Home কক্সবাজার টেকনাফে গরমের তাপদাহে বাড়ছে পানীয় জলের তীব সংকট

টেকনাফে গরমের তাপদাহে বাড়ছে পানীয় জলের তীব সংকট

88
SHARE

হুমায়ূন রশিদ,টেকনাফ(১৬ এপ্রিল) :: বৈশাখের তীব্র তাপদাহ যতই বাড়ছে ততই টেকনাফের প্রত্যন্ত এলাকায় পানীয় জলের স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। পুকুর-খাল ভরাট, টিউবওয়েল ও রিংওয়েল বিকল এবং খরা মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পানির সংকট বেশি দেখা দিয়েছে। যেখানে গভীর নলকূপ রয়েছে, সেখানে শুধু অল্প পরিমান খাবারের পানি পাওয়া যাচ্ছে।

পানির স্তর নেমে যাওয়াতে অগভীর ও রিংওয়েলে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থেকে পানীয় জল নিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। এই পানি সংগ্রহ করতে গৃহিনীদের ব্যাপক সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে পানির দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়–য়া শিক্ষার্থীদের মাঝেও এই অবস্থা বিরাজ করছে। এভাবে খাবার ও ব্যবহারের পানির সংকট চলতে থাকলে ভয়বহতা দেখা দিবে। পানীয় জলের অভাবে মানুষ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় পাগলা ঘোড়ার মত ছুটছে। অনেক এলাকায় পুকুর ও রিংওয়েল শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। ফলে এসব এলাকার মসজিদ মাদ্রাসায় অজু করতেও নানা রকম সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় ব্যবহার্য পানি মধুর মত হয়ে গেছে।

পানির সংকটকে কাজে লাগিয়ে সরবরাহকারীরা কন্টিনিয়ারের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রয়োজনীয়তার খাতিরে সাধারণ মানুষও নিরুপায় হয়ে নিয়ে নিচ্ছে। সমস্যায় পড়া এলাকা সমুহে অনেকটা পানির জন্য হাহাকার চলছে। সাধারণ মানুষ ২/৩ কি: মি: পথ পাড়ি দিয়ে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করছে। মেয়েরা টিউবওয়েলে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কলসী নিয়ে বাড়ীতে খাবার পানি নিয়ে আসছে। পুরুষরাও দু’পাশে দুইটা কলসী বহনের মাধ্যমে খাবার ও নিত্য ববহার্য্য পানি সংগ্রহে নেমেছে।

টেকনাফের বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসায় পানির অভাবে অজু করতে নামাজীরা রীতিমত হিমখিম খাচ্ছেন। বাহির থেকে অনেক কষ্টে অজু করে এখানকার সাধারণ মুসল্লীদের নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতি বছর এ মৌসুমে এলাকা গুলোতে পানির জন্য চরম দুর্ভোগ চলে। পরিকল্পিত পানি ববস্থপনার মাধ্যমে এদুর্ভোগ সহজে লাঘব হবে। স্থান ভেদে টিউবওয়েল ও পাতকুয়া খননের মাধ্যমে পানির সমস্যা দূর করতে হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হোয়াইক্যংয়ের রইক্ষ্যং, ঊনছিপ্রাং,কাঞ্জরপাড়া, নয়াপাড়া, ঝিমংখালী, মিনাবাজার,কম্বনিয়া পাড়া, মহেশখালীয়া পাড়া, হ্নীলার রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়া, উলুচামরী, লেচুয়াপ্রাং, দমদমিয়া, জাদীমুরা, মোচনী, মরিচ্যাঘোনা, আলী আকবর পাড়া, পৌর এলাকার কুলাল পাড়া, ইসলামাবাদ, বাজার পাড়া, কে.কে. পাড়া, সাইড পাড়া, জালিয়া পাড়া, কলেজ পাড়া, সদর ইউনিয়নের হাঙার ডেইল, শীল বনিয়া পাড়া, বাহারছড়ার দক্ষিণ বড় ডেইল, নোয়াখালীয়া পাড়া সহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খাবার ও ব্যবহারের পানি নিয়ে হাহাকার চলছে। রংপুরের আবিদ দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে পৌর এলাকায় বাসা-বাড়ীতে পানি সরবরাহ করছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর সরবরাহ অনেকগুন বেড়েছে বলে প্রতিবেদককে জানিয়েছে।

তিনি জানান, আমার মত এখানে আরো ২০ মত লোক কন্টিনিয়ারে করে পানি সাপ্লাই দিয়ে থাকে। ১০ টাকা করে প্রতি কন্টিনিয়ার ভর্তি পানি বাসা-বাড়ীতে পৌছে দিয়ে আসে। এতে সরবারহাকারীরা দৈনিক ৫শ থেকে ১হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকে। অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন টেকনাফের অসংখ্য গ্রামে খাবার ও ব্যবহার্য্য পানির দুর্ভোগ লাঘবে সরকারী-বেসরকারীভাবে একাধিক পাইলট প্রকল্প হাতে নিতে হবে।

এই ব্যাপারে হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, আমার এলাকা বিশেষ করে পাহাড়ী এলায় পানীয় জলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো: ইকবাল হোসাইন জানান, পানির স্তর দিন দিন নীচে নেমে যাওয়ার কারণে সীমান্ত এই উপজেলায় খুব বেশী সমস্যা হয়। ভৌগলিক কারণে এখানে দিন দিন পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় পানির সংকট দেখা দেয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবগত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো জানান,খাবার পানির সংকট মোকাবেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ চাহিদা অনুপাতে এলাকা ভিত্তিক গভীর নলকুপ বসানো হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল হাসান টেকনাফের পানীয় জলের সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে এই সংকট মোকাবেলায় সবাইকে নিয়ে একাধিক বার বৈঠকে বসে তা উর্ধতন মহলকে জানিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে পানীয় জলের সংকট সমাধান হবে বলে আশ^স্থ করেন।

SHARE