Home কক্সবাজার রমজানকে সামনে রেখে কক্সবাজারে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

রমজানকে সামনে রেখে কক্সবাজারে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

226
SHARE

সাইফুল ইসলাম(১০ মে) :: চাঁদ দেখা গেলে আগামী ১৭ মে বৃহস্পতিবার শুরু হবে রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের মাস পবিত্র রমজান। সে হিসেবে সপ্তাহ পর মুসলমান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে পবিত্র পূর্ণ্যময় মাসের যাত্রা শুরু হবে।

আর আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে কক্সবাজারে অব্যাহতভাবে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।বিশেষ করে ইফতার সামগ্রী তৈরির উপকরণ পেয়াচ,মরিচ,টমেটো,ছোলা, ডাল, তেল থেকে শুরু করে বেড়েছে মসলার দাম।

পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, রমজান আসলেই এক ধরণের অসাধু ব্যবসায়ীরা কৌশলে অতি-মুনাফার আশায় নিত্য পণ্যের দাম বাড়াতে থাকে।

এতে কক্সবাজারের কাঁচা বাজারেগুলোতে আস্তে আস্তে দাম বাড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের । পবিত্র রমজান মাস সমাগত, তাই একদিকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিভিন্ন মসজিদে খতমে তারাবিহ সহ নানা ধর্মীয় কর্মকান্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়িরা রমজান মাসকে ঘিরে নিত্যপন্যের দাম বাড়ানোর অপ-তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে।

ইতোমধ্যেই বেড়েছে পেঁয়াজ, চিনি, কাচা তরি-তরকারী, বেগুন ও কাচা মরিচের দাম। রমজান আসতে আসতে সব পন্যের দাম বাড়তে পারে বলে জানা জানান ব্যবসায়িরা।

তবে পাইকারী ব্যবসায়িরা বলছেন, ঢাকা চট্টগ্রামের পাইকারী আড়তে দাম বাড়লে কক্সাবাজারেও দাম বাড়বে।

কক্সবাজার শহরের পিটি স্কুল এলাকার রফিকের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও পেঁয়াজের দাম ছিল ২৮ টাকা সেই পেঁয়াজের ঝাজ ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা, চিনির দাম বেড়েছে ১০ টাকার মতো। সে হিসাবে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকা। অবশ্য ছোলা এখনো ৭২ টাকা এর খেসারীর ডাল ৪০ টাকার মধ্যে আছে। তবে যে কোন মুহুর্তে দাম বাড়তে পারে বলে জানান রফিক সওদাগর।

শহরের কানাইবাজার গিয়ে দেখা গেছে, অনেকে ইতোমধ্যেই রোজার বাজার করতে শুরু করেছে ক্রেতারা।

মো. সালাম নামে ক্রেতা বলেন, রোজার দিন যতো ঘনিয়ে আসবে ততই নিত্যপন্যের দাম বাড়বে এটা স্বাভাবিক। তাই আগে ভাগেই রোজার বাজার করে ফেলছি। আমি পেঁয়াজ, আদা, রসুন, চনা, খেসারী, চিনিসহ অনেক কিছু কয় করেছি। আর বাকি গুলো রোজার কাছাকাছি সময়ে কিনবো।

তরকারি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, রমজান মাসের সবচেয়ে বেশি চাহিদা পন্য কাচা মরিচের দাম এখনো হাতের নাগালে কেজি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, তবে খুব দ্রুত দাম বাড়তে পারে বলে জানান বিক্রেতা কামাল।

তিনি জানান, আমরা রামু, গর্জনিয়া সহ অনেক জায়গা থেকে মরিচ সহ তরকারি কিনে এনে বাজারে বিক্রি করি। তবে শুনেছি খুব দ্রুত কাচা মরিচ সহ অনেক তরকারির দাম বাড়তে পারে। অবশ্য দাম বাড়ানোর আরও কারণ আছে। এখন বৃষ্টি হচ্ছে। তাই কৃষকের কাছে যেই মরিচ বা তরকারি আছে তাও নষ্ট হয়ে যাবে। আর বাজারে সংকট দেখা যেতে পারে। তাই পন্যের দাম বাড়তে পারে।
টেকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ কেরামত উল্লাহ বলেন, আমিও রোজার অনেক বাজার করে ফেলেছি। কারন রোজা যতই সমাগত হয় নিত্যপন্যের দাম ততই বাড়বে। সাথে মাছের দামও অনেক বাড়বে, কারন বাজারে ইতোমধ্যে মাছের সংকট দেখা যাচ্ছে।

এদিকে পিটিস্কুল মাছ ব্যবসায়ি মো. ইউনুছ বলেন,প্রতি বছর রমজান আসলে কিছু নিত্যপন্যের দাম বাড়ে এর মধ্যে পেঁয়াজ, মরিচ অন্যতম। আর সবজির মধ্যে বেগুন সহ অনেক কিছু।

তবে দাম বাড়ার বিষয়ে প্রশাসন সহ অনেকে স্থানীয় ব্যবসায়িদের অভিযোগ । আসলে কোন স্থানীয় ব্যবসায়িদের হাতে নিত্যপণ্যের দাম উঠানামা করার কোন সুযোগ নেই। ঢাকা চট্টগ্রামের ব্যবসায়িরা যতক্ষন দাম না বাড়াবে ততক্ষন সারা দেশে কোথাও নিত্যপন্যের দাম বাড়ে না। অবশ্য রজমান মাসের দিকে সড়কে যানযট বাড়ে। ফলে পন্য আনা নেওয়ার খরচ বেড়ে যায়। এছাড়া লেবার থেকে শুরু করে সব কিছুর দামও বাড়তি থাকে। অনেক কারনে আসলে পন্যের দাম বাড়ে। এখনো অনেক পন্যের দাম বাড়ছে। সামনের দিনে আরও বাড়তে পারে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাহিদুর রহমান বলেন, রমজান মাসে যাতে নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকে সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক নজরদারী থাকবে। এ জন্য ইতোমধ্যই অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

SHARE