Home কক্সবাজার কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মেঝে-বারান্দায় রোগীদের গড়াগড়ি

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মেঝে-বারান্দায় রোগীদের গড়াগড়ি

308
SHARE

সাইফুল ইসলাম(৯ এপ্রিল) :: কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা মেঝেতেও জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ঠাঁই মিলছে বারান্দায়। এতে স্বাস্থ্যসেবার পরিবর্তে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে অতিরিক্ত রোহিঙ্গা রোগীর চাপে শয্যা না থাকায় অনেক রোগী মেঝেতেও ঠাঁই না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

অপরদিকে চিকিৎসকদের কর্তব্যে অবহেলা, স্বেচ্ছাচারিতার কারণে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও সেগুলোর সুবিধা পাচ্ছে না রোগীরা। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের থেকে শুরু করে সব ধরনের পরীক্ষা করাতে হয় প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। হাসপাতালের মূল্যবান যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন অব্যবহূত থাকায় সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আর চিকিৎসকেরাও বলছেন, সেবা দুরের কথা, মেঝের ভিড় সামাল দিতেই হিমসিম খাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে হাসপাতালের ৪র্থ ও ৫ম তলায় রোগীর সংখ্যা বাড়তি। এ দু’তলার বেশির ভাগ রোগিই হচ্ছে সড়ক দূর্ঘটন ও মারামারি সংক্রান্ত আহত ব্যক্তি। এসব তথ্য জানান, হাসপাতালের পুলিশ বক্সের দায়িত্বে থাকা প্রকাশ দাশ। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুন রোগী ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে। এই দু’তলায় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুন রোগি ভর্তি রয়েছে।

একদিকে যেমন রোগী বাড়ছে অন্যদিকে সেবার মান কমছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। নিয়ম আনুসারে পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকলেও যেন রোগী রয়েছে সে অনুযায়ী ডাক্তার নেই বলে জনান সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালের ওয়ার্ডের বাহিরে বারন্দায় ও সিটের নিচে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় রোগি দেখতে আসা স্বজনের চলাচল করতে কষ্টের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে ওয়ার্ডের বাহিরে আরেকটি হাসপাতালে রয়েছে। অথচ সরকার রোগীর সেবার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে সঠিক সেবা পাওয়ার কাজ করে যাচ্ছে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল তার বিপরীত। বরাদ্দের চাইতে দ্বিগুন রোগি সামাল দিতেও বেকাদায় রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দুপুর ১ টার দিকে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে,পুরো হাসপাতাল জুড়ে রোগীদের ভীড় মোটামুটি থাকলে ৪র্থ ও ৫ম তলায় রোগির সংখ্যা দ্বিগুন। এমনকি ওয়ার্ডের বাহিরেও অনেক রোগী ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

বিশেষ করে ৫ম ও ৪র্থ তলায় ওয়ার্ডের ভেতরে রোগী এত বেশি সেখানে জায়গার সংকুলন না হয়ে ওয়ার্ডের সামনে অনেক ফ্লোরে বেটসিট বিশিয়ে অনেক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।

হাসপাতালের দৈনিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৪র্থ তলায় মহিলা ওয়ার্ডে বরাদ্দকৃত শয্যা সংখ্যা ৩০ জনের ভর্তি হয়েছে ৮৯ জন অতিরিক্ত ৫৯ জন ও ৫ম তলায় পুরুষ মেডিসেন ওয়ার্ডে বরাদ্দকৃত শয্যা সংখ্যা ৩০ জনের।

রোগী ভর্তি হয়েছে ৭২ জন অতিরিক্ত ৪২ জন ও ৫ম তলায় মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের বরাদ্দকৃত শয্যা সংখ্যা ৪০ জনের, রোগী ভর্তি হয়েছে ৭৭ জন অতিরিক্ত ৩৭ জন রোগি ভর্তি রয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি ওয়ার্ডে সিটিরে বাহিরে রোগি দেখা গেছে।

ভারুয়াখালী এলাকার বাসিন্দা রোগীর স্বজন রহিমা খাতুন বলেন, আমার বাবাকে হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার দুইদিন মোটেই চিকিৎসা পাচ্ছি না। এ দু’দিন নাকি সরকারী বন্ধ ছিলো।

রবিবারে ডাক্তার রোগি দেখছে। বিশেষ করে ডাক্তার রোগী দেখতে কম আসে। নার্সদের দিয়ে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে দিতে চাই তারা। মন চাইলে এখানে রোগীদের দেখতে ডাক্তার আসেন না হয় আসেনা। তারা দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করে থাকে।

একইভাবে কক্সবাজার সদর চকরিয়া থেকে আসা জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরমভাবে অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক শাতধিক রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। একই ভাবে বর্হি বিভাগে অতিরিক্ত রোগীর চাপ।

হাসপাতালের ৫ম তলার ইনচার্জ সাজেদা সাত্তার বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ৪র্থ ও ৫ম তলায় রোগির একটু চাপ বেশি। বেশির ভাগই দূঘটনা ও মারামারি সংক্রান্ত আহত রোগি। আমরা আমাদের সাধ্য মতো রোগিদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। রোগীর প্রতি কোন ধরণের অবহেলা করা হচ্ছে না।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর.এম.ও) ডা. মো. শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরীকে রাত সাড়ে ৭ টার দিকে ০১৮৩০-৫৭২০২৭ নাম্বার থেকে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হয়েছে। মুঠোফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

SHARE