগুলো হলো— স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানির নতুন কোনো শেয়ার ইস্যু, পরিচালকের সংখ্যা পরিবর্তন, নতুন কোনো কৌশলগত বিনিয়োগকারীর অন্তর্ভুক্তি, প্রযুক্তি বা অন্য কোনো বিষয়ে মেধাস্বত্ব অর্জন, স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানির আইপিও প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি, সম্পদমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ, ১০ কোটি টাকার বেশি ঋণ গ্রহণ বা বিনিয়োগ, ১০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক মূল্যের কোনো চুক্তি সম্পাদন, কৌশলগত বিনিয়োগকারীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য যেকোনো ইস্যু।

ডিএসইর নিরীক্ষক হিসেবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চার অডিট ফার্মের (ডেলয়েট, পিডব্লিউসি, ইঅ্যান্ডওয়াই ও কেপিএমজি) বাইরে অন্য কোনো ফার্মকে নিয়োগের ক্ষেত্রেও কৌশলগত বিনিয়োগকারীর অনুমতি নিতে হবে। সেটলমেন্ট গ্যারান্টি ফান্ডে অবদান বাদ দেয়া বা স্থগিতেরও শর্ত রয়েছে তাদের।

এর বাইরে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে ডিএসইর আর্টিকেল ১৩৫-এর নিয়ন্ত্রণমূলক ধারা থেকেও অব্যাহতি চায় শেনঝেন-সাংহাই কনসোর্টিয়াম। সে ধারায় বলা আছে, নিজেদের শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকের সঙ্গে ডিএসই কোনো চুক্তি করতে পারবে না।

আর্টিকেলে যা-ই থাকুক না কেন, ডিএসইর পর্ষদে চীনারা নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে যে কাউকে বসানোর স্বাধীনতা চায়। এর কোনোটি ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা, এ বিষয়েও ডিএসইর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিটি।

স্টক এক্সচেঞ্জের একাধিক কর্মকর্তা বিএসইসির চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তক্রমে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে শেনঝেন-সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বেছে নেয়ার লিখিত প্রস্তাব বিএসইসিতে জমা দেয় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এ প্রস্তাবের খুঁটিনাটি পর্যালোচনার জন্য নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করে কমিশন। ওই কমিটিতে আরো রয়েছেন নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ড. এটিএম তারিকুজ্জামান ও মো. মাহবুুবুল আলম। মো. মাহবুবুল আলম কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটি কাজ শুরু করার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনকে তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।

SHARE