পেকুয়ায় র‌্যাবের অভিযানে সন্ত্রাসী আনছার উদ্দিন আটক : এলাকায় বিক্ষোভ

rab-7-avijan-logo-.jpg

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(৭ মে) :: পেকুয়ায় আনছার উদ্দিন (৪২) নামের এক সন্ত্রাসীকে আটক করেছে র‌্যাপিট এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন(র‌্যাব)।

৭ মে বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের বামুলার পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে স্থানীয় জানিয়েছে। তিনি বামুলাপাড়া এলাকার আহমদ ছফার ছেলে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাকে নিয়ে রাজাখালী বামুলাপাড়াস্থ বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চলাচ্ছে বলে র‌্যাব থেকে জানানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১০/১২টি মামলা চলমান রয়েছে এবং সদ্য জেল থেকে বের হয়েছেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাজাখালী বামুলাপাড়ায় টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে। তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ১৫/২০ মিনিট পর এলাকাবাসী জড়ো হয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। শত শত নারী-পুরুষ মাগরিবের পর পর রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

তারা আনসারের উপর অবিচার হয়েছে এমন দাবীতে রাস্তায় মিছিল বের করে। সবুজ বাজার, সুন্দরীপাড়া সড়কের বামুলাপাড়া পয়েন্টে এ বিক্ষোভে মিলিত হয়। প্রায় ২শতাধিক নারী-পুরুষ আনসারের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। এদের অর্ধেকেরও বেশী নারী। তারা আনসারের গ্রামবাসী ও প্রতিবেশী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই দিন বিকেলে সিভিল পোশাকে র‌্যাব বামুলাপাড়ায় অভিযান পরিচালনা করে। তারা কৌশলে আনসারের বাড়ির দিকে পৌছছিলেন। পরিস্থিতি আচঁ করতে পেরে আনসার দ্রুত বাড়ির পিছন দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। খাল পার হয়ে কুলে উঠে পশ্চিম দিকে সটকে পড়ছিলেন।

এ সময় সিভিল পোশাকধারীরা তাকে লবণের মাঠে আটক করে। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় সিএনজি যোগে তারা তাকে আটক করে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে র‌্যাব ২য় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সুন্দরীপাড়া এলাকায় ব্যাপক গুলির আওয়াজ শুনতে পান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত র‌্যাব সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করছিলেন। র‌্যাব-৭ সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চলছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযানে থাকা র‌্যাব কর্মকর্তা জানায়, আনসারকে আটক করা হয়েছে। তিনি একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। অস্ত্র মজুদ আছে তার কাছে। র‌্যাব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে। পরবর্তীতে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত জানানো হবে।

আনসারের স্ত্রী হাসিনা বেগম জানায়, আমার স্বামী সারাদিন বাড়িতে ছিল। শাশুর মৃত্যু শয্যায়। বিকেলে দোকান থেকে এসে স্বামী অসুস্থ পিতার শশ্রুসা করছিলেন। এ মুহুর্তে র‌্যাব এসে তাকে আটক করে। আমি গর্ভবতী। কান্নাকাটি করছিলাম। আমাকে কিল ঘুষি মারে।

মা আছিয়া খাতুন জানায়, আমার ছেলে নির্দোষ। রাহামতুল্লাহর ছেলে জয়নাল ও গোলাম নবীর ছেলে বদি আলম র‌্যাবকে দিয়ে এ কান্ড ঘটিয়েছে। আমার ছেলে অন্যায় করলে এত মানুষ রাস্তায় বের হবে কেন।

গৃহবধূ কমরুন্নেছা ও আনসারের মেয়ে মিতু জানায়, ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে জয়নাল গং আনসারকে হয়রানি করতে সেটি করা হয়েছে।

Share this post

PinIt
scroll to top