Home মিডিয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ছয়টি ধারা নিয়ে সম্পাদকদের আপত্তি ও উদ্বেগ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ছয়টি ধারা নিয়ে সম্পাদকদের আপত্তি ও উদ্বেগ

105
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(২১ এপ্রিল) :: প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ছয়টি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংবাদপত্রের সম্পাদকরা। এসব ধারা বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী উল্লেখ করে এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তারা। সচিবালয়ে গতকাল আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ আপত্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। বৈঠকে সম্পাদকদের এসব উদ্বেগ অনেকাংশেই যৌক্তিক বলে মত দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং আইন ও সংসদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক। সম্পাদক পরিষদের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দীন আহমেদ, দ্য নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক এএইচএম মোয়াজ্জেম হোসেন, নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম প্রমুখ।

বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা প্রায় দেড় ঘণ্টা আলোচনা করেছি। আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আইনের ছয়টি ধারা সম্পর্কে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরেছেন সম্পাদকরা।

যেসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোর অনেকাংশই যৌক্তিক জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনটি এখন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে রয়েছে। ২২ এপ্রিল এ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

আলোচনা থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, ২২ তারিখের বৈঠকে সম্পাদক পরিষদকে যেন আমন্ত্রণ জানানো হয়। ২২ তারিখের পর যেকোনো সময় একটি নির্ধারিত তারিখে আমন্ত্রণ গ্রহণ করার পর যেসব বিষয়ে আজ (গতকাল) আপত্তি জানানো হয়েছে, সেগুলো লিখিত আকারে কমিটিকে দেবেন তারা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বা বাকস্বাধীনতা বন্ধ করার জন্য নয়। সেক্ষেত্রে এ আইনের মধ্যে যদি কোনো ত্রুটি থেকে থাকে বা অস্পষ্টতা থাকে, তাহলে সেগুলো যাতে অপসারণ করা যায় এবং আইনটি সে অনুযায়ী সংশোধন করা যায়, সে আলোকেই কমিটির সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের আলোচনা হবে। আলোচনার ভিত্তিতে এগুলো আমরা দূর করতে পারব বলে দুপক্ষই আশাবাদী।

এক প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটা আইন করতে চাই, যেটা শুধু গ্রহণযোগ্যই নয়, যুগোপযোগীও হবে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকেও এতে যুক্ত করার বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রস্তাব রাখব। কমিটির সিদ্ধান্তের ওপরই এটি নির্ভর করবে।

বৈঠক শেষে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আজকের (গতকাল) এ আলোচনা সম্পাদক পরিষদের অনুরোধে হয়েছে। আইনমন্ত্রী, আইসিটিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আমাদের উদ্বেগগুলো যেভাবে গ্রহণ করেছেন এবং যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনার জন্য যেন সম্পাদক পরিষদকে ডাকা হয়, সে বিষয়ে তারাই প্রস্তাব দেবেন।

প্রস্তাবিত আইনটির ২১, ২৫, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারার বিষয়ে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ রয়েছে জানিয়ে মাহফুজ আনাম বলেন, আমরা মনে করি, এগুলো বাকস্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার পরিপন্থী। বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা নিয়ে আমরা যে গর্ববোধ করি, গভীরভাবে তা ব্যাহত হবে। এসব বিষয় তাদের জানিয়েছি। তারা তা সানন্দে গ্রহণও করেছেন। আমরা আশা করি, একসঙ্গে কাজ করে এমন একটি আইন তৈরি করতে পারব, যেটা সত্যিকার অর্থে সাইবার অপরাধ প্রতিহত করবে, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা খর্ব করবে না। একই সঙ্গে আমরা বিশ্বাস করি, সাইবার নিরাপত্তা আইন বাংলাদেশে প্রয়োজন। কারণ এখন যে ধরনের সাইবার অপরাধ হচ্ছে এবং আমরা দেখছি, অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন মিডিয়া এমন উদ্যোগ নিচ্ছে, যা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। একটি সুষ্ঠু আইন হোক, যা আসলেই তার উদ্দেশ্য পূরণ করবে। স্বাধীন সাংবাদিকতাকে যেন তা কোনোভাবেই ব্যাহত না করে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জানুয়ারি ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের পর থেকে এ আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। গত ২৫ মার্চ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১, ২৫ ও ২৮ ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানান ১১টি দেশের কূটনীতিকরাও।

SHARE