Home খেলা নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বাংলাদেশের জয়ের রেকর্ড

নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বাংলাদেশের জয়ের রেকর্ড

319
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১০ মার্চ) :: টি২০ ক্রিকেটে প্রায় ১১ মাস পর বহুল প্রতীক্ষিত জয় পেল বাংলাদেশ। নিদাহাস টি২০ ত্রিদেশীয় সিরিজে ১০ মার্চ স্বাগতিক শ্রীলংকাকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। ৭২ রানের রাজসিক ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে জয় এনে দিলেন দলের ব্যাটিংয়ের অন্যতম কাণ্ডারি মুশফিকুর রহিম। এ জয়ে সিরিজে টিকে থাকল টাইগাররা।

টি২০ ফরম্যাটে আগের ৭২ ম্যাচে মাত্র ২১টি জয় ছিল বাংলাদেশের নামের পাশে। সর্বশেষ ১৪ ম্যাচের ১৩টিতেই ছিল হারের স্বাদ। এছাড়া আগের পাঁচটি ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে গত মাসে ঘরের মাঠে লংকানদের কাছে ছিল টানা দুই ম্যাচে হারের লজ্জা। শ্রীলংকায় নিদাহাস ট্রফিও শুরু হয় ভারতের কাছে হার দিয়ে। সিরিজে টিকে থাকতে গতকালের ম্যাচে জয় হয়ে ওঠে অপরিহার্য। এমন বাস্তবতায় দেশকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দিলেন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবালরা। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে লংকানদের করা ২১৪ রানের পাহাড় টাইগাররা ডিঙিয়ে যায় ২ বল বাকি থাকতেই।

৩৫ বলে ৭২ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন ম্যাচসেরা মুশফিক। এছাড়া তামিম ২৯ বলে ৪৭, লিটন দাস ১৯ বলে ৪৩, সৌম্য সরকার ২২ বলে ২৪ ও মাহমুদউল্লাহ ১১ বলে ২০ রান করে দলের জয়ে অসামান্য অবদান রাখেন। বলা বাহুল্য, টি২০ ক্রিকেটে এই প্রথম দুশোর্ধ্ব সংগ্রহ পেল বাংলাদেশ। আগের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ১৯৩/৫।

অথচ কলম্বোর সন্ধ্যাটি বাংলাদেশের জন্য শুরু হয় হতাশায়। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে কৃত্রিম আলোয় বাংলাদেশের নির্বিষ বোলিংয়ের সুযোগে রান উৎসব করে স্বাগতিক লংকানরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১৪ রানের সৌধ গড়ে সিংহলিজরা। বাংলাদেশের বোলাররা রান দিয়েছেন উদারহস্তে। তিন পেসার মিলে ১১ ওভারে খরচ করেন ১৩৩ রান। ঝড়ো সূচনা করেন লংকান ওপেনার দানুসকা গুনাথিলাকা ও কুশল মেন্ডিস। বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমানকে পাড়ার বোলার বানিয়ে মাঠের চার-ছক্কার উৎসব করতে থাকেন তারা। পঞ্চম ওভারে ১৯ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেলে মুস্তাফিজের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন গুনাথিলাকা। তাতে থামেনি লংকানদের রান উৎসব। বাংলাদেশী বোলারদের ওপর তলোয়ারের মতো ব্যাট চালিয়ে ৮৫ রানের জুটি গড়েন কুশল মেন্ডিস ও কুশল পেরেরা।

দিনটি ভুলে যেতে চাইবেন তিন পেসার। তাসকিন ফুলার আর খাটো লেংথের বল করে গেছেন শুরু থেকেই। ৩ ওভারে ৪০ রান দেয়ায় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ তাকে দিয়ে আর একটি ওভার করানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। ১৪তম ওভার করতে এসে মাহমুদউল্লাহ জোড়া আঘাত হানেন লংকান ইনিংসে। নিজের করা প্রথম ওভারে ৮ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট। ৩০ বলে ৫ ছক্কা আর ২ চারে ৫৭ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন কুশল মেন্ডিস। এরপর রানের খাতা খোলার আগেই মাহমুদউল্লাহর শিকার হন দাসুন শানকা। তিনি ক্যাচ দেন সাব্বিরকে। উইকেটে এসে অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমালও স্থায়ী হতে পারেনি। ব্যক্তিগত ২ রান করে তাসকিনের একমাত্র শিকারে পরিণত হয়ে ফেরেন সাজঘরে।

লংকানরা ১৫০ রান পেয়ে যায় মাত্র ১৪.৩ ওভারেই। তাই আর বড় সংগ্রহ নিয়ে ভাবতে হয়নি। শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর কালবৈশাখী বইয়ে দেন উপুল থারাঙ্গা আর কুশল পেরেরা। এ জুটি বোর্ডে যোগ করেন ২৭ বলে ৫৫ রান। কুশল ৪৮ বলে ৭৪ রান করে মুস্তাফিজের শিকার হন। মুস্তাফিজের করা শেষ ওভারে ১৬ রান নিয়ে জীবন মেন্ডিস ও থারাঙ্গা জুটি শ্রীলংকার বিশাল সংগ্রহ নিশ্চিত করেন।

তাসকিনদের মান বাঁচালেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ২১৪ রানের সৌধ গড়েও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে ঘরে ফেরা হয়নি চান্দিমালদের। জিততে মরিয়া টাইগারদের সামনে উড়ে যায় সিংহদের সব প্রতিরোধ।

SHARE