Home কক্সবাজার কক্সবাজার শহরে রাখাইন সম্প্রদায়ের মৈত্রিময় জলকেলি উৎসব শুরু

কক্সবাজার শহরে রাখাইন সম্প্রদায়ের মৈত্রিময় জলকেলি উৎসব শুরু

265
SHARE

এম.এ আজিজ রাসেল(১৭ এপ্রিল) :: কক্সবাজার শহরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় শুরু হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে বা মেত্রিময় জলকেলি উৎসব।

১৭ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে বৌদ্ধ মন্দিরস্থ কেন্দ্রিয় জলকেলি উৎসবের প্যান্ডেলে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাখাইন ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্যথিং অং। এরপরই রাখাইন পল্লীর ২০টি প্যান্ডেলে সানন্দে শুরু হয় জলকেলি উৎসব।

জানা যায়, ১৩৭৯ মগীসনকে বিদায় জানিয়ে ১৩৮০ মগীসনকে বরণ করার জন্য রাখাইন সম্প্রদায় প্রতিবছর নববর্ষ পালন করে থাকে। রাখাইন ভাষায় এ উৎসবকে বলা হয় মাহা সাংগ্রাই পোয়ে। এর বাংলা আভিধানিক অর্থ মৈত্রিময় জলকেলি উৎসব।

১৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই জলকেলি উৎসব চলবে। নববর্ষে রাখাইন বয়ষ্ক নারী-পুরুষরা উপবাসও করে থাকেন। এসময় প্রাণী হত্যা, মিথ্যা বলাসহ কমপক্ষে ৮টি দুষ্কর্ম থেকে দূরে থাকতে হবে।

শহর ছাড়াও চৌফলদন্ডী, মহেশখালী, টেকনাফ সদর, হ্নীলা চৌধুরী পাড়া, রামু, পানিরছড়া, চকরিয়ার মানিক পুর, পেকুয়াসহ রাখাইন অধ্যুষিত এলাকা গুলোতে জুড়ে জলকেলি উৎসব শুরু হয়েছে।

শহরের টেকপাড়া, হাঙর পাড়া, বার্মিজ স্কুল এলাকা, চাউল বাজার, পূর্ব-পশ্চিম মাছ বাজার, আরডিএফ প্রাঙ্গন, ক্যাং পাড়া ও বৈদ্যঘোনাস্থ থংরো পাড়ায় তৈরি করা হয়েছে জলকেলির ২০টি নান্দিক প্যান্ডেল। রঙিন ফুল আর নানা কারুকার্যে সাজানো হয়েছে প্যান্ডেলের চারপাশ। সবার মাঝে নববর্ষ বরণের আমেজ।

এই উপলক্ষে শহরের রাখাইন এলাকার প্রতিটি বাড়ি সেজেছে নতুন সাজে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বড়রাও নানা রঙে রাঙায়িত নতুন কাপড়ে। জলকেলি উৎসবের মূল লক্ষ্য অতীতের সকল ব্যথা-বেদনা, গ্লানি ভুলে সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাখাইন তরুণ-তরুণীরা নতুন ও আকর্ষণীয় পোশাক পরিধান করে সেজে গুঁজে রাস্তার মোড়ে মোড়ে এবং রাখাইন পল্লীতে তৈরি করা জলকেলি প্যান্ডেলে একে অপরকে পানি নিক্ষেপ করে আনন্দ প্রকাশ করছে।

এসময় ঢাক-ঢোল বাজিয়ে নাচ-গানে একাকার হয়ে চলে আনন্দঘন বর্ণিল মুহুর্ত। নবীনদের পাশাপাশি প্রবীণরাও আনন্দ ভাগাভাগি করে।

উৎসবে এখানকার রাখাইন, হিন্দু, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। এছাড়া কক্সবাজারে বিভিন্ন এনজিওতে কর্মরত বিদেশীরা ছিল উৎসবের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

রাখাইন শিক্ষার্থী ক্যনাই, মং হ্লা ওয়ান, বাওয়ান, থেন থেন নাই, চ লাইন, জনি, জ জ, মংসিয়াই, জহিন, মংসে নাইন, উথান, উঠেন, বাবু শে, জ জ, জ জ ইয়ুদি, জওয়ান, আক্য, আবুরি, ববি, ওয়ানশে, কিংজ, হাপু ও ওয়াহ ওয়াহ জানান, আধিকাল থেকে রাখাইন নববর্ষ উপলক্ষে সামাজিক ভাবে সাংগ্রাই পোয়ে উৎসব পালন হয়ে আসছে। এবারও ব্যতিক্রম ঘটনি। আনন্দ-উল্লাসে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছে সবাই। এর মাধ্যমে আমরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর মধ্য দিয়ে পুরনো দিনের সব ব্যথা, বেদনা, হিংসা বিদ্বেষ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। এটি আমাদের কাছে খুবই পবিত্র।’

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ পুঁ চ নু জানান, সাংগ্রে পোয়ে বা জলকেলি রাখাইনদের সামাজিক উৎসব। ১৩ এপ্রিল বুদ্ধের মূর্তিকে স্নান করানোর মাধ্যমে সামাজিক এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মূলত ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে মূল উৎসব। যা চলবে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত।’

কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন বলেন, রাখাইনদের জলকেলি উৎসব উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও মাঠে রয়েছে।

SHARE