Home ইতিহাস ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ যেভাবে ঐতিহ্য বিশ্বের

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ যেভাবে ঐতিহ্য বিশ্বের

306
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৭ মার্চ) :: ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন বাঙালি জাতিসত্তার স্বাধীনতার আকাঙ্খা। ১৮ মিনিটের ওই অবিস্মরণীয় ভাষণ বাংলার মুক্তিকামী আপামর জনতাকে দিয়েছিল তুঙ্গস্পর্শী প্রেরণা।

কালজয়ী সেই ভাষণ স্বাধীনতা মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল বিশ্বের মানচিত্রে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি-উন্মুখ একটি জাতিকে। ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর সেই তেজোদীপ্ত আমাদের ইতিহাসের অনবদ্য অধ্যায় হয়েই ছিল এত দিন। বাঙালির গর্বের সেই ধনকে ইউনেস্কো ‘বিশ্ব ঐতিহ্য দলিল’ বলে স্বীকৃতি দেওয়ায় ঐতিহাসিক ভাষণটি এখন বিশ্বের ঐতিহ্য।

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্য দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তা সংস্থাটির ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ অন্তর্ভুক্ত করে। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞ কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে ইউনেস্কোর মহাপরিচালকের সম্মতিক্রমে ভাষণটি সংস্থার নির্বাহী কমিটি চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করে।

ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ অন্তর্ভুক্তির জন্য সারা বিশ্ব থেকে আসা প্রস্তাবগুলো দু’বছর ধরে নানা পর্যালোচনার পর উপদেষ্টা কমিটি তাদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। মূলত বিশ্বজুড়ে যেসব তথ্যভিত্তিক ঐতিহ্য রয়েছে সেগুলো সংরক্ষণ এবং পরবর্তী প্রজন্ম যাতে তা থেকে উপকৃত হতে পারে সে লক্ষ্যেই এ তালিকা প্রণয়ন করে ইউনেস্কো।

ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা গত বছরের ৩০ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর ভাষণ তাদের মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেই সিদ্ধান্ত জানান।

৭ মার্চের ভাষণসহ বিশ্বের মোট ৭৮টি দলিলকে নতুন করে এই তালিকায় রাখা হয়। সেখানে এখন পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সব মহাদেশ থেকে ৪২৭টি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস বা কালেকশন। ইউনেস্কোর যে উপদেষ্টা কমিটি এ মনোনয়ন দেয় সেই কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল আর্কাইভসের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আলরাইসি। প্যারিসে ইউনেস্কো সদরদপ্তরে ওই বৈঠকে তিনি ছাড়াও উপদেষ্টা কমিটির আরও ১৪ জন সদস্য ছিলেন- যারা সবাই বিশ্বখ্যাত বিশেষজ্ঞ।

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, ‘এখন বিশ্ব আরও বেশি করে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও গৌরবময় স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারবে।’

পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ এসেছিল এক ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলনের পটভূমি হিসেবে। সেদিনের ১৮ মিনিটের ভাষণে শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ওই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকো।’

এই বক্তব্যের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। ভাষণের ১৯ দিনের মাথায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাংলার সাধারণ নিরস্ত্র জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু করে ইতিহাসের নির্মমতম গণহত্যা। পাল্টা প্রতিরোধে শুরু হয় বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসের যুদ্ধে ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’ বিশ্বের বুকে জন্ম নেয় স্বাধীন ভূখণ্ড বাংলাদেশ।

৭ মার্চের জনসভায় লাঠি, ফেস্টুন হাতে ছিলেন লাখ লাখ মানুষ। উত্তপ্ত স্লোগানে মুখরিত থাকলেও বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সময় সেখানে ছিল পিনপতন নীরবতা। ভাষণ শেষে আবার স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগানমুখর হয়ে উঠেছিল ঢাকার রাস্তাগুলো।

SHARE