Home কক্সবাজার কক্সবাজার শহরের হাঙ্গর পাড়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মানবেতর জীবন

কক্সবাজার শহরের হাঙ্গর পাড়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মানবেতর জীবন

205
SHARE

বিশেষ প্রতিবেদক(১৩ মার্চ) :: কক্সবাজার শহরের পূর্ব টেকপাড়ার হাঙ্গর পাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৮টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভস্মিভূত হওয়ার মধ্যে ৪টি পরিবারের বাড়ি ও ৪টি দোকান ছিল। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। ১২ মার্চ সোমবার দুপুর ১ টার দিকে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তারা সরকারি, পৌরসভা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোন সহায়তা পায়নি।

এলাকাবাসী জানান, ওইদিন দুপুরে হঠাৎ করে পাশের বাড়ির চুলার আগুন থেকে অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয়। আগুনের লেলিহান চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ক্যছিন এর পুত্র মংথো রাখাইন, ছকিনা, ফজলের মা, আবদুল্লহর বাড়ি।

বাড়ির পাশে তাজুল সওদাগরের মুদির দোকান, মধু রাম শীলের সেলুনের দোকান, বাবুর টিভি মেরামতের দোকানসহ পাশে আরো একটি দোকানের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বাড়ি গুলো বেশির ভাগ কাচা এবং কাঠের বাড়ি হওয়ায় সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়ে গেছে। কেউ ব্যবহারের কাপড় পর্যন্ত বের করে আনতে পারেনি।

১৩ মার্চ মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয় স্বজনসহ বিভিন্ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্তদদের মাঝে কাপড়সহ নানা পন্যদ্রব্য সহায়তা নিয়ে আসলেও তা অপ্রতুল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষের মুখে হাসি ফুটছেনা। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ পরিবারের প্রায় ৪০ জন মানুষ খোলা আকাশের নীচে সহায় সম্বল সবকিছু হারিয়ে এখন নিদ্রাহীন অবস্থায় দিনাতিপাত করছে।

ভস্মিভূত হওয়া বাড়ির পাশাপাশি দোকান গুলোর মালিকরাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই সহায় সম্বলের পাশাপাশি নগদ অর্থসহ শিক্ষার্থীদের পড়ার বই থেকে শুরু করে পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ সবকিছু হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছে।

এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণ থাকা খাওয়ার বাসস্থান না হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মাঝে অসহায় পরিবারগুলো জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার পৌরসভা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতি সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আহবান জানান।

অগ্নিকান্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন মৃত ক্যছিন এর পুত্র মংথো রাখাইন। তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার বাড়ি সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নগদ টাকা, স্বর্ণলংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র কিছুই রক্ষা করতে পারেনি। পাশাপাশি আমার একটি টিভি মেরামতের দোকালের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বর্তমানে খোলা আকাশই আমার পরিবারের ৭ সদস্যের ঠিকানা।

৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জান্নু বলেন, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সাহায্য করবো।

এব্যাপারে পৌর কাউন্সিলর সিরাজুল হক বলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনা শুনেই আমি তাৎক্ষনিক ছুটে গেছি। ক্ষতিগ্রস্থদের আর্থিক সহায়তার জন্য পৌরসভাসহ নানা স্থানে আবেদন করার জন্য আমি পরামর্শা দিয়েছি।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নোমান হোসেন প্রিন্স বলেন, বিষয়টি আমার অজানা। জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করা হবে।
জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, খোঁজ নিয়ে আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

SHARE