Home কক্সবাজার রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলায় তৎপর হুন্ডি ব্যবসায়ীরা

রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলায় তৎপর হুন্ডি ব্যবসায়ীরা

112
SHARE

সাইফুল ইসলাম(১২ মে) :: বাংলাদেশের অন্যতম রেমিট্যান্স অর্জনকারী অঞ্চল কক্সবাজার জেলা। এই জেলার বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী প্রবাসী। আর রমজান ও ঈদ সামনে রেখে জেলার হুন্ডি ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈধ পথে এসব টাকা না পাঠিয়ে প্রবাসী প্রতিনিয়ত টাকা পাঠাচ্ছে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসায়ীদের হাতে। আর প্রশাসনের চোখের আড়ালে ব্যাপকহারে চলছে জমজমাট হুন্ডি ব্যবসা। হুন্ডি ব্যবসা এ জেলার একটি অত্যন্ত পুরনো অবৈধ ব্যবসা। এ ব্যবসা যদিও অবৈধ কিন্তু কক্সবাজারে তা অবাধে চলছে যুগ-যুগ ধরে।

কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলার প্রবাসী শ্রমজীবি মানুষ সৌদিআরব, দুবাই, কাতার, বাহরাইন, ওমান, সিঙ্গাপুর ও মালেশিয়া,যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সহ বিভিন্ন দেশে চাকুরীসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে প্রবাস জীবনযাপন অতিবাহিত করছে।

এছাড়াও রয়েছে বিপুল সংখ্যক মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক যারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। এসব প্রবাসী সাংসারিক খরচসহ নানা প্রয়োজনে দেশে টাকা পাঠান। নিয়মানুসারে প্রাবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের অর্থ দেশে পাঠানোর কথা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যেসহ বিভিন্ন দেশে সারাদিন হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে সেখানে দেশে টাকা পাঠাতে লাইনে দাঁড়িয়ে ড্রাফট বানাতে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। ফলে নানামুখী বিড়ম্বনা ও হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রবাসীরা হুন্ডিকে অর্থ প্রেরণের সহজ মাধ্যম হিসাবে বেছে নেয়।

হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে জেলায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হলেও সরকারের কোষাগারে এক কানাকড়িও রাজস্ব জমা পড়ছেনা। এ ধরণের হুন্ডি ব্যবসা চলতে থাকলে সরকার হারাবে বিপুল পরিমান রাজস্ব আর প্রতারিত হবে প্রবাসী পরিবারের লোকজন। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা এ কক্সবাজারকে হুন্ডির স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছে।

জানা গেছে,জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শতাধিক হুন্ডি কারবারী প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে পাঠানো কোটি কোটি টাকার লেনদেন করে যাচ্ছে প্রকাশ্যে। যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে বলে মনে করছে সচেতন মহল।

বিশেষ করে কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়ন, পিএমখালী ইউনিয়ন, খুরুশকুল ইউনিয়ন, রশিদ নগর ইউনিয়ন, ইসলামাবাদ ও জালাবাদ ইউনিয়ন, পোকখালী ইউনিয়ন, চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন,

উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়ন, রামু দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন,টেকনাফ,চকরিয়ার খুটাখালী, ডুলাহাজারা, পেকুয়া, নাইক্ষ্যংছড়ি সহ জেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের হুন্ডির মাধ্যমে দুবাই, সৌদি আরব, ও মধ্যপ্রাচ্যে থেকে আসা কোটি কোটি টাকা বিলি করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এসব হুন্ডি ব্যবসায়িরা কালো টাকার কামানোর জন্য রাত দিন উপজেলার বিভিন্ন বসত বাড়ীতে টাকা পৌঁছে দিয়ে তাদের কমিশন নিয়ে ইতিমধ্যেই কোটিপতি হয়ে গেছে। যা সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন বিষয়টি তদন্ত করলে হুন্ডি ব্যবসার আসল রহস্য ও সন্ধান মিলবে বলে জানান স্থানীয়রা।

এক সময় যারা অত্যন্ত গরীব প্রকৃতির লোক ছিলো তারা আজ হুন্ডি ব্যবসা মাধ্যমে রাতারাতি কিভাবে কোটিপতি হয়েছে কিংবা তাদের এই অবৈধ টাকার আয়ের উৎস কি। তা অনুসন্ধানে সরকারি কোন নজরদারী না থাকায় এলাকার হুন্ডি গডফাদাররা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠে।

এছাড়া যারা এ হুন্ডি ব্যবসায়ীর সাতে জড়িত তারা গলাকাটা ভিসার ব্যবসা ও আদম পাচারের সাথে জড়িত রয়েছে বলে জানা যায়। বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মধ্যে স্থানীয় জনসাধারণকে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জানা গেছে।

এমনকি তাদের হুন্ডিতে দেয়া টাকা নিতে আসা অনেকেই ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে সবকিছু হারাচ্ছে। এছাঁড়া তাদের অবৈধ কালো টাকা দিয়ে অনেকেই এলাকায় প্রভাব দেখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।এ অবৈধ টাকা দিয়ে অনেকেই বহুতল ভবণ ও ঘরবাড়ি নিমার্ণ করছে।

এ ব্যাপারে কয়েকটি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য জানান। এ অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা ও আদম পাচারকারীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার সংবাদ প্রচার হওয়ার পরেও তারা রহস্য জনক ভুমিকা পালন করায় উক্ত হুন্ডি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটরা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে এলাকায়। তারা এতই শক্তিশালী যে তারা প্রশাসনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় এসব ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

জেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে তাদের রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এছাড়াও বিভিন্ন হুন্ডির মাধ্যমে আসা টাকা নিয়ে আসার সময়ে ছিনতাইকারী ও পকেট মারের কবলে সবকিছু হারায়।

এভাবে কয়েকটি ইউনিয়নে সৌদি আরব, দুবাই, পাকিস্তান, কুয়েত, কাতার, মালেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের টাক শতাধিক হুন্ডি ব্যবসায়ীদের এজেন্টের দায়িত্বে নিয়োজিত রেখে নিজে ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোকদের টাকায় ভাড়া করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় কিছু লোকদের উৎকোচের মাধ্যমে আতাঁত করে এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে সহযোগীতার করছে বলে বিভিন্ন উপজেলার সচেতন মহল জানা গেছে।

দুবাই, সৌদি আরব থেকে এই হুন্ডি ব্যবসায়ীরা প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা হুন্ডির মাধমে লেনদেন করে থাকে। যার ফলে অবৈধ পথে প্রবাসীদের টাকা চলে আসায় সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাতে হচ্ছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কয়েকজন হুন্ডি ব্যবসায়ী আড়ালে এ ব্যবসা বহাল তবিয়তে চালিয়ে গেলেও প্রশাসনের ভুমিকা রহস্য জনক হওয়ায় বার বার তারা রয়েছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায়।

এসব হুন্ডি ব্যবসায়িদের গ্রেপ্তার করা না হলে তারা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। সময়মত তাদের লাগাম টেনে আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা প্রতি জোর দাবী জানিয়েছে বিভিন্ন ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ মো. ফরিদ উদ্দীন খন্দকার জানান, হুন্ডি ব্যবসায়ীকে ধরার জন্য প্রশাসন সার্বক্ষনিক তৎপর।হুন্ডি ব্যবসার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

SHARE