Home আন্তর্জাতিক ভারত মহাসাগরে চীনের প্রভাব কমাতে ভারত ফ্রান্সের নিরাপত্তা চুক্তি

ভারত মহাসাগরে চীনের প্রভাব কমাতে ভারত ফ্রান্সের নিরাপত্তা চুক্তি

155
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১০ মার্চ) :: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ শনিবার জানিয়েছেন ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে ভারতের সঙ্গে তার দেশ যে চুক্তি করেছে, সেটি দেশ দুটির নিরাপত্তা সম্পর্ককে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ভারত সফরে আসা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, দুটি দেশের সামরিক সহায়তার এখন নতুন গুরুত্ব আছে।

চুক্তির আওতায় ভারত ও ফ্রান্স উভয় দেশই পরস্পরের যুদ্ধজাহাজের জন্য নিজ নিজ নৌঘাঁটি উন্মুক্ত করে দেবে। এ পদক্ষেপকে চীনের অঞ্চলভিত্তিক যে উচ্চাশার প্রচেষ্টা, তা রোখার একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাখোঁ বলেন, আমাদের নিরাপত্তার একটি শক্তিশালী অংশ এবং বিশ্বের স্থিতিশীলতার অনেকাংশ ভারত মহাসাগরের ওপর নির্ভর করছে। তিনি আরো বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরের মতো ভারত মহাসাগর আধিপত্য বিস্তারের স্থান হতে পারে না।

শুক্রবার মাখোঁ ভারতে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, চুক্তিটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আসছে দিনগুলোয় ভারত মহাসাগর খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

দুই নেতা প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বিষয়ে বেশকিছু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। মোদি বলেন, ভূমি থেকে অন্তরীক্ষে এমন কোনো বিষয় নেই, যা নিয়ে ভারত ও ফ্রান্স একত্রে কাজ করছে না।

এছাড়া মহারাষ্ট্র রাজ্যের পশ্চিমে জাইতাপুরে ফরাসিদের সহায়তায় একটি পারমাণবিক শক্তি প্রকল্পের কারিগরি বিষয়েও চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হবে বলে তারা আশাবাদী।

এর আগে ২০১০ সালে ফ্রান্সের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজির ভারত সফরের সময় ছয়টি পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের জন্য ৯৩০ কোটি ডলারের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি করা হয়। তবে তখন থেকেই প্রকল্পটি পরিবেশবাদীদের প্রবল বাধার সম্মুখীন হয়েছে। তারা প্রকল্প অঞ্চলের ভূকম্পনজনিত কার্যক্রমের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন এবং জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে পারমাণবিক ক্ষমতার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে মাখোঁ মোদির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন, যা দুই নেতার গত বছরে প্যারিসে বৈঠকের পর সুদৃঢ় হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, আমার মনে হয়, আমাদের মাঝে খুব ভালো রসায়ন আছে, আমাদের দুটি দারুণ গণতন্ত্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক আছে।

অন্যদিকে মোদিও প্রটোকল ভেঙে মাখোঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান এবং আলিঙ্গন ও কোলাকুলি করেন। শনিবার ভাষণের শুরুতে মোদি বলেন, গত বছর আপনি প্যারিসে আমাকে উন্মুক্ত হূদয় এবং অনেক উষ্ণতা দিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন। আমি তৃপ্ত যে, আপনাকে ভারতে স্বাগত জানানোর একটি সুযোগ পেয়েছি।

আজ মাখোঁ সৌরশক্তিবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ভারত ও ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হবে। এছাড়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট সস্ত্রীক তাজমহল ভ্রমণ করবেন। আগামীকাল তিনি গঙ্গার পাড়ে অবস্থিত হিন্দুদের পবিত্র শহর বারানসি যাবেন।

মাখোঁর সফরের অল্প কিছুদিন আগেই ভারত সফরে এসেছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। উভয় নেতারই মোটা দাগে একই রকম রাজনৈতিক দর্শন থাকায় প্রায়ই দুজনের তুলনা দেয়া হয়। এছাড়া দুজনের বয়স কাছাকাছি এবং তারা সুদর্শন।

তবে ট্রুডোর ভারত সফর ছিল বেশ হতাশাব্যঞ্জক। তিনি দেশটিতে খুব বেশি উষ্ণ অভ্যর্থনা পাননি। এছাড়া সফরের সময় ঘন ঘন ভারতীয় পোশাক পরায় তাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও কানাডার সংবাদমাধ্যমে সমালোচনা হয়। এছাড়া তিনি মুম্বাইয়ে এক নৈশভোজের অনুষ্ঠানে সাবেক এক শিখ মিলিশিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, এ খবর প্রকাশ হলে তিনি আরো বিব্রত হন।

SHARE