Home মহাকাশ মহাকাশে বাংলাদেশ : বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিয়ে উচ্ছ্বসিত ইলন মাস্ক

মহাকাশে বাংলাদেশ : বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিয়ে উচ্ছ্বসিত ইলন মাস্ক

288
SHARE

কক্সবাংলা ডটকম(১২ মে) :: বাঙালির স্বাধীনতা-সংগ্রামের স্লোগান ছিল ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। সেই স্লোগান বুকে নিয়েই মহাকাশের পথে উড়ল দেশের প্রথম  স্যাটেলাইট  বঙ্গবন্ধু-১ । শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিট) স্পেসএক্সের লঞ্চিং স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-কে নিয়ে উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন-৯ মহাকাশের পথে উড়ে যায়।

উচ্ছ্বসিত ইলন মাস্ক

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উৎক্ষপণ বাংলাদেশের জন্য অনন্য ঘটনা। একইভাবে স্যাটেলাইটটিকে মহাকাশে বহনকারী রকেটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস করপোরেশনের (স্পেসএক্স) জন্যও এটি বিশেষ কিছু। কারণ এবারই প্রথম ফ্যালকন ৯-এর সর্বশেষ সংস্করণ ব্লক ৫ রকেট ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশযান নির্মাতা ও পরিবহন সংস্থাটি। বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বসিত স্পেসএক্সের কর্ণধার ইলন মাস্কও।

স্পেসএক্স সূত্রে জানা গেছে, এক দশকের গবেষণার ধারাবাহিকতায় ফ্যালকন ৯-এর নতুন এ সংস্করণ তৈরি হয়েছে। রকেটটির দুটি অংশ— ফার্স্ট ও সেকেন্ড স্টেজ। এর মধ্যে ফার্স্ট স্টেজে (বুস্টার) রয়েছে স্পেসএক্সের উদ্ভাবিত নয়টি মার্লিন ইঞ্জিন। আর সেকেন্ড স্টেজে রয়েছে একটি ইঞ্জিন। রকেটের ফার্স্ট স্টেজটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য। সেকেন্ড স্টেজের উপরে রয়েছে পেলোড, যা স্যাটেলাইটটিকে বহন করবে।

পুনর্ব্যবহারযোগ্য এ রকেট বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটিকে মহাকাশে কক্ষপথের কাছাকাছি অবস্থানে দিয়ে পুনরায় ফিরে আসবে। প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট স্থানে রাখা ড্রোন শিপের ওপর এটি অবতরণ করবে। পরবর্তী সময়ে এটিকে আবার অন্য একটি উেক্ষপণের জন্য প্রস্তুত করা হবে। এরই মধ্যে ২৪ বার ফ্যালকন ৯-এর বুস্টার উেক্ষপণ শেষে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে স্পেসএক্স।

তবে রকেটটির নতুন সংস্করণ ব্লক ৫-এর বিশেষত্ব হলো— মহাকাশ যাত্রা শেষে এটি আরো দ্রুততর সময়ে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। স্পেসএক্স বলছে, সামান্য কিছু মেরামত শেষে এটিকেই আরো দশবার বা তারও বেশি মহাকাশযাত্রায় পাঠানো যাবে।

ইলন মাস্ক জানান, ব্লক ৫-এর বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— এখানে সংযুক্ত করা হয়েছে শক্তিশালী ইঞ্জিন, যা আগেরগুলোর তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি থ্রাস্ট সম্পন্ন। বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসার জন্য এতে ব্যবহার করা হচ্ছে শক্তিশালী তাপরোধক ঢাল, রকেটের দুটি স্টেজকে যুক্ত করতে ব্যবহার হয়েছে একটি কালো ইন্টারস্টেজ। আর এতে রয়েছে অবতরণের জন্য নতুন রিট্র্যাক্টেবল লেগস।

প্রথমদিন বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উেক্ষপণ স্থগিত হওয়ার কিছু আগে এলন মাস্ক গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, চলতি বছর অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি রকেট উেক্ষপণ করবে স্পেসএক্স। ব্লক ৫ তৈরির সবচেয়ে বড় লক্ষ্যগুলোর অন্যতম হলো রকেটের পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা।

টেসলার পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে হালনাগাদ বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেন ইলন মাস্ক। টেসলা ইনকরপোরেটেডের গ্রাহকরা ড্রাইভওয়েতেই নিজের বিদ্যুত্চালিত গাড়িতে বসে ওভার দ্য এয়ার সফটওয়্যার আপডেট পান। গাড়ি নির্মাতা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো এক্ষেত্রে অনেকখানিই পিছিয়ে রয়েছে। একইভাবে স্পেসএক্সের প্রকৌশলীরাও রকেটের উন্নয়নে নিবিষ্ট। উেক্ষপিত ফ্যালকন ৯ রকেটের মধ্যে যে দুই ডজন আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, সেগুলোর নানা তথ্য বিশ্লেষণ করে মহাকাশ সম্পর্কে স্পেসএক্সের ধারণা আরো সমৃদ্ধ হয়েছে। ফলে পরবর্তী গবেষণার ক্ষেত্রে এসব তথ্য সহায়তা করছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

স্পেসএক্সের ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ফ্যালকন ৯ রকেটের ব্যয় হয় প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। বিশ্লেষকরা বলছেন, মোট ব্যয়ের মধ্যে শুধু বুস্টারের পেছনে ব্যয় হয় প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। পুনর্ব্যবহারযোগ্য একটি রকেটের নিয়মিত উেক্ষপণ এ ব্যয়কে আরো কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। প্রতিবারের উেক্ষপণে শুধু জ্বালানি ব্যয় যোগ হবে। এরই মধ্যে একাধিকবার উেক্ষপণ করা হয়েছে এমন রকেট রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ফলে ব্লক ৫-এর দশবার উেক্ষপণের যে সম্ভাব্যতা নিয়ে বলছে স্পেসএক্স, তা রক্ষণশীল তথ্য হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু-১ রেখে ফিরে এলো রকেট ফ্যালকন

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ শেষে মহাকাশ থেকে রকেট ফ্যালকন ৯ ব্লক ৫ আটলান্টিকের বুকে ভেসে থাকা ড্রোন জাহাজে সফলভাবে অবতরণ করেছে। শনিবার ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের ৩৯ এ লঞ্চ প্যাড থেকে এই রকেটটিতেই বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু-১’ উৎক্ষেপণ করা হয়।

উৎক্ষেপণের দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে তুলে দিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরের ‘অফ কোর্স আই স্টিল লাভ ইউ’ নামে ড্রোন শিপে সফলভাবে অবতরণ করেছে রকেটটি।

লঞ্চ প্যাড থেকে উৎক্ষেপণের আড়াই মিনিটের মাথায় স্টেজ-১ ‍ও স্টেজ-২ আলাদা হয়। এর পর আট মিনিট ৪৫ সেকেন্ড পর দুই স্টেজের এই রকেটটির স্টেজ-১ পৃথিবীতে ফিরে আসে। এরপর ৩৩ মিনিটের মধ্যে স্টেজ-২ কক্ষপথে স্থাপন করে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটিকে; স্টেজ ওয়ান ফিরে আসে পৃথিবীতে।

ফ্যালকন-৯ রকেটের ব্লক-৫ সংস্করণটিকে সর্বাধুনিক দাবি করছে স্পেসএক্স। এটি আরও কমপক্ষে ১০ বার ব্যবহার করা যাবে বলেও তাদের দাবি।

বেশ কয়েক ধরনের উন্নতির পর ফ্যালকন ৯ এর আগের সংস্করণ থেকে ব্লক ৫ এর পার্থক্য এখন দৃশ্যমান।

স্পেসএক্স জানিয়েছে, এর আগে অ্যালুমিনিয়াম গ্রিড ফিন ব্যবহার করা হলেও ব্লক ৫ এ রয়েছে টাইটানিয়াম গ্রিড ফিন। ভূমিতে বা সাগরে নিরাপদ অবতরণের ক্ষেত্রে ব্লক ৫ এখন আরও বেশি তাপসহনীয়। এর সংস্কার করা অংশগুলো অত্যধিক তাপসহনীয় পাইরন উপাদানের প্রলেপ দেওয়া। উচ্চমাত্রার তাপ সহনশীল ফাইবার পাইরন ১২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রাতেও গলে না।

SHARE