Home আন্তর্জাতিক মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চির সম্মাননা কেড়ে নিলো যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মিউজিয়াম

মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চির সম্মাননা কেড়ে নিলো যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মিউজিয়াম

96
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(৯ মার্চ) :: মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও কথিত গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম। দেশের সামরিক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে এই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ‘এলি উইজেল অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছিলেন সু চি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর হলোকাস্ট আক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া এলি উইজেলের নামানুসারে ওই সম্মাননা দেওয়া হয়।

এক চিঠির মাধ্যমে ২০১২ সালে সু চিকে দেওয়া সম্মাননাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে নীরবতার কারণে সু চি এই সম্মাননা ধরে রাখার যোগ্যতা হারিয়েছেন।জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য হিল সু চির সম্মাননা বাতিলের খবর জানিয়েছে।

গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে আখ্যা দিয়েছে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা নিপীড়নের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সেনা অভিযানের বিষয়ে নীরব থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার মুখে পড়েন দেশটির ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চি। ওই নীরবতার অভিযোগে এরই মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠন তাকে দেওয়া সম্মাননা বাতিল করেছে। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলো হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম।

হলোকাস্ট মেমোরিয়াল জাদুঘর-এর পক্ষে সু চিকে ওই চিঠি লিখেছেন এর পরিচালক সারা জে ব্লুমফিল্ড। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘকে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এবং সাংবাদিকদের রাখাইন প্রবেশে বাধা দিয়ে রোহিঙ্গাদের ওই জাতিগত নিধনযজ্ঞ চলমান থাকার পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন সু চি।

চিঠিতে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ লিখেছেন, ‘মানবিক মর্যাদা ও বৈশ্বিক মানবাধিকারের প্রতি আপনার অঙ্গীকারকে শ্রদ্ধা জানানো মানুষের অংশ হিসেবে আমরা আশা করেছিলাম, নৃশংস সেনা অভিযানের নিন্দা জানিয়ে তা বন্ধ করতে এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি সংহতি জানাতে কোনও না কোনও পদক্ষেপ আপনি নেবেন।’

তবে সু চি সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞকে চলমান রাখার পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন, অভিযোগ করা হয়েছে চিঠিতে। হলোকাস্ট মিউজিয়াম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষী প্রচারণা চালানোরও অভিযোগ তুলেছে তার বিরুদ্ধে। জাতিগত নিধন শুরুর পরপরই একের পর এক সম্মাননা হারাতে শুরু করেন সু চি। এক পর্যায়ে নোবেলজয়ী বর্ণবাদবিরোধী নেতা মিয়ানমারের সামরিক ক্ষমতার সঙ্গে সু চির আঁতাতের ইঙ্গিত দেন। প্রশ্ন তোলেন উচ্চ পদে আসীন হওয়ার কারণেই সু চি নীরব কিনা। বলেন, যদি তাই হয়, তবে এই নীরবতা অনেক চড়া দামে কেনা।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেন্ট হিউ’র পরিচালনা পর্ষদ কলেজের মূল ফটক থেকে সু চির প্রতিকৃতি নামিয়ে ফেলে। অক্টোবর মাসের শুরুতে অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতভাবে সু চির ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব অক্সফোর্ড পদক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে রাখাইনে রোহিঙ্গা মানবিক সংকটে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে অক্সফোর্ড কলেজ তাদের জুনিয়র কমন রুম থেকে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেন্ট হিউ’স কলেজের শিক্ষার্থীরা কমন রুম থেকে সু চির নাম মুছে ফেলার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।  অক্সফোর্ডের এই আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কলেজে সু চি পড়াশোনা করেছিলেন।

নাম মুছে ফেলার সিদ্ধান্তে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযানকে সমর্থন ও রক্ষায় সু চির নীরবতা ও সহযোগিতার সমালোচনা করা হয়।

SHARE