Home কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের মিথ্যা প্রচারণা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের মিথ্যা প্রচারণা

40
SHARE

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১৫ এপিল) :: দুই বছরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা-নেপিদো প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষর হয়। তবে সেখানে বহুল প্রতীক্ষিত ও বিরল সফর শেষে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য এখনও তৈরি নয় রাখাইন।

এই পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার জন্য সহায়ক নয়। ভবিষ্যতেও প্রত্যাবাসন আদতে সম্ভব কিনা, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল উরসুলা মুয়েলার।  এরই মধ্যে শনিবার পাঁচ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে মিয়ানমার সরকার।

বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম বলেন, কোনারপাড়া এলাকার নোম্যান্স ল্যান্ড থেকে পাঁচ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবার মিয়ানমারে প্রবেশ করেছে। পরে তাদের মিয়ানমার নির্মিত অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা প্রত্যাবাসনের কোনও উপায় নয় বরং মিথ্যা প্রচারণা।’

জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার-ইউএনএইচসিআর রবিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ঘটনার সঙ্গে সংস্থার কোনও প্রত্যক্ষ কোনও তথ্য নেই। আর বিষয়টি নিয়ে সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি বা এটা এর সঙ্গে জড়িত নয়।

 

তবে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জাও হাতা বলেছেন, এটা কোনও প্রোপাগান্ডা নয়। পরিবারটি স্বেচ্ছায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের যত্ন নিচ্ছি।’ তবে রয়টার্সের পক্ষ থেকে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বা তাদের কোথায় থাকতো সেই অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে মিয়ানমার বলেছে, তারা বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীদের মধ্য থেকে প্রথম পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। এতে বলা হয়, পরিবারটিতে পাঁচজন সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের নাম আফতার আর লওন। তাদের রাখাইন রাজ্যে নির্মিত অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমারে শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য সহায়ক পরিস্থিতি নেই বলে ইউএনএইচসিআর’র পক্ষ থেকে বলার একদিন পরই মিয়ানমার এমন দাবি করে। রবিবারের বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর যেকোনও প্রত্যাবাসনই স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে টেকসইভাবে তাদের পুনরায় সমাজ গড়ে তুলতে দিতে হবে।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করতে শুরু থেকেই অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে মিয়ানমার। তাদের ‘বাঙালি মুসলমান’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের বাসিন্দা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় নেপিদো। শনিবার মিয়ানমার সরকারের এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের মুসলিম আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘৫ সদস্যের এক মুসলিম পরিবার আজ সকালে রাখাইনের তানজিপিওলেটওয়া অভ্যর্থনাকেন্দ্রে এসেছে।’ ওই সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, অভিবাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের চাল, মশারি, কম্বল, গেঞ্জি, লুঙ্গি সরবরাহ করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার চলমান প্রক্রিয়ায় তাদের নিবন্ধনের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড-এনভিসি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মিয়ানমার। তবে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব পর্যায় থেকে এই কার্ডকে নাগরিকত্ব অস্বীকার করে রোহিঙ্গাদের আজীবনের জন্য শরণার্থী করে রাখার পাঁয়তারা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের শনিবারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রত্যাবাসনের জন্য যাচাই-বাছাই শেষে ওই পরিবারকে মিয়ানমারে প্রবেশের আগেই এনভিসি কার্ড দেওয়া হয়েছে।

জানুয়ারিতে অ্যামনেস্টির সবশেষ গবেষণায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বহু  গ্রাম জ্বালিয়ে ও  বুলডোজারে  গুঁড়িয়ে দেওয়ার আলামত উঠে এসেছিল। ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অর্ধশতাধিক গ্রাম বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি করে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস।

বলা হচ্ছিল, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক বাহিনীর নিধনযজ্ঞ আড়াল করতেই গ্রামগুলোতে বুলডোজার চালানো হচ্ছে। মার্চের শুরুতে নতুন করে অ্যামনেস্টির দেওয়া বিবৃতি থেকে অন্তত ৩টি সামরিক ঘাঁটি ও রাস্তাঘাট নির্মাণ চলমান থাকার কথা জানা যায়।

সবশেষ এএফপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে রাখাইন বৌদ্ধদের জন্য ‘আদর্শ বৌদ্ধ গ্রাম’ নির্মাণের কথা।

SHARE